Advertisement
E-Paper

ডেঙ্গি-যুদ্ধে ঢিলেমি, আগুন মমতা

একই লড়াইয়ের পদাতিক সৈনিক তাঁরা। কিন্তু পারিশ্রমিকে যে বিস্তর ফারাক! এক দল কর্মী মজুরি পাচ্ছেন দিনে ৩৫০ টাকা। অন্য এক দলের ভাগ্যে জুটছে দৈনিক মাত্র ৭৫ টাকা। মজুরির এই বৈষম্য নিয়ে কর্মীদের ক্ষোভ তো আছেই।

শুভাশিস ঘটক

শেষ আপডেট: ০৩ অগস্ট ২০১৬ ০৫:২২

একই লড়াইয়ের পদাতিক সৈনিক তাঁরা। কিন্তু পারিশ্রমিকে যে বিস্তর ফারাক! এক দল কর্মী মজুরি পাচ্ছেন দিনে ৩৫০ টাকা। অন্য এক দলের ভাগ্যে জুটছে দৈনিক মাত্র ৭৫ টাকা। মজুরির এই বৈষম্য নিয়ে কর্মীদের ক্ষোভ তো আছেই। সেই বৈষম্য আর কর্মী-ক্ষোভের জেরে মার খাচ্ছে ডেঙ্গি, ম্যালেরিয়ার মতো মশাবাহিত রোগ প্রতিরোধের অভিযানও।

সোমবার ডেঙ্গি ও ম্যালেরিয়া প্রতিরোধে স্বাস্থ্য ভবন যে-বৈঠক ডেকেছিল, সেখানে প্রসঙ্গটি তুলে এই সমস্যার বিহিত চেয়েছেন বিভিন্ন জেলার স্বাস্থ্য আধিকারিক এবং পুর চেয়ারম্যানদের অনেকেই। বৈঠকে উপস্থিত স্বাস্থ্য দফতরের এক আধিকারিক বলেন, ম্যালেরিয়া-ডেঙ্গি প্রতিরোধ মানে মশা মারতে কামান দাগা নয়। মূল কাজ তিনটি। প্রথমত, নির্দিষ্ট এলাকার প্রতিটি গৃহস্থ বাড়ি ও আবাসনে যাওয়া এবং সচেতনতার প্রচার চালানো। দ্বিতীয়ত, প্রতিটি বাড়ি গিয়ে সেখানে কোথাও জমা জল রয়েছে কি না দেখা। তৃতীয়ত, জমা জল থাকলেই তা ফেলে দেওয়া।

স্বাস্থ্যকর্তার মন্তব্য, এই তিনটি কাজ ঠিকমতো করা গেলেই ডেঙ্গি-ম্যালেরিয়া প্রতিরোধের কাজ ৯০ শতাংশ হয়ে যায়। এ ক্ষেত্রে বড় কোনও বাহিনীর দরকার নেই। দরকার নেই কোনও যন্ত্রেরও। প্রয়োজন শুধু দৈনিক পারিশ্রমিকের ভিত্তিতে নজরদার বাহিনীতে কিছু লোককে নিয়োগ করা। ওই বাহিনীর অস্ত্র বলতে একটি মাত্র ব্যাটারিচালিত টর্চ। অন্ধকারে পরিষ্কার জলে লার্ভা রয়েছে কি না, তা দেখার জন্য। গোল বেধেছে ওই নজরদার বাহিনীতে লোক
পাওয়া নিয়েই।

হাজার হাজার মানুষ কাজের জন্য মাথা খুঁড়ছে। এই অবস্থায় ওই কাজে লোক জোটাতে সমস্যা কীসের?

জেলা স্বাস্থ্য আধিকারিক ও পুর চেয়ারম্যানদের অনেকেই সোমবারের বৈঠকে বলেছেন, রাজ্য সরকার ডেঙ্গি প্রতিরোধে সচেতনতা ও প্রচার অভিযানের জন্য অস্থায়ী শ্রমিক নিয়োগ করে। তাঁদের দৈনিক ভাতা বা পারিশ্রমিক ৭৫ টাকা। অন্য দিকে, পুর এলাকাগুলিতে মশা মারার তেল ছড়ানোর কাজ যাঁরা করেন, তাঁদের মজুরি দিনে ৩৫০ টাকা।

মজুরিতে দু’রকম ব্যবস্থা কেন?

স্বাস্থ্যকর্তারা জানাচ্ছেন, নিয়োগ-পদ্ধতি আলাদা বলেই মজুরি দু’রকম হয়ে যাচ্ছে। পুর এলাকায় মশা মারার তেল ছড়ানোর কাজ করানো হয় ১০০ দিনের প্রকল্পের মাধ্যমে। মজুরি ৩৫০ টাকা। আর বাড়ি বাড়ি গিয়ে রোগ-সচেতনতা বৃদ্ধি এবং মশার লার্ভা খোঁজার কাজ যাঁরা করেন, রোজ ৭৫ টাকা মজুরিতে তাঁদের নিয়োগ করা হয় স্টেট আরবান ডেভেলপমেন্ট এজেন্সি (সুডা) বা রাজ্য নগর উন্নয়ন সংস্থার মাধ্যমে। মাসে পাঁচ দিন কাজ পান ওই কর্মীরা।

সোমবারের বৈঠকে ওই কর্মীদের দৈনিক ভাতা বাড়ানো এবং মাসে কাজের সুযোগ পাঁচ দিন থেকে বাড়িয়ে অন্তত ১০ দিন করার আর্জি জানান জেলা স্বাস্থ্য আধিকারিক ও পুরকর্তারা। এক স্বাস্থ্যকর্তার কথায়, ‘‘আমরা ওই আর্জি নথিভুক্ত করেছি। বিষয়টি যে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, সেটা আমরা নবান্নকে জানাব।’’

ওই স্বাস্থ্যকর্তার মন্তব্য, রাজ্যের সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে সরকারি-বেসরকারি স্কুল, কলেজ, বাজার, অফিসবাড়িতেও নজরদারির নির্দেশ জারি করা হয়েছে। নজর রাখার সেই কাজটা সুডা-য় নিযুক্ত কর্মীদের দিয়েই করাতে হবে। সেই জন্য ওই কর্মীদের উপযুক্ত পারিশ্রমিকের ব্যাপারে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে হবে নবান্নকে।’’

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy