Advertisement
E-Paper

‘থাকার অযোগ্য’, তবু আসছে শিশু

খাবারের মান ‘পশুদের’ খাবারের মানের থেকেও খারাপ। আবাসিকদের চেহারায় অপুষ্টির ছাপ স্পষ্ট। দীর্ঘ দিন স্নান করানো হয় না তাদের। অসুস্থ হলে মেলে না ঠিক মতো চিকিৎসাও।

দীক্ষা ভুঁইয়া

শেষ আপডেট: ১৬ অক্টোবর ২০১৫ ০০:৩৮

খাবারের মান ‘পশুদের’ খাবারের মানের থেকেও খারাপ। আবাসিকদের চেহারায় অপুষ্টির ছাপ স্পষ্ট। দীর্ঘ দিন স্নান করানো হয় না তাদের। অসুস্থ হলে মেলে না ঠিক মতো চিকিৎসাও।

হাওড়ার জুজারসা রোডে সরকারের সাহায্যপ্রাপ্ত মালিপুকুর সমাজ কল্যাণ উন্নয়ন সমিতি হোম সম্পর্কে এমনই অসন্তোষ প্রকাশ পেয়েছে সরকার গঠিত টাস্ক ফোর্স কমিটি থেকে শুরু করে শিশু সুরক্ষায় হাইকোর্টের মনিটরিং কমিটির কাছে জমা পড়া রিপোর্টে। এক সময়ে ওই হোমেরই আবাসিক বাংলাদেশি কিশোর দুর্জয় ভক্তি ওরফে ইন্দ্রাশিস রায়চৌধুরীও অভিযোগে জানিয়েছিল, হোমে থাকাকালীন তার ও অন্যদের উপরে অত্যাচারের কথা।

শুধু কমিটির রিপোর্টের অসন্তোষ বা দুর্জয়ের অভিযোগ নয়। সমাজ কল্যাণ দফতর সূত্রের খবর, গত কয়েক বছরে ওই হোম সম্পর্কে তাদের কাছে বহু অভিযোগ জমা পড়েছে। কিন্তু অভিযোগ, এর পরেও হাও়ড়া মালিপুকুর সমাজ কল্যাণ সমিতিকে শুধুমাত্র একটি ‘শো-কজ’ নোটিস পাঠানো ছাড়া আর কোনও ব্যবস্থা নেয়নি সমাজ কল্যাণ দফতর। উল্টে অভিযোগ, হোমের বাচ্চাদের অন্য হোমে স্থানান্তরের বদলে নতুন করে প্রতি সপ্তাহেই ওই হোমে বাচ্চা পাঠানো হচ্ছে। হাওড়া শিশু কল্যাণ সমিতির রিপোর্টই জানাচ্ছে, দুর্জয়ের অভিযোগ সামনে আসার পরেও ওই হোমে শিশু পাঠানো হয়েছে। বুধ ও বৃহস্পতিবারও ওই হোমে বেশ কিছু শিশুকে পাঠানো হয়েছে। পরিসংখ্যান বলছে, চলতি মাসে ৬ তারিখ ন’টি এবং ৭ তারিখে চারটি শিশু ও সেপ্টেম্বরে এক মূক ও বধির শিশুকেও পাঠানো হয়। যদিও সমাজ কল্যাণ দফতরের আধিকারিকদের দাবি, এ নিয়ে তাঁদের কাছে কোনও তথ্য নেই।

তবে যেখান থেকে হোমগুলিতে শিশু পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়, সেই হাওড়া জেলার শিশু কল্যাণ সমিতির দাবি, দফতর নির্দেশিকা না পাঠালে তারা নিজেরা হঠাৎ করে শিশু পাঠানো বন্ধ করতে পারেন না। আর মালিপুকুর সমাজ উন্নয়ন সমিতির ওই হোমে বাচ্চা না পাঠানোর জন্য দফতর থেকে এখনও কোনও নির্দেশিকা তারা পাননি। কিন্তু প্রশ্ন উঠেছে, একটি হোমের বিরুদ্ধে পরপর এত অভিযোগ জমা পড়ার পরে, এমনকী হাইকোর্টের মনিটরিং কমিটি অসন্তোষ প্রকাশ করার পরেও দফতর কোনও নির্দেশিকা জারি করল না কেন? কেন কোনও ব্যবস্থাও নেওয়া হল না?

সমাজ কল্যাণ দফতরের সাফাই, দুর্জয়ের অভিযোগ পেয়ে অগস্টে হাওড়া জেলা শাসকের নেতৃত্বে দফতরের আধিকারিকদের নিয়ে নতুন কমিটি তৈরি হয়। তাঁরা হোম পরিদর্শন করে রিপোর্টও দেন। পরবর্তী সিদ্ধান্তও দ্রুত নেওয়া হবে। কিন্তু আগে হোমের আবাসিকদের অন্য হোমে স্থানান্তর করা না হলে মালিপুকুর হোম বন্ধ করা সম্ভব না। এখানেও প্রশ্ন উঠেছে দফতরের সদিচ্ছার নিয়ে। হোমের শিশুদের স্থানান্তর করাটাই যেখানে সমস্যা, সেখানে নতুন করে শিশু পাঠানো হচ্ছে কী করে? এ প্রশ্নের কোনও সদুত্তর মেলেনি খোদ নারী, সমাজ ও শিশু কল্যাণ মন্ত্রী শশী পাঁজার থেকেও। মন্ত্রী শুধু বলেন, ‘‘দেখছি কী করা যায়!’’

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy