Advertisement
E-Paper

ওসিকে কিশোরীর ফোন, সংসার নয়, পড়তে চাই

মাঝদুপুরে আচমকাই বেজে উঠেছিল ওসি-র ফোন। ফোনের অন্য প্রান্তে এক কিশোরী। ওসির কাছে তার আর্তি, ‘‘আমার এখনও আঠারো বছর পূর্ণ হয়নি। অথচ বাবা-মা জোর করে বিয়ে দিয়ে দিয়েছেন। কিন্তু আমি এখনই সংসার করতে চাই না। চাই বাড়ি ফিরে যেতে। আরও পড়াশোনা করে নিজের পায়ে দাঁড়াতে।’’

প্রকাশ পাল

শেষ আপডেট: ২২ মার্চ ২০১৭ ০১:৫৭

মাঝদুপুরে আচমকাই বেজে উঠেছিল ওসি-র ফোন। ফোনের অন্য প্রান্তে এক কিশোরী। ওসির কাছে তার আর্তি, ‘‘আমার এখনও আঠারো বছর পূর্ণ হয়নি। অথচ বাবা-মা জোর করে বিয়ে দিয়ে দিয়েছেন। কিন্তু আমি এখনই সংসার করতে চাই না। চাই বাড়ি ফিরে যেতে। আরও পড়াশোনা করে নিজের পায়ে দাঁড়াতে।’’

কান্না ভেজা গলার আর্তি শুনে এক মুহূর্ত দেরি করেননি খানাকুল থানার ওসি জয়ন্ত পাল। সঙ্গে সঙ্গে তিনি জেলা চাইল্ড লাইনের আধিকারিকদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। পুলিশের থেকে মোবাইল নম্বর নিয়ে চাইল্ড লাইনের লোকজন ওই কিশোরীর সঙ্গে কথা বলেন। তারপর পুলিশ শ্বশুরবাড়ি থেকে ওই কিশোরীকে উদ্ধার করে আনে।

পুলিশ ও প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, বছর ষোলোর ওই কিশোরীর বাড়ি হাওড়ার জয়পুরের সাউরিয়ায়। সাত-আট মাস আগে তার বিয়ে হয় খানাকুলের মোস্তাফাপুর গ্রামের এক যুবকের সঙ্গে। তিনি কাঠের কাজ করেন। কর্মসূত্রে অন্যত্র থাকেন। মাঝে মধ্যে বাড়িতে আসেন। মেয়েটি শ্বশুরবাড়িতেই থাকত। কিশোরী জানিয়েছে, বিয়েতে তার মত ছিল না। কিন্তু বাড়ির বড়দের চাপেই সে বিয়ের পিঁড়িতে বসতে বাধ্য হয়। এ বার মাধ্যমিক পরীক্ষাও দিয়েছে। সেই সময় সে বাপের বাড়িতে ছিল। পরীক্ষার পরে শ্বশুরবাড়ির লোকেরা তাকে নিয়ে চলে যায়।

দিন কয়েক আগে মেয়েটি কোনওভাবে খানাকুলের ওসি-র নম্বর জোগাড় করে। গত শনিবার দুপুরে মরিয়া হয়ে সে ওসি-কে ফোন করে। ওই দিনই পুলিশ তাকে উদ্ধার করে এনে চাইল্ড লাইনের হাতে তুলে দেয়। পরের দিন‌ মেয়েটিকে জেলার চাইল্ড ওয়েলফেয়ার কমিটির সামনে হাজির করানো হয়। সোমবার তাকে বাবা-মায়ের হাতে তুলে দেওয়া হয়।

প্রশাসন সূত্রের খবর, কাউন্সেলিংয়ের সময় মেয়েটি জানায় সংসার করার জন্য আদপেই সে মানসিক ভাবে প্রস্তুত নয়। সে আরও পড়াশোনা করতে করতে চায়। স্বামী বাড়িতে ফিরলে অত্যাচার করত। সোমবার মেয়ে ঘরে ফিরলে বাবা-মা নিজেদের ভুল স্বীকার করেন। তাঁরা জানান, সাবালিকা না হলে মেয়েকে শ্বশুরবাড়িতে পাঠাবেন না। মেয়ে যতদূর পড়তে চায় তাঁরা পড়াবেন।

হুগলি জেলা চাইল্ড লাইনের কো-অর্ডিনেটর গোপীবল্লভ শ্যামল বলেন, ‘‘আঠারো বছরের আগে মেয়ের বিয়ে দেওয়া অনুচিত। মেয়েটি নিজে সচেতন হওয়াতেই তাকে বাপের বাড়িতে ফেরানো সহজ হয়েছে। ওর এই সাহস প্রশংসনীয়।’’ তিনি জানান, মেয়েটির যাতে সমস্যা না হয়, সে দিকে লক্ষ্য রাখা হবে। এ ব্যাপারে হাওড়া জেলা চাইল্ড লাইনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হবে।

চাইল্ড লাইনের আধিকারিকদের বক্তব্য, হুগলিতে নাবালিকা বিয়ে এখনও বন্ধ হয়নি বটে। তবে মানুষের সচেতনতা আগের চেয়ে বেড়েছে। অনেক ক্ষেত্রেই আগেভাগে খবর পেয়ে বিয়ে বন্ধ করা সম্ভব হচ্ছে। এর আগেও শ্বশুরবাড়ি থেকে নাবালিকাকে বাড়ি ফেরানোর উদাহরণ রয়েছে।

Child Marriage
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy