Follow us on

Download the latest Anandabazar app

© 2021 ABP Pvt. Ltd.

Advertisement

২৯ জানুয়ারি ২০২২ ই-পেপার

অর্থাভাব, দখলে আটকে ডুমুরজলার স্পোর্টস হাব

রাজ্যের অর্থ দফতরের অনুমোদন না পেয়ে আটকে গিয়েছে হাওড়ার ডুমুরজলায় ‘স্পোর্টস হাব’ তৈরির কাজ। মুখ থুবড়ে পড়েছে প্রস্তাবিত ২০০ কোটি টাকার প্রকল্প

দেবাশিস দাশ
কলকাতা ২৮ মার্চ ২০১৫ ০১:৪০

রাজ্যের অর্থ দফতরের অনুমোদন না পেয়ে আটকে গিয়েছে হাওড়ার ডুমুরজলায় ‘স্পোর্টস হাব’ তৈরির কাজ। মুখ থুবড়ে পড়েছে প্রস্তাবিত ২০০ কোটি টাকার প্রকল্প। তোলা যায়নি জবরদখলকারীদেরও। ‘মাস্টার প্ল্যান’ তৈরি করতেই এক কোটি টাকা খরচ হয়ে যাওয়া হাওড়ার ডুমুরজলায় ‘স্পোর্টস হাব’ তৈরির প্রক্রিয়া কার্যত বিশ বাঁও জলে।

ডুমুরজলায় পড়ে থাকা ৫৬ একর জমিতে আর্ন্তজাতিক মানের স্টেডিয়াম তৈরির পরিকল্পনা প্রায় তিন দশক আগের। কিন্তু স্টেডিয়াম হওয়া তো দূরের কথা, নানা সময়ে স্টেডিয়াম তৈরির জন্য উদ্বোধন করা ফলক বেপাত্তা হয়ে গিয়েছে মাঠ থেকে। মাঠের ৩৫ শতাংশ এখন চলে গিয়েছে জবরদখলকারীর হাতে। গত বিধানসভা ভোটের আগে বাম আমলে ডুমুরজলা এলাকার মালিক হাওড়া উন্নয়ন সংস্থা বা এইচআইটি-র তত্ত্বাবধানে একটি মাস্টার প্ল্যান করে রাজ্য সরকারের সংস্থা বেঙ্গল আরবান ইনফ্রাস্টাকচার ডেভেলপমেন্ট লিমিটেড। ওই মাস্টার প্ল্যান অনুযায়ী ঠিক হয় ওই ৫৬ একর জমিতে সরকারি এবং বেসরকারি উদ্যোগে বা পিপিপি মোডে ২০০ কোটি টাকা প্রকল্প তৈরি করা হবে। যেখানে স্টেডিয়াম তৈরির পাশাপাশি আয়ের জন্য জন্য গড়ে তোলা হবে বহুতল আবাসন ও শপিং মল।

তৃণমূল রাজ্যে ক্ষমতায় আসার পর রাজ্যের ক্রীড়া মন্ত্রী মদন মিত্র কয়েক দফায় ওই স্টেডিয়াম পরিদর্শন করতে আসেন। তিনি ঘোষণা করেন মাস্টার প্ল্যান অনুযায়ী অবিলম্বে কাজ শুরু হবে। প্রথমে স্টেডিয়ামে গড়ে ওঠা দু’টি বস্তির বাসিন্দাদের জন্য পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা হবে।

Advertisement

মন্ত্রীর ঘোষণার পর রাজ্য এইচআইটিকে নির্দেশ দেয় মাঠটির সীমানা চিহ্নিত করে চারিদিকে সীমানা পাঁচিল দিয়ে দেওয়ার জন্য। সেই মত ২ কোটি টাকা বরাদ্দও করে রাজ্য অর্থ দফতর। সেই টাকায় পাঁচিল দিয়ে ঘিরেও ফেলা হয় মাঠটির চার দিক।

কিন্তু জবরদখলকারী তুলতে ব্যর্থ হয় এইচআইটি। সংস্থার অভিযোগ, ডুমুরজলা এলাকায় শাসকদলের কিছু নেতা-নেত্রী জবরদখলকারীদের মদত দেওয়ায় তাঁদের তোলা যাচ্ছে না। স্টেডিয়ামের চার দিকে দখলদার বেড়ে গিয়েছে। বস্তি ছাড়াও গড়ে উঠেছে গ্যারেজ, ইট-বালি-সিমেন্টের গুদাম, দোকান, বাজার, গ্যাস সিলিন্ডার রাখার গুদাম, জেনারেটার বিক্রির কারখানা ইত্যাদি।

ওই সংস্থার এক পদস্থ কর্তা বলেন, “বর্তমান রাজ্য সরকারের নীতি হল বস্তিবাসীদের পুনর্বাসন দেওয়ার ব্যবস্থা করে উচ্ছেদ করা হবে। কিন্তু যাঁরা বস্তির বাসিন্দা নন এমন জবরদখলকারীদের তুলতে গেলেও বাঁধা আসছে শাসক দলের থেকে। তাই কিছুই করা যাচ্ছে না।”

এইচআইটি সূত্রে জানা গিয়েছে, মাস্টার প্ল্যান অনুযায়ী ওই ২০০ কোটির প্রকল্প সরাকরি অনুমোদন পেলে বদলে যেত হাওড়ার মুখ। যে ভাবে নবান্ন হওয়ার পর বদলে গিয়েছে মন্দিরতলা ও নিকটবর্তী অঞ্চল।

কি ছিল ওই প্ল্যানে?

ওই প্ল্যান অনুযায়ী ঠিক হয়েছিল, একটি ৩০ হাজার দর্শক আসনের একটি আর্ন্তজাতিক মানের স্টেডিয়াম হবে। এ ছাড়া হবে ৩ হাজার দর্শক আসনের একটি টেনিস কোর্ট। একটি আর্ন্তজাতিক মানের ইন্ডোর স্টেডিয়াম। একটি ৫ হাজার দর্শক বসার উপযুক্ত অ্যাকোয়াটিক সেন্টার। থাকবে সাঁতার ও পোলো খেলার ব্যবস্থা। এর পাশাপাশি তৈরি হবে জিমনাসিয়াম, স্পোর্টস সেন্টার ও হাউসিং কমপ্লেক্স।

এত পরিকল্পনার পরও সরকারি অনুমোদন মিলল না কেন?

এইআইটি চেয়ারম্যান, সাঁকরাইল কেন্দ্রের তৃণমল বিধায়ক শীতল সর্দার বলেন, “মূলত অর্থাভাবেই প্রকল্পের কাজ শুরু করা যায়নি। অর্থ দফতরের সবুজ সংকেত পেলেই প্রথমে আমরা নোটিস দিয়ে জবরদখলকারীদের তুলে দেব। তবে যাঁরা ওই স্টেডিয়াম চত্বরে বসবাস করছেন তাঁদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করে তবে উচ্ছেদ করা হবে।”

আরও পড়ুন

Advertisement