ভূতুড়ে ভোটারের পর এ বার ভূতুড়ে অভিযোগকারী। মধ্য হাওড়া বিধানসভা কেন্দ্রে প্রায় দু’হাজার মানুষের কাছে আসে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনের (এসআইআর) শুনানির নোটিস। কারণ হিসাবে তাঁদের উল্লেখ করা হয়েছে ‘নন ইন্ডিয়ান সিটিজেন’। অর্থাৎ, ভারতীয় নাগরিক হয়েও তাঁরা ভারতীয় নয় বলে দাগিয়ে দেওয়া হয়েছে। আর অভিযোগকারী হিসাবে যেখানে নাম ঠিকানা থাকার কথা, সেখানে নাম আর ঠিকানায় শুধু পশ্চিমবঙ্গ (ওয়েস্টবেঙ্গল) লেখা আছে বলে অভিযোগ। এই ঘটনায় আতঙ্ক ছড়িয়েছে।
নোটিস অনুযায়ী শুনানিকেন্দ্রে সকলে নির্দিষ্ট তারিখে হাজির হন। তাঁদের তথ্য যাচাই করা হয়। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক চাপানউতর। এই ঘটনা কেন ঘটল তা জানতে ক’দিন আগে শুনানিকেন্দ্রে আসেন সিপিআই নেতা ও আইনজীবী সব্যসাচী চট্টোপাধ্যায়। তখন তৃণমূল নেতারাও হাজির হন। দু’পক্ষর মধ্য বচসা শুরু হয়। শুক্রবার সাংবাদিক সম্মেলন করে সিপিআইএম নেতৃত্ব। সব্যসাচী অভিযোগ করেন, এ ধরনের নোটিস শাসক দল চক্রান্ত করে পাঠাচ্ছে। মানুষকে আতঙ্কে ফেলে আবার তাঁদের পাশে দাঁড়িয়ে দেখাতে চাইছে তারা সঙ্গে আছে। বদনাম করতে চাইছে বামেদের। এই বিষয়ে সর্বোচ্চ আদালতে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হবে বলে তিনি জানান।
আরও পড়ুন:
অন্য দিকে, বামেদের অভিযোগ উড়িয়ে দেয় তৃণমুল। মধ্য হাওড়া তৃণমূলের সহ-সভাপতি সুশোভন চট্টোপাধ্যায় বলেন, “সিপিআইএম ও বিজেপি একসঙ্গে এ সব করছে। বিভ্রান্ত করতে চাইছে মানুষকে। এসআইআর নিয়ে হয়রানির প্রতিবাদ করতে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সুপ্রিম কোর্টে সওয়াল করেছেন।” মধ্য হাওড়ার বাসিন্দা আলি আসগর জানান, তার কাছে হঠাৎ ‘নন ইন্ডিয়ান সিটিজেন’ নোটিস আসে। তিনি জেলার মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিককে ফোন করে বিষয়টি জানান। পাশাপাশি তাঁর দাবি, যাঁরা এ ধরনের কাজ করছেন, সেই সব অভিযুক্তদের খুঁজে বার করে শাস্তি দেওয়া হোক। এখন দেখার এই ভূতুড়ে অভিযোগকারীদের খুঁজে বার করতে পারে কি না নির্বাচন কমিশন।