Advertisement
E-Paper

ইটে যুবকের মাথা থেঁতলে লুট চুঁচুড়ায়

ভোট-মরসুমে দুষ্কৃতীদের ধরপাকড় এবং আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধারে পুলিশি অভিযান চলছেই। তার মধ্যেও চুঁচুড়ায় বাড়ির কাছে সশস্ত্র দুষ্কৃতীদের হাতে আক্রান্ত হয়ে সর্বস্ব খোয়ালেন এক যুবক। মারধর করে দুষ্কৃতীরা ইট দিয়ে তাঁর মাথা থেঁতলে দেয়। 

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২১ এপ্রিল ২০১৯ ০৪:৩৫
আক্রান্ত:  রমেন কর্মকার।— নিজস্ব চিত্র

আক্রান্ত: রমেন কর্মকার।— নিজস্ব চিত্র

ভোট-মরসুমে দুষ্কৃতীদের ধরপাকড় এবং আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধারে পুলিশি অভিযান চলছেই। তার মধ্যেও চুঁচুড়ায় বাড়ির কাছে সশস্ত্র দুষ্কৃতীদের হাতে আক্রান্ত হয়ে সর্বস্ব খোয়ালেন এক যুবক। মারধর করে দুষ্কৃতীরা ইট দিয়ে তাঁর মাথা থেঁতলে দেয়।

শুক্রবার রাত ১২টা নাগাদ চুঁচুড়া স্টেশনের কাছে ফার্ম সাইড রোডে ওই ঘটনায় আহত রমেন কর্মকারকে চুঁচুড়া ইমামবাড়া হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। তাঁর মাথায় সাতটি সেলাই পড়ে। তাঁর বাড়ি কাছেই সিংহীবাগান এলাকায়। শনিবার বিকেল পর্যন্ত পুলিশ দুষ্কৃতীদের কাউকে ধরতে পারেনি। চন্দননগর কমিশনারেটের পুলিশ লাইনের কয়েক কিলোমিটারের মধ্যে কী ভাবে দুষ্কৃতীরা হামলা করার সাহস পেল, এ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সাধারণ মানুষ।

আক্রান্ত ওই যুবক বলেন, ‘‘আত্মীয়ের বাড়ি থেকে ফিরছিলাম। চার দুষ্কৃতী মোটরবাইকে চুঁচুড়া স্টেশনের কাছ থেকে ধাওয়া করে। রাতে রাস্তায় লোক কম থাকায় জোরে সাইকেল চালিয়ে বাড়ির গলিতে ঢোকার চেষ্টা করি। ওরা পিছন থেকে এসে ধরে ফেলে। যে ভাবে মাথায় ইট দিয়ে মারছিল, মরেই যেতাম। জ্ঞান হারিয়ে ফেলায় ওরা হয়তো ভেবেছিল, মরে গিয়েছি। তাই চলে যায়।’’

চন্দননগর পুলিশ কমিশনারেটের এক কর্তা জানিয়েছেন, দুষ্কৃতীদের চিহ্নিত করে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। ধান্য গবেষণা কেন্দ্র লাগোয়া এলাকায় (ফার্ম সাইড রোড উল্টো দিকেই) রাতে পুলিশ টহল দেয়। প্রয়োজনে নজরদারি বাড়ানো হবে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রের খবর, রমেন ইমামবাড়া হাসপাতাল সংলগ্ন একটি ওষুধের দোকানের কর্মী। ওই রাতে দোকান বন্ধের পরে তিনি শহরের নবাববাগানে এক আত্মীয়ের বাড়িতে যান। সেখান থেকে সাইকেলে ফেরার সময় দুষ্কৃতীদের কবলে পড়েন।

রমেনের অভিযোগ, বাড়ির কিছুটা আগে দুষ্কৃতীরা তাঁর পথ আগলে দাঁড়ায়। সাইকেল থেকে নামতেই এক দুষ্কৃতী তাঁর কোমর হাতিয়ে আগ্নেয়াস্ত্র আছে কিনা জানতে চায়। দুই দুষ্কৃতী তাঁর দুই হাত পিছন দিকে চেপে ধরে। অপর জন মাথায় আগ্নেয়াস্ত্র ধরে সোনার চেন, আংটি, মানিব্যাগ, মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয়। বাধা দেওয়ার চেষ্টা করায় ইট দিয়ে মাথায় মারতে থাকে। মাথা ফেটে যায়। রক্তাক্ত অবস্থায় তিনি লুটিয়ে পড়েন। তারপরেও তাঁকে বেধড়ক পেটানো হয়। তিনি জ্ঞান হারা‌লে দুষ্কৃতীরা পালায়।

মিনিট দশেক পড়ে জ্ঞান ফিরলে রমেন কোনও রকমে বাড়ি ফেরেন। শনিবার তিনি চুঁচুড়া থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, চুরি-ছিনতাই রুখতে এলাকাবাসীর উদ্যোগে সিংহীবাগানের কয়েকটি জায়গায় আলো লাগানো হয়েছিল। কিন্তু দুষ্কৃতীরা আলো ভেঙে দেয়। সন্ধের পরে স্থানীয় আমবাগানে বাইরের যুবকদের আড্ডা জমে। সিংহীবাগানের বাসিন্দা সুশান্ত দাস বলেন, ‘‘বহিরাগতদের আনাগোনা শুরুর পর থেকেই এলাকার পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে। চুরি-ছিনতাই বাড়ছে। সাধারণ মানুষ আতঙ্কিত। পুলিশ ব্যবস্থা নিক।’’

ভোট-মরসুমেও কমিশনারেট এলাকায় অপরাধমূলক কাজে লাগাম না-পরায় সাধারণ মানুষ উদ্বেগে রয়েছেন। চলতি মাসের গোড়ায় হুগলির কানাগড়ে এক তৃণমূল নেতার বাড়ি থেকে বেআইনি আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার হয়। সম্প্রতি রিষড়ার শ্রীকৃষ্ণনগরে গুলিবিদ্ধ হয়ে এক যুবক খুন হন। সেই তালিকায় এ বার যুক্ত হল চুঁচুড়ার ঘটনা।

Crime Loot Youth Miscreants
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy