বামেদের সঙ্গে সমঝোতা ছেড়ে বিধানসভা ভোটে একা লড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কংগ্রেস। এ বার কংগ্রেসকে যখন আসন ছাড়তে হচ্ছে না, সে ক্ষেত্রে আগের তুলনায় বাড়তি আসন বামফ্রন্টের মধ্যে দাবি করছে বাম শরিকেরা। এই পরিস্থিতিতে দল ছেড়ে কংগ্রেসে যাওয়া আলি ইমরান রাম্জ (ভিক্টর)-সহ পুরনো নেতা-কর্মীদের ফিরে আসার আহ্বান জানাল ফ ব। সূত্রের খবর, এমন উদ্যোগে সিপিএমেরও সায় রয়েছে।
উত্তর দিনাজপুরের গোয়ালপোখর এবং চাকুলিয়া থেকে ভিক্টর তিন বার বিধায়ক হয়েছিলেন ফ ব-য় থাকাকালীনই। পরে ফ ব নেতৃত্বের সঙ্গে মনোমালিন্যের জেরে ভিক্টর তাঁর সমর্থকদের নিয়ে কংগ্রেসে যোগ দিয়েছেন। তাঁর সঙ্গে দল পরিবর্তন করেছেন ফ ব-র যুব সংগঠন যুব লিগের নেতৃত্বের বড় অংশ। একই পথে গিয়েছিলেন ভিক্টরের কাকা, প্রাক্তন মন্ত্রী হাফিজ আলম সৈরানিও। তিনি ইতিমধ্যে প্রয়াত। ফ ব-র রাজ্য সম্পাদক নরেন চট্টোপাধ্যায় বুধবার বিবৃতি দিয়ে বলেছেন, ‘ফরওয়ার্ড ব্লকের বাংলা কমিটির পক্ষ থেকে ভিক্টর-সহ রাজ্যের সমস্ত নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর অনুগামী এবং ফ ব-র সঙ্গে যুক্ত ছিলেন, এমন সর্বস্তরের কর্মী-সংগঠক, তৎকালীন সময়ে আমাদের নিজেদের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝির কারণে যাঁরা দল ছেড়েছিলেন, তাঁদের সকলকে সসম্মানে দলে ফেরার আহ্বান জানাচ্ছি’। আগামী দিনে সর্বাত্মক রাজনৈতিক আন্দোলন গড়ে তোলার জন্য পুরনো নেতা-কর্মীদের সহযোগিতা চেয়েছেন নরেন। একটি সূত্রের বক্তব্য, বিবৃতি দেওয়ার আগে পুরনো নেতা-কর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ এবং পুরনো ‘তিক্ততা’ অতিক্রম করার অনুরোধও করেছেন ফ ব নেতৃত্ব।
ভিক্টর অবশ্য এখনও মুখ খোলেননি। তবে কংগ্রেসে ভিক্টর ছিলেন বামেদের সঙ্গে সমঝোতার পক্ষে। একা চলার সিদ্ধান্তের পরে কংগ্রেসের অন্দরে ‘জোটপন্থী’দের এখন ক্রমাগত নিশানা করা হচ্ছে। সেই সময়ে ফ ব-র আহ্বান ইঙ্গিতপূর্ণ মনে করা হচ্ছে। বাম শরিক দলে পরবর্তী প্রজন্মের নেতৃত্বের আকাল রয়েছে। কেবল একটি ভোটের বাইরে সেই বৃহত্তর পরিসরের কথাও বাম শিবিরে চর্চায় আসছে।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)