E-Paper

পুরনো পাঠ্যক্রম ও চতুর্থ সিমেস্টারের এক বিষয় একই দিনে হওয়ার দাবি

এ বার উচ্চ মাধ্যমিকে একই সঙ্গে চতুর্থ ও তৃতীয় সিমেস্টারের সাপ্লিমেন্টারি এবং পুরনো পাঠ্যক্রমের পরীক্ষা হচ্ছে। একই দিনে সবক’টি পরীক্ষা থাকছে। এর মধ্যে চতুর্থ সিমেস্টার এবং পুরনো পাঠ্যক্রমের পরীক্ষা একই সময়ে একই দিনে শুরু হচ্ছে।

আর্যভট্ট খান

শেষ আপডেট: ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ০৭:১১

—প্রতীকী চিত্র।

উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার চতুর্থ সিমেস্টার এবং পুরনো পাঠ্যক্রমে রুটিন আলাদা আলাদা উল্লেখ করা আছে। তবু কিছু পুরনো পাঠ্যক্রমের পরীক্ষার্থী ভুল করে চতুর্থ সিমেস্টারের পরীক্ষার রুটিন অনুযায়ী পরীক্ষা দিতে চলে আসছে। রুটিন দেখার বিভ্রাটের জেরে পুরনো পরীক্ষার্থী নিজের বিষয়ের পরীক্ষা দিতে পারল না, এমন ঘটনাও ঘটেছে। এই অসুবিধা দূর করতে আগামী বার থেকে উচ্চ মাধ্যমিকে পুরনো পাঠ্যক্রম ও চতুর্থ সিমেস্টারে একই দিনে একই বিষয়ের পরীক্ষা রাখার দাবি জানালেন শিক্ষকদের একাংশ।

এ বার উচ্চ মাধ্যমিকে একই সঙ্গে চতুর্থ ও তৃতীয় সিমেস্টারের সাপ্লিমেন্টারি এবং পুরনো পাঠ্যক্রমের পরীক্ষা হচ্ছে। একই দিনে সবক’টি পরীক্ষা থাকছে। এর মধ্যে চতুর্থ সিমেস্টার এবং পুরনো পাঠ্যক্রমের পরীক্ষা একই সময়ে একই দিনে শুরু হচ্ছে। তবে দিন এক হলেও বিষয় কিন্তু আলাদা। শিক্ষকদের একাংশ জানাচ্ছেন, পুরনো পদ্ধতিতে পরীক্ষা দিতে আসা পরীক্ষার্থীদের কাছে তাঁদের নির্দিষ্ট রুটিন থাকা সত্ত্বেও কেউ কেউ চতুর্থ সিমেস্টারের রুটিন অনুযায়ী পরীক্ষা দিতে চলে এসেছে।

যেমন উত্তরপাড়া গভর্নমেন্ট স্কুলের এক শিক্ষক বলেন, ‘‘পুরনো সিলেবাসে ইতিহাস পরীক্ষা ১৯ ফেব্রুয়ারি এবং চতুর্থ সেমিস্টার ইতিহাস পরীক্ষার দিন ২১ ফেব্রুয়ারি রয়েছে। ইতিহাস বিষয়ের পুরনো উচ্চ মাধ্যমিকের এক ছাত্রী তার নিজের রুটিন অনুযায়ী ১৯ ফেব্রুয়ারির পরীক্ষায় হাজির না হয়ে ২১ ফেব্রুয়ারি পরীক্ষা কেন্দ্রে উপস্থিত হয়। এ দিকে তার ইতিহাস পরীক্ষা ১৯ ফেব্রুয়ারি হয়ে গিয়েছে। সে কথা শুনে পরীক্ষার হলেই কান্নাকাটি শুরু করে। কিন্তু আমাদের কিছু করার ছিল না।’’

শিক্ষকদের মতে এই ভুলটা সম্পূর্ণ পরীক্ষার্থীর। কিন্তু একই দিনে যদি চতুর্থ সিমেস্টার এবং পুরনো পদ্ধতিতে পরীক্ষার বিষয় একই রাখা হয়, তা হলে পরীক্ষার্থীদের এই ভুলটা হওয়ার সুযোগ থাকে না। ‘পশ্চিমবঙ্গ সরকারি বিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি’র সাধারণ সম্পাদক সৌগত বসু জানান, যারা পুরনো পাঠ্যক্রমে পরীক্ষা দিচ্ছে, তারা গত এক বছর ধরে স্কুলে যাচ্ছে না। বাড়িতে পড়াশোনা করছে। যেখানে সে টিউশন পড়ছে, সেখানেও প্রায় সবাই চতুর্থ সিমেস্টারের পড়ুয়া। ফলে সেখানেও পরীক্ষার রুটিন নিয়ে আলোচনা হলে চতুর্থ সিমেস্টারের কথাই আলোচনা হচ্ছে। তারা হয়তো নিজের রুটিনটা খুলেও দেখেনি। অথচ নিজের রুটিন দেখাটা পরীক্ষার্থীর অবশ্যই উচিত। তাঁর কথায়, ‘‘তবু বলব চতুর্থ সিমেস্টার এবং পুরনো পদ্ধতিতে পরীক্ষার রুটিনে যদি একই দিনে এক বিষয় থাকে, তা হলে এই ভুলটাও হবে না।’’ সেই সঙ্গে সৌগতের মতে, পুরনো পদ্ধতিতে পরীক্ষা দেওয়া পরীক্ষার্থীরা গত এক বছর ধরে স্কুলে না যাওয়ায় নতুন পদ্ধতির সিমেস্টার সম্পর্কে পুরো অবগত না-ও থাকতে পারে। তাই এই ভুল হতে পারে। শিক্ষকেরা জানাচ্ছেন, আগামী বছরও কিছু পরীক্ষার্থী পুরনো পদ্ধতিতে পরীক্ষা দেবে। তাদের কথা ভেবে চতুর্থ সিমেস্টার এবং পুরনো পদ্ধতিতে পরীক্ষার রুটিন এক করা হোক। উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা সংসদ জানিয়েছে, বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

Higher Secondary Exam Students

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy