আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের নির্ঘণ্ট ঘোষণা হয়নি এখনও। তবে তার আগেই রাজ্যের আধিকারিকদের বদলি সংক্রান্ত নির্দেশিকা জারি করল নির্বাচন কমিশন। কাদের বদলি করা হবে, কাদের নয়— তা বিস্তারিত জানিয়ে ভোটমুখী রাজ্যগুলির মুখ্যসচিবদের চিঠি দেওয়া হল। শুধু তা-ই নয়, রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকদেরও নির্দেশিকার প্রতিলিপি পাঠানো হয়েছে।
সামনেই পশ্চিমবঙ্গ ছাড়া অসম, তামিলনাড়ু, কেরল এবং পুদুচেরিতে বিধানসভা নির্বাচন রয়েছে। সেই নির্বাচনের দিন ঘোষণার আগেই সংশ্লিষ্ট রাজ্যের আধিকারিকদের বদলি সংক্রান্ত নির্দেশিকা জারি করল কমিশন। নির্দেশিকায় জানানো হয়েছে, নির্বাচনের সঙ্গে যুক্ত কোনও আধিকারিক যদি গত চার বছরের মধ্যে তিন বছর নিজের জেলায় কর্মরত থাকেন, তবে তাঁকে বদলি করতে হবে। যদি এই সময়ের মধ্যে পদন্নোতিও হয়, তবে সেটাও ধরা হবে সময়কালের হিসাবে।
বদলির ক্ষেত্রে কী কী বিষয় মাথায় রাখতে হবে, তা-ও স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে কমিশনের নির্দেশিকায়। কোন কোন আধিকারিকদের ক্ষেত্রে এই নিয়ম প্রযোজ্য হবে? কমিশন জানিয়েছে, বদলি করতে হবে ডিইও বা জেলাশাসক, আরও, এআরও, ইআরও, এইআরও, অতিরিক্ত জেলাশাসক, মহকুমাশাসক, ডেপুটি বা যুগ্ম কালেক্টর এবং বিডিও। আর পুলিশের ক্ষেত্রে এডিজি, আইজি, ডিআইজি, এসএসপি, পুলিশ সুপার এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপারকে।
নির্দেশিকায় আরও স্পষ্ট করে জানানো হয়েছে, গত বিধানসভা নির্বাচন বা উপনির্বাচনে জেলাশাসক, রিটার্নিং অফিসার, পুলিশ ইনস্পেক্টর পদে কর্মরত আধিকারিকেরা যে জেলায় দায়িত্বে ছিলেন, এ বার তাঁদের সেখানে বদলি করা যাবে না। তবে সব আধিকারিকদের জন্য এই বদলির নির্দেশ নয়। সদর দফতরে যাঁরা কাজ করেন, তাঁদের ক্ষেত্রে এই নিয়ম প্রযোজ্য নয়। নবান্নের কর্মরতদের ক্ষেত্রেও একই বিষয়। এ ছাড়াও, চলতি বছরের মে-জুন মাসের মধ্যে যাঁরা অবসর নেবেন তাঁদের বদলির নির্দেশ দেওয়া হয়নি। তবে এ-ও জানানো হয়েছে, তাঁদের নির্বাচনের কোনও দায়িত্ব দেওয়া যাবে না।
কমিশন আরও জানিয়েছে, যে সব সরকারি আধিকারিকের বিরুদ্ধে আগে নির্বাচন কমিশন কোনও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেছিল, কিংবা আগে শাস্তি দেওয়া হয়েছে, অথবা যাঁদের বিরুদ্ধে আগের কোনও নির্বাচন বা নির্বাচন-সংক্রান্ত কাজে গাফিলতির অভিযোগ উঠেছিল, তাঁদের কাউকেই আবার কোনও নির্বাচনের কাজে লাগানো যাবে না। যদি কোনও অফিসারেকে আগের কোনও নির্বাচনে শুধু বদলি করা হয়েছিল, কিন্তু তাঁর বিরুদ্ধে কোনও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ ছিল না, তা হলে শুধু বদলি হওয়ার কারণেই তাঁকে নির্বাচনী দায়িত্ব থেকে বাদ দেওয়া যাবে না। তবে নির্বাচন কমিশন যদি আলাদা করে নির্দেশ দেয়, সেটা আলাদা বিষয়।
আরও পড়ুন:
ভোটঘোষণার পর আধিকারিকদের একটি মুচলেকা জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে কমিশন। সেই মুচলেকায় জানাতে হবে, তাঁদের কোনও নিকটাত্মীয় ভোটে প্রার্থী নন। এ ছাড়াও সেই মুচলেকাতেই জানাতে হবে, তাঁদের বিরুদ্ধে কোনও ফৌজদারি মামলা নেই। তার অন্যথা হলে নির্বাচনী দায়িত্ব থেকে সরানো হবে তাঁদের। উল্লেখ্য, গত ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে সোনারপুর দক্ষিণের প্রার্থী হিসাবে লাভলি মৈত্রের নাম ঘোষণা হওয়ার পরেই তাঁর স্বামী সৌম্য রায়কে সরিয়ে দিয়েছিল কমিশন। ২০১৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের আগেও তাঁকে সরানো হয়েছিল।
কমিশন জানিয়েছে, আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে সব বদলি করতে হবে সংশ্লিষ্ট রাজ্যের সরকারকে। ওই দিনই কমিশনকে রিপোর্ট দিতে হবে এই বদলি সংক্রান্ত বিষয়টি জানিয়ে। নির্দেশিকায় আরও জানিয়েছে, পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভার মেয়াদ শেষ হচ্ছে ৭ মে।