পশ্চিমবঙ্গের ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনের (এসআইআর) শুনানির শেষ দিন শনিবারই। কিন্তু এখনও রাজ্যের অন্তত ১৫ থেকে ২০টি বিধানসভায় শুনানির কাজ বাকি, যা কখনই শনিবারের মধ্যে শেষ হওয়া সম্ভব নয়! সেই কারণে শুনানির সময়সীমা আরও বৃদ্ধি করা হোক, এমন আর্জি জানিয়ে জাতীয় নির্বাচন কমিশনকে চিঠি দিলেন এ রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ অগরওয়াল। তবে বিকেল গড়ালেও এখনও সেই সংক্রান্ত কোনও অনুমতি এসে পৌঁছোয়নি সিইও দফতরে।
শুনানির শেষ দিনেও রাজ্যের অনেক জায়গায় কাজ বাকি রয়েছে। কোন কোন বিধানসভা এলাকায় শুনানি শেষ হয়নি, নাম-সহ সেই সব বিধানসভার তালিকা জেলাশাসকদের কাছে চেয়ে পাঠিয়েছিল সিইও দফতর। শনিবার সকালে সংশ্লিষ্ট জেলাশাসকদের থেকে উত্তর আসার পরই দিল্লিতে সময় বৃদ্ধির আবেদন করেন চিঠি পাঠান মনোজ।
ওই চিঠিতে অন্তত ১৫ থেকে ২০টি বিধানসভার উল্লেখ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট ওই বিধানসভাগুলিতে শুনানির সময় বৃদ্ধি করা হোক তার আবেদন করেছেন মনোজ। তিনি বলেন, ‘‘সাত-আট জন ডিইও-র (জেলাশাসক) কাছে থেকে সময় বৃদ্ধির আবেদন পেয়েছিলাম। আমার কাছে যে আবেদনগুলি এসেছে তার নিরিখে শুনানির সময়সীমা সাত দিনের সময় বৃদ্ধির বৃদ্ধির কথা বলে আমি কমিশনকে চিঠি লিখেছি।’’
আরও পড়ুন:
গত ২৭ ডিসেম্বর থেকে পশ্চিমবঙ্গে এসআইআর-এর শুনানি শুরু হয়েছিল। প্রথম দিকে ধীরগতিতে চলছিল প্রক্রিয়া। পরে আধিকারিকের সংখ্যা এবং শুনানিকেন্দ্র বৃদ্ধি পায়। ফলে দৈনিক শুনানির পরিমাণও বাড়ে। তা ছাড়া, শুরুর দিকে নথি নিয়ে কমিশনের অনেক কড়াকড়ি ছিল। পরে তা শিথিল হয়। গত কয়েক দিনে দৈনিক পাঁচ থেকে সাত লক্ষ ভোটারের শুনানি হয়েছে এ রাজ্যে। ফলে কাজ অনেকটাই এগিয়ে গিয়েছে। তবে কিছু বিধানসভায় কাজ এখনও বাকি। শুনানির মাধ্যমে ভোটারদের তথ্য যাচাইয়ের শেষ দিন ৭ ফেব্রুয়ারি। কমিশন সূত্রে জানানো হয়েছে, নতুন করে আর কাউকে শুনানির নোটিস ধরানোর প্রয়োজন নেই। যাঁদের তলব করার ছিল, তাঁদের তলব করা হয়ে গিয়েছে। কেবল নথি যাচাই বাকি। সেই কাজ শেষ করতে আরও কিছুটা সময়ের প্রয়োজন বলে জানান মনোজ। শুনানি শেষ হওয়ার পর আরও এক সপ্তাহ লাগবে চূড়ান্ত তালিকা তৈরি করতে। সেই সব হিসাব করেই ১৪ ফেব্রুয়ারি চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের দিন ধার্য করেছিল কমিশন। তবে শুনানির সময় বা়ড়লে চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের দিনও পরিবর্তিত হতে হবে বলে জানিয়েছেন মনোজ।