পর পর চার বছর বিধানসভায় গিলোটিনে যাচ্ছে ভূমি দফতরের বাজেট। ক্ষমতায় আসার পর থেকে ওই দফতরের মন্ত্রী স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বিগত বামফ্রন্ট সরকারের পতন এবং রাজ্যে পরিবর্তন ঘটিয়ে তৃণমূলের সরকারের ক্ষমতায় আসা— এই ঘটনা প্রবাহে জমি আন্দোলনের গুরুত্ব ছিল বিরাট। কিন্তু, জমি আন্দোলনে ভর করে ক্ষমতায় আসার পরেও মমতার সরকার কেন বার বার ভূমি দফতরের বাজেট আলোচনা এড়িয়ে যাচ্ছে, তা নিয়ে বহু বার সরব হয়েছে বিরোধীরা। দেখা যাচ্ছে এ বারও একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি হতে চলেছে।
বিধানসভার দফাওয়াড়ি বাজেট অধিবেশন শেষ হচ্ছে ১৮ জুন। বিভিন্ন দফতরের বাজেট আলোচনার যে সূচি বিধানসভায় বিলি করা হয়েছে, তাতে দেখা যাচ্ছে, ভূমি ও ভূমি সংস্কার-সহ ১৭টি দফতরের ব্যয়বরাদ্দ নিয়ে এ বারের অধিবেশনে কোনও বিতর্ক হবে না। পরিভাষায় যাকে বলে ‘গিলোটিনে’ যাওয়া। ভূমি ছাড়াও মুখ্যমন্ত্রীর হাতে থাকা আরও দু’টি দফতর— পার্বত্য বিষয়ক এবং তথ্য ও সংস্কৃতি নিয়েও কোনও আলোচনা হবে না।
রাজ্যে শিল্পের জন্য জমির সংস্থানের প্রশ্নে রাজ্য সরকারের অবস্থান ঠিক কী তা নিয়ে মঙ্গলবারও শিল্প বাজেটের আলোচনায় সরব হয়েছিলেন বিরোধী বিধায়কেরা। তাঁদের প্রশ্ন, জমি নিয়ে রাজ্য সরকার তাদের অবস্থান স্পষ্ট করুক। তার পরেও ভূমি দফতরের বাজেট গিলোটিনে যাওয়ায় বিস্মিত এবং ক্ষুব্ধ বিরোধীরা। তাদের আরও প্রশ্ন, মদন তামাঙ্গ হত্যা মামলায় গোর্খা জনমুক্তি মোর্চার নেতাদের নামে সিবিআইয়ের সাম্প্রতিক চার্জশিট পেশ এবং আদালতে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হওয়ায় পাহাড়ের পরিস্থিতি আবারও ঘোরালো হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এই অবস্থায় পাহাড় নিয়ে আলোচনার সুযোগ ছিল বিধানসভায়। কিন্তু, পার্বত্য বিষয়ক দফতরের বাজেট গিলোটিনে যাওয়ায় সেই সুযোগ আর মিলবে না। বিরোধীদের প্রশ্ন, মুখ্যমন্ত্রী বিধানসভা এড়াতে চান বলেই কি বার বার তাঁর আওতাধীন বিভিন্ন দফতরের বাজেট গিলোটিনে যায়?
যদিও সরকারি মুখ্যসচেতক শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের ব্যাখ্যা, ‘‘প্রতি বারই সময়াভাবে কিছু দফতরের বাজেট গিলোটিনে যায়। এ বারও সেটাই হয়েছে। এর মধ্যে অন্য কোনও উদ্দেশ্য নেই।’’