Advertisement
E-Paper

এই সংকটে কি রাজনীতি করা উচিত? প্রশ্ন মমতার

পর্যবেক্ষকদের ধারণা, মমতা প্রধানমন্ত্রীকে যা বলেছেন রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক কোনও দিক থেকেই তার সঙ্গে সহমত পোষণ করা হচ্ছে না।

নিজস্ব সংবাদদাতা 

শেষ আপডেট: ১২ এপ্রিল ২০২০ ০৪:১০
ছবি: পিটিআই।

ছবি: পিটিআই।

করোনা নিয়ে লড়াইয়ের মধ্যেও রাজনৈতিক উদ্দেশ্য পূরণের চেষ্টা করা কি উচিত?

কেন্দ্রের একাধিক মন্ত্রী ও রাজ্যপালের ভূমিকায় উষ্মা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে বৈঠকে শনিবার এই প্রশ্ন করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মুখ্যমন্ত্রীদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকে মোদী অবশ্য এ ব্যাপারে কিছুই বলেননি।

তবে বৈঠকের অব্যবহিত পরে বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ নেতৃত্বে দলের এক প্রতিনিধি দল রাজ্যপাল জগদীপ ধনখড়ের সঙ্গে দেখা করে। করোনা মোকাবিলায় রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে তথ্য গোপন সহ-একাধিক অভিযোগও করেছে দলটি। পরে প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে সবিস্তার সেই সব অভিযোগের কথা জানিয়েছেন রাজ্যপাল। প্রসঙ্গত, শুক্রবারই লকডাউন নিয়ে শিথিলতায় উদ্বেগ জানিয়ে রাজ্যকে সতর্ক করে চিঠি পাঠিয়েছে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক। রাজ্যের মুখ্যসচিবকে পাঠানো চিঠিতে নির্দিষ্ট কয়েকটি ঘটনার উল্লেখ করে রিপোর্টও চাওয়া হয়েছে। ওই চিঠিতেই বিনামূল্যের রেশন বিলিতে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। তৃণমূলের মহাসচিব পার্থ চট্টোপাধ্যায় অবশ্য আগেই জানিয়েছিলেন, রেশন বিলিতে রাজনৈতিক কর্মীদের কোনও ভূমিকা নেই। তা ডিলারের মাধ্যমেই হবে।

এ দিকে, গত ৫ এপ্রিল বেলপাহাড়ি হাসপাতালে আলো নিভিয়ে প্রদীপ ও মোমবাতি জ্বালানো নিয়ে আগেই শো-কজ করা হয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে। এ দিন টুইটারে রাজ্য স্বাস্থ্য দফতরের সেই সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেন ধনখড়।

পর্যবেক্ষকদের ধারণা, মমতা প্রধানমন্ত্রীকে যা বলেছেন রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক কোনও দিক থেকেই তার সঙ্গে সহমত পোষণ করা হচ্ছে না। এই অবস্থায় এ দিন সকালে করোনা পরিস্থিতি পর্যালোচনা করতে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ভিডিয়ো কনফারেন্সে প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘‘করোনা প্রতিরোধে যুদ্ধের মধ্যে এমন কিছু মতামত ও তথ্য প্রচার করা হচ্ছে যা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।’’ আলোচনায় এ কথা উল্লেখ করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী কি এই ধরনের কাজ সমর্থন করেন? যদি তা না করেন, তা হলে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তিনি নিজেই যেন রাজ্যপাল-সহ কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বা সংশ্লিষ্ট নেতা-মন্ত্রীদের এই কাজ থেকে বিরত করেন।

বাংলার মুখ্যমন্ত্রীর এই বক্তব্য সমর্থন করেছেন কংগ্রেস শাসিত পুদুচেরির মুখ্যমন্ত্রী ভি নায়ারণস্বামী। তিনি বলেন, ‘‘এই সংকটের মধ্যে কয়েক জন রাজ্যপাল ও উপরাজ্যপাল রাজনীতির খেলা খেলছেন বলে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীকে জানিয়েছেন। করোনা মোকাবিলার সময় তাঁদের ভূমিকা বিরক্তিকর বলেও উল্লেখ করেছেন মমতা।’’ নারায়ণস্বামী বলেন, ‘‘পুদুচেরির উপরাজ্যপাল কিরণ বেদীও আমাদের কাজে নাক গলান। সমস্যা তৈরি করেন।’’ এই ধরনের রাজ্যপাল ও উপরাজ্যপালদের সংযত করার জন্য মমতা প্রধানমন্ত্রীকে অনুরোধ করেছেন বলে জানান তিনি।

করোনা সম্পর্কিত তথ্য নিয়ে বারবার রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে আঙুল তুলেছেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রীরা। রাজ্য থেকে নির্বাচিত বিজেপির মন্ত্রী ও জনপ্রতিনিধিরা সরাসরি তথ্য গোপনের অভিযোগও করেছেন নবান্নের বিরুদ্ধে। এ দিনও করোনা মোকাবিলায় রাজ্য সরকারের ভূমিকা নিয়ে রাজ্যপালের এক গুচ্ছ অভিযোগ জানিয়েছেন দিলীপবাবু সহ দলের কেন্দ্রীয় সম্পাদক রাহুল সিংহ, মুকুল রায়েরা। পরে দিলীপবাবু বলেন, ‘‘আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা, কোথায় কত জন কোয়রান্টিনে আছেন, কত জনের পরীক্ষা হয়েছে, কতজন করোনা পজ়িটিভ, এ সব ব্যাপারে ধোঁয়াশা তৈরি করা হয়েছে। অন্য রাজ্য থেকে যাঁরা এসেছেন, তাঁরা কোথায় আছেন, নিজামুদ্দিন ফেরত কেউ কেউ হাসপাতাল থেকে পালিয়ে যাচ্ছেন, সরকার জানে না।’’

বিজেপির এই অভিযোগ উড়িয়ে তৃণমূলের এক শীর্ষনেতা বলেন, ‘‘সংকটের সময় কেন্দ্র-রাজ্য যখন একযোগে পরিস্থিতির মোকাবিলা করতে চাইছে, তখন রাজ্যপাল ও কিছু নেতার ভূমিকা শুধু নেতিবাচক নয় দুর্ভাগ্যজনকও। রাজভবন যে ধরনের প্রত্যক্ষ উস্কানি দিচ্ছে, তাতে রাজ্যপাল পদের গরিমা আদৌ থাকে কি?’’

(অভূতপূর্ব পরিস্থিতি। স্বভাবতই আপনি নানান ঘটনার সাক্ষী। শেয়ার করুন আমাদের। ঘটনার বিবরণ, ছবি, ভিডিয়ো আমাদের ইমেলে পাঠিয়ে দিন, feedback@abpdigital.in ঠিকানায়। কোন এলাকা, কোন দিন, কোন সময়ের ঘটনা তা জানাতে ভুলবেন না। আপনার নাম এবং ফোন নম্বর অবশ্যই দেবেন। আপনার পাঠানো খবরটি বিবেচিত হলে তা প্রকাশ করা হবে আমাদের ওয়েবসাইটে।)

Mamata Banerjee Covid-19 Narendra Modi
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy