হেলিকপ্টারের পাখার একদম কাছে উড়ে এল প্লাস্টিক! পবনহংসের সেই হেলিকপ্টারে তখন সওয়ার কেন্দ্রীয় মন্ত্রী নিতিন গডকড়ী।
বুধবার সকালে মন্ত্রী হলদিয়ার হেলিপ্যাডে নামার সময় লাল কার্পেটের তলা থেকে উড়ে আসা সেই প্লাস্টিক অবশ্য ছুঁতে পারেনি হেলিকপ্টারের পাখা। কোনও বিপত্তি না হলেও সিদ্ধান্ত হয়েছে আপাতত ওই হেলিকপ্টার উড়তে পারবে না। কিন্তু, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বলে কথা! তাই এ দিনের ঘটনা নিয়ে বিশদ তদন্তে নেমেছে ভারতের আকাশে বিমান ও হেলিকপ্টার পরিবহণের নিয়ন্ত্রক ডিরেক্টরেট জেনারেল অফ সিভিল অ্যাভিয়েশন (ডিজিসিএ)। আজ, বৃহস্পতিবার কলকাতায় তাদের অফিসে পবনহংসের অফিসার এবং হেলিকপ্টারের পাইলট ক্যাপ্টেন মলহোত্রকে ডেকে পাঠানো হয়েছে। জানা গিয়েছে, তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত বসিয়ে রাখা হবে ওই কপ্টারকে।
পবনহংস সূত্রের খবর, এ ভাবে হেলিপ্যাডের কাছে কার্পেট রেখে ভবিষ্যতে যাতে বিপদ আর না বাড়ে, তাই চিঠি দিয়ে সতর্ক করা হবে রাজ্যকে। এ দিন হেলিকপ্টার মাটির কাছাকাছি আসতে প্রচণ্ড হাওয়া বইতে শুরু করে। হাত দিয়ে চেপে ধরেও উল্টে যায় কার্পেট। আর তার তলায় রাখা প্লাস্টিক হাওয়ায় উড়ে টুকরো হয়ে ছড়িয়ে পড়ে। হেলিকপ্টারের কাছেও একটি টুকরো উড়ে যায়। ডিজিসিএ-কে রিপোর্ট দিয়ে পাইলট অবশ্য জানান, সমস্যা হয়নি।
হলদিয়ায় একটি কারখানায় কেন্দ্রীয় জাহাজ মন্ত্রী নিতিন গডকরী। ছবি: আরিফ ইকবাল খান।
সূত্রের খবর, ডিজিসিএ এই রিপোর্টে সন্তুষ্ট নয়। মনে করা হচ্ছে, সাধারণত হলদিয়ায় যে দিক থেকে হেলিকপ্টার নামে, এ দিন তার উল্টো দিক দিয়ে নেমেছে। প্রত্যক্ষদর্শীরাও জানাচ্ছেন, উল্টো দিক থেকে হেলিকপ্টার নামার ফলেই কার্পেট উড়তে শুরু করে। তবে, কেন লাল কার্পেট পাতা হয়েছিল, সে নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। হেলিপ্যাডের কাছাকাছি কার্পেট পাতা যাবে কিনা, তা নিয়ে বিমান পরিবহণের নির্দিষ্ট নিয়ম নেই। তবু নিরাপত্তার খাতিরে কার্পেট রাখার কথা নয় বলেই মনে করছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা। নিয়ম অনুযায়ী এই ধরনের ঘটনায় দায়ী করা হয় যার হেলিকপ্টার, তাকে। অর্থাৎ, এ ক্ষেত্রে পবনহংসকে।
পবনহংস সূত্রের খবর, পাইলট-সহ হেলিকপ্টারটি তারা শুধু ভাড়া দিয়েছে রাজ্যকে। রাজ্যের সঙ্গে তাদের চুক্তি অনুযায়ী, হেলিকপ্টার যেখানে-যেখানে যাবে সেখানে নিরাপত্তার বিষয়টি রাজ্যই দেখবে। পূর্ব মেদিনীপুরের এসপি অলোক রাজোরিয়া জানান, তাঁদের যা করণীয় তাঁরা করেছেন। রাজ্য সরকারের এক অফিসারের কথায়, ‘‘অনুষ্ঠান কলকাতা বন্দর কর্তৃপক্ষের। কার্পেট পাতার সিদ্ধান্তও তাদের।’’ বন্দর কর্তৃপক্ষ সূত্রের খবর, আগেও হলদিয়ায় ভিআইপি-কে নিয়ে এ ভাবে হেলিকপ্টার নেমেছে। অসুবিধা হয়নি। এ বার উল্টো দিক থেকে কপ্টার নামায় বিপত্তি।
এ দিন গডকড়ীকে নামিয়ে ওই হেলিকপ্টার ফিরে যায় বেহালায়। পরে আবার উড়ে গিয়ে তাঁকে আনার কথা ছিল। কিন্তু, দুপুরে কলকাতার আবহাওয়া খারাপ হওয়ায় ওড়ার অনুমতি পায়নি কপ্টারটি। গডকড়ী সড়কপথে কলকাতা ফেরেন।