শনিবারের বারবেলায় রেগে কাঁই কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়।
কর্মী-সমর্থকদের সুবিধার জন্য সম্মেলনে চিকেন বিরিয়ানির আয়োজন করা হয়েছিল। আর তাঁর কথা না শুনে কর্মী-সমর্থকেরা কিনা চিকেন বিরিয়ানির লাইনে! কাঁহাতক সহ্য করা যায়! সভামঞ্চ থেকে কল্যাণের হুঙ্কার, ‘‘খাবার ছাড়া, যাঁরা সভায় থাকতে পারবেন, তাঁরাই থাকুন।’’ তবু, শেষমেশ চিকেন বিরিয়ানির কাছে হারতেই হল তৃণমূলের শাসকদলের সাংসদকে।
এ দিন পোলবার রাজহাট ময়দানে শাসকদলের ডাকা কর্মী-সম্মেলনের মঞ্চের সামনে ভিড় প্রায় দেখাই গেল না। যত ভিড় পাশের খাবারের লাইনে। এক কর্মী তো বলেই দিলেন, ‘‘সকালে ডুমুরদহ থেকে এসেছি। অনেক সম্মেলনে তো গিয়েছি। কোথাও চিকেন বিরিয়ানি পাইনি। ছাড়ি কী করে?’’
হুগলিতে শাসকদলের কর্মিসভা ঘিরে নানা বিশৃঙ্খলা প্রায়ই সামনে আসছে। দিন কয়েক আগেই তারকেশ্বরের কর্মিসভায় দলীয় মহিলা কর্মীর কান থেকে দুল ছিঁড়ে নেওয়া হয়েছিল। এ দিন জাঙ্গিপাড়ায় গিয়েও সেই বিশৃঙ্খলার মধ্যেই পড়তে হয় কল্যাণকে। তবে, পোলবার মতো বিড়ম্বনায় তাঁকে যে এর আগে পড়তে হয়নি, তা তিনি ঘনিষ্ঠ মহলেই স্বীকার করেছেন।
এ দিন পোলবায় ওই কর্মিসভায় কল্যাণ ছাড়াও বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন হুগলির সাংসদ রত্না দে নাগ এবং আরামবাগের সাংসদ অপরুপা পোদ্দার। ছিলেন সপ্তগ্রামের বিধায়ক তথা তৃণমূলের জেলা সভাপতি তপন দাশগুপ্ত, চুঁচুড়ার বিধায়ক অসিত মজুমদার ছাড়াও অন্য নেতারা। পঞ্চায়েত সংলগ্ন ময়দানে তেরঙ্গা কাপড়ে মুড়ে ফেলা হয়েছিল বিশাল সভাস্থল। কর্মীদের জন্য বসার আয়োজন হয়েছিল। শুরু থেকেই সভার সঞ্চালনার দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিয়েছিলেন কল্যাণ।
কিন্তু আসন তো প্রায় ফাঁকা! সকালে ছিল জলখাবার, আর দুপুরে চিকেন বিরিয়ানি। অবশ্য নিরামিষ ভাত-ডাল-তরকারিও ছিল। কিন্তু যত ভিড় ওই চিকেন বিরিয়ানির জন্য। ধৈর্য্যের বাঁধ ভাঙে কল্যাণের। তিনি আর বিধানসভা ভোট, রাজ্যের উন্নয়ন, বিরোধীদের সমালোচনা করবেন কী করে? মাইক হাতে তিনি চিৎকার করতে থাকেন, ‘‘আপনারা নেতৃত্বের নির্দেশ না শুনে যদি খাবারের জন্যই সন্মেলনে এসে থাকেন, তবে দলের হয়ে লড়াই করবেন কী করে?’’
কিন্তু কে শোনে কার কথা! বিপাকে পড়েন চুঁচুড়ার বিধায়ক অসিত মজুমদারও। শেষমেশ তিনি খাবার বিলি বন্ধের নির্দেশ দেন। এক তৃণমূল নেতার কথায়, ‘‘বিরিয়ানি যেন পোলবার রাজহাট ছাড়া বিশ্বের আর কোথাও মেলে না। এ সবের জন্য সম্মেলন নষ্ট করার মানে হয় না।’’
এ দিন তৃণণূলের কর্মী সম্মেলন ছিল জাঙ্গিপাড়াতেও। সেখানে খাবারের ব্যবস্থা না থাকায় এমন সমস্যা হয়নি ঠিকই, তবে শৃঙ্খলার অভাব ছিল যথেষ্ট। এখানে উপস্থিত ছিলেন সাংসদ শুভেন্দু অধিকারী।