Advertisement
E-Paper

ভাঁড়ারে টান, কর্মীদের পেনশন বন্ধে ক্ষোভ

তিন মাস ধরে বন্ধ পেনশন। অথচ সামনেই পুজো। এই পরিস্থিতিতে বিপাকে পড়েছেন হুগলির তারকেশ্বর পুরসভার একশোরও বেশি অবসরপ্রাপ্ত কর্মীর পরিবার। তহবিলের হাল শোচনীয়।

গৌতম বন্দ্যোপাধ্যায়

শেষ আপডেট: ২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৬ ০১:০১

তিন মাস ধরে বন্ধ পেনশন। অথচ সামনেই পুজো। এই পরিস্থিতিতে বিপাকে পড়েছেন হুগলির তারকেশ্বর পুরসভার একশোরও বেশি অবসরপ্রাপ্ত কর্মীর পরিবার। তহবিলের হাল শোচনীয়। ফলে ওই কর্মীদের পেনশন দেওয়া যাচ্ছে না বলে পুরসভা সূত্রে খবর। পুরসভার অবসরপ্রাপ্ত কর্মীদের সংগঠনের তরফে অবিলম্বে এর প্রতিকার চেয়ে পুর কর্তৃপক্ষের কাছে পেনশন দেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।

গত কয়েক মাস ধরেই পুরসভার অবসরপ্রাপ্ত কর্মীদের পেনশনের টাকা পেতে দেরি হচ্ছিল। যদিও শেষ পর্যন্ত তাঁরা টাকা পাচ্ছিলেন। কিন্তু গত জুন মাস থেকে বন্ধ হয়ে গিয়েছেন পেনশন।

পুরসভা সূত্রে জানা গিয়েছে, পেনশন বাবদ প্রতি মাসে ৯ লক্ষ ৮৮ হাজার টাকা লাগে। কর্মীদের পেনশনের ৬০ শতাংশ টাকা দেয় রাজ্য সরকার। পুর কর্তৃপক্ষ নিজস্ব তহবিল থেকে বাকি ৪০ শতাংশ টাকা দেয়। প্রাথমিকভাবে পুর কর্তৃপক্ষই পুরো টাকা দিয়ে দেন। পরে সরকারি তহবিল থেকে টাকা এলে তা সংশিষ্ট খাতে রেখে দেওয়া হয়। এটাই স্বাভাবিক পদ্ধতি। কিন্তু পুরসভার নিজস্ব তহবিলের হাল বর্তমানে এতই শোচনীয় যে তা থেকে পেনশন খাতে টাকা দেওয়া যাচ্ছে না।

তারকেশ্বর পুরসভার অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী সমিতির সম্পাদক অমর সামুই বলেন, “অনেক অবসরপ্রাপ্ত কর্মী আছেন যাঁরা অসুস্থ। পেনশনের টাকায় তাঁদের চিকিৎসা চলে। তাঁদের খুবই দূরবস্থা। বিকল্প আয়ের কোনও পথও নেই তাঁদের। আমরা অবিলম্বে পেনশনের টাকা মিটিয়ে দেওয়ার দাবি জানিয়েছি পুর কর্তৃপক্ষের কাছে।” তাঁর আক্ষেপ, “সারা জীবন পুরসভার কাজ করে এলাম। আর অবসরের পর যে এ ধরনের পরিস্থিতির মুখে পড়তে হবে ভাবতে পারিনি।’’

পুরসভারই এক শ্রেণির কর্মীদের অভিযোগ, বিকল্প আয়ের কোনও উৎস তৈরি করতে উদ্যোগী হয়নি পুরসভা। তার উপর বর্তমান শাসকেরা ২০১০ সালে যখন ক্ষমতায় আসেন তখন পুরসভার চুক্তিভিত্তিক কর্মীর সংখ্যা ছিল ৪০ থেকে ৪৫ জন। এখন তা বেড়ে হয়েছে ১০০-র বেশি। পুরসভার নিজস্ব তহবিলের টাকা তো তাদের বেতন দিতেই শেষ হয়ে যাচ্ছে। তাঁদের আরও অভিযোগ, পুরপ্রধান আর উপ-পুরপ্রধান কে কটা লোক ঢোকাতে পারেন তার লড়াই চলছে। এ দিকে টাকার জন্য উন্নয়নের কাজ বন্ধ। ফলে পেনশনের টাকা আসবে কী করে? গত জুন মাস থেকেই এমন অবস্থা। পুরসভার নিজস্ব খরচে এখনই রাশ না টানলে পরিস্থিতি বদলানো মুশকিল।

পুরপ্রধান স্বপন সামন্ত অবশ্য আশ্বস্ত করেছেন, “পুরসভার খরচ বাড়লেও, সেই তুলনায় আয় নেই। শ্রাবণী মেলায় ১০ লক্ষ টাকা খরচ। কিন্তু মেলা থেকে আয় বন্ধ। অস্থায়ী কর্মীদের বেতন পুরসভা দেয়। পেনশনের টাকা আগাম পুরসভাকে দিয়ে দিতে হয়। পরে সেই বরাদ্দ চাইলে পাওয়া যায়। এই পদ্ধতিতে সাময়িক সমস্যা হয়েছে। তবে শীঘ্রই পেনশনের টাকা মিটিয়ে দেওয়া হবে।”

প্রসঙ্গত, এর আগেও তারকেশ্বর পুরসভার বিদ্যুতের বকেয়া বিল নিয়েও একই সমস্যা দেখা দিয়েছিল। সেই সময়ও তহবিলের শোচনীয় অবস্থার কারণে বিল মেটানো যায়নি। তা নিয়ে হইচইও হয়। ফের সেই একই পরিস্থিতি হওয়ায় পুরপ্রধানের আশ্বাসে কতটা কাজ হবে তা নিয়েই সংশয় দেখা দিয়েছে।

Lack of fund Tarakeshwar Municipality Agitation Pension problem
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy