E-Paper

অধ্যাপকদের বকেয়া বেতন দেওয়ার নির্দেশ হাই কোর্টের

মামলাকারীদের তরফে আইনজীবী একরামুল বারি জানান, নির্দেশের ফলে তাঁর মক্কেলদের বকেয়া বেতন পাওয়ার আর কোনও বাধা রইল না।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২২ জুন ২০২৬ ০৫:৪১

—প্রতীকী চিত্র।

১১ বছর ধরে আইনি লড়াইয়ের পরে পুনর্নিয়োগ পাওয়া ৩৫ জন অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপকদের কেন্দ্রীয় ষষ্ঠ পে কমিশন অনুযায়ী বকেয়া বেতন মিটিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দিল কলকাতা হাই কোর্ট। সম্প্রতি, রাজ্যের আবেদন খারিজ করে দিয়ে বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তী এবং বিচারপতি রাই চট্টোপাধ্যায়ের ডিভিশন বেঞ্চের নির্দেশ, মামলাকারী অধ্যাপকদের বকেয়া মেটানোর জন্য হাই কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেলের কাছে যে ১ কোটি ২০ লক্ষ টাকা জমা রয়েছে, সেই অর্থ তুলে নেওয়ার আবেদন করবে রাজ্য। উল্লেখ্য, এর আগে মামলাকারী অধ্যাপকদের পক্ষে রায় দিয়ে রাজ্যকে বকেয়া বেতনের হিসাব করে এই টাকা হাই কোর্টে জমা রাখার নির্দেশ দিয়েছিলেন একক বেঞ্চের বিচারপতি দেবাংশু বসাক।

মামলাকারীদের তরফে আইনজীবী একরামুল বারি জানান, এই নির্দেশের ফলে তাঁর মক্কেলদের বকেয়া বেতন পাওয়ার আর কোনও বাধা রইল না। ২০০৬ থেকে ২০০৯ সালের মধ্যে একাধিক অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকদের তাঁদের তৎকালীন পদে পাঁচ বছরে জন্য পুনর্নিয়োগ করে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়। রাজ্যের ১৯৭৯ সালের একটি বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী এই নিয়োগ করে বিশ্ববিদ্যালয়। পরবর্তীতে ২০১৩ ও ২০১৪ সালে নির্দেশিকা জারি করে রাজ্য জানায় অবসরের পর পুনর্নিয়োগ পাওয়া অধ্যাপকদের অবসরকালীন পে-স্কেলে বেতন দেওয়া হবে না। রাজ্যের সেই নির্দেশিকা চ্যালেঞ্জ করে হাই কোর্টের দ্বারস্থ হন ৩৫ জন অধ্যাপক। পুনর্নিয়োগের দিন থেকে ৬৫ বছর পর্যন্ত অধ্যাপকদের বকেয়া বেতন মিটিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দেয় একক বেঞ্চ। একক বেঞ্চের নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে ডিভিশন বেঞ্চে যায় রাজ্য। মামলাকারীদের আইনজীবী একরামুল বারির যুক্তি ছিল, ইউজিসি-র নিয়ম অনুযায়ী রিভাইসড বেতন কাঠামোর সুবিধা বর্তমান কর্মীদের পাশাপশি পুনর্নিয়োগ পাওয়া অবসরপ্রাপ্ত কর্মীরাও পাবেন। ১৯৭৯ সালের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী অবসরকালীন পদেই পুনর্নিয়োগ এবং সেই অনুযায়ী বেতন দেওয়া হয়, দাবি করেন আইনজীবী। রাজ্যের কৌঁসুলির পাল্টা দাবি ছিল, ১৯৭৯ সালের এই সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তির অপব্যবহার করে একাধিক অযোগ্যদের পদ বহাল রেখে পুনর্নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তাই তাদের বেতন দেওয়ার ক্ষেত্রে রাজ্যের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত। সব পক্ষের বক্তব্য শোনার পর রাজ্যের আবেদন খারিজ করে দিয়ে একক বেঞ্চের সিদ্ধান্তকেই বহাল রাখল ডিভিশন বেঞ্চ।

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

Professors Calcutta High Court

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy