E-Paper

বিজেপি নেতাকে পিটিয়ে খুন, অভিযুক্ত তৃণমূল

বৃহস্পতিবার সকালে ঘটনাস্থলে যান আইজি (প্রেসিডেন্সি রেঞ্জ) কঙ্করপ্রসাদ বারুই, হাওড়া গ্রামীণের এসপি অমিত বর্মা-সহ পুলিশকর্তারা। মোতায়েন করা হয় পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১৯ জুন ২০২৬ ০৯:৫২
প্রশান্ত দে-র (ইনসেটে) পরিবার।

প্রশান্ত দে-র (ইনসেটে) পরিবার। নিজস্ব চিত্র ।

বিজেপির বুথ সভাপতিকে বাঁশ, রড দিয়ে পিটিয়ে খুনের অভিযোগ উঠল তৃণমূলের এক উপপ্রধান ও তাঁর অনুগামীদের বিরুদ্ধে। বুধবার গভীর রাতে হাওড়ার বাগনানের আন্টিলা পঞ্চায়েতের পাইকপাড়ি-খানপাড়ায় ওই হামলায় নিহত প্রশান্ত দে-র (৪৫) বাড়ি বাঁটুল গ্রামে। বিজেপির দাবি, ঘটনায় আহত হয়ে তাঁদের তিন দলীয় কর্মী কলকাতায় বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। পুলিশ জানিয়েছে, ৪২ জনের বিরুদ্ধে বাগনান থানায় অভিযোগ দায়ের হয়েছে। আট জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বাকিদেরখোঁজ চলছে।

বৃহস্পতিবার সকালে ঘটনাস্থলে যান আইজি (প্রেসিডেন্সি রেঞ্জ) কঙ্করপ্রসাদ বারুই, হাওড়া গ্রামীণের এসপি অমিত বর্মা-সহ পুলিশকর্তারা। মোতায়েন করা হয় পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী। ঘটনার প্রতিবাদে বাঁটুলের কলতলায় কিছুক্ষণের জন্য বাগনান-শ্যামপুর রাস্তা অবরোধ করে বিজেপি।

স্থানীয় সূত্রের খবর, গত ৪ মে বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের পরে, উপপ্রধান মফিজুর ইসলাম খান এলাকাছাড়া হন। তিনি ফিরেছেন বলে খবর ছড়াতেই বুধবার সন্ধ্যায় এক দল বিজেপি কর্মী পাইকপাড়ি খানপাড়ায় তাঁর বাড়ি ঘিরে বিক্ষোভ দেখান সন্ত্রাস ও তোলাবাজির অভিযোগে। অভিযোগ, তাঁর স্ত্রীকে হুমকি দেওয়া হয়। বাড়িতে ঢিল ছোড়া হয়। পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী গিয়ে গোলমাল থামায়। বিক্ষোভকারীদের একাংশ রাত ১১টা নাগাদ ফের মফিজুলের বাড়ির সামনে আসেন মোটরবাইকে চেপে। তাঁদের মধ্যেই ছিলেন বাগনানের ১৯৭ নম্বর বুথের বিজেপি সভাপতি প্রশান্ত। অভিযোগ, তাঁদের দেখেই বাঁশ-রড নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ে মফিজুরের অনুগামী-সহ স্থানীয় কিছু লোক। পুলিশ এসে তাঁদের বাগনান গ্রামীণ হাসপাতালে পাঠায়। প্রশান্তকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসক।

ঘটনাস্থল থেকে প্রশান্তের বাড়ি প্রায় পাঁচ কিলোমিটার দূরে। তাঁর ছোট মেয়ে রিম্পা জানান, বুধবার সন্ধ্যায় মোটরবাইক নিয়ে প্রশান্ত বাড়ি থেকে বেরোন। খেতে আসার জন্য রাত ১০টা থেকে একাধিক বার ফোন করা হলেও, ধরেননি। পরে শ্যালিকার ছেলে প্রশান্তের মোবাইলে ফোন করলে এক যুবক ধরে ঘটনার কথা জানান। রিম্পা বলেন, ‘‘দৌড়ে গিয়ে দেখি, যা সর্বনাশ হওয়ার হয়ে গিয়েছে!’’

এ দিন গিয়ে দেখা যায়, এলাকা থমথমে। গ্রাম কার্যত পুরুষশূন্য। মফিজুরের বাড়িতে তালা। সামনে দু’-এক জন মহিলা থাকলেও মুখ খোলেননি।

বিজেপির হাওড়া গ্রামীণ জেলা সভাপতি দেবাশিস সামন্ত অবশ্য বুধবার রাতের বিক্ষোভের কথা মানতে চাননি। তাঁর দাবি, ‘‘প্রশান্তেরা একটি অনুষ্ঠান-বাড়ি থেকে নিমন্ত্রণ খেয়ে ফিরছিলেন। সে খবর জানতে পেরে মফিজুর এবং তার অনুগামী তৃণমূলের দুষ্কৃতীরা আক্রমণ করে। মফিজুর-সহ সব অভিযুক্তকে গ্রেফতার করতে হবে।’’ তৃণমূলের তরফে কেউ মন্তব্য করতে চাননি।

পুলিশ জানিয়েছে, হামলার সময় মফিজুর বাড়িতে ছিলেন কি না, ঘটনার সঙ্গে তিনি যুক্ত কি না, দেখা হচ্ছে।

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

Bagnan BJP

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy