সপ্তাহ খানেক আগে নালিকুলে একটি জলসত্র শিবিরে হামলা এবং তারকেশ্বরের মহিলা পুণ্যার্থীদের শ্লীলতাহানির অভিযোগ উঠেছিল হরিপাল কলেজের ছাত্র সংসদের সাধারণ সম্পাদক, তৃণমূল ছাত্র পরিষদ (টিএমসিপি) নেতা সুমিত সরকার এবং তাঁর দলবলের বিরুদ্ধে। সুমিতদের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দায়ের করেছিলেন স্থানীয় তৃণমূল নেতা তথা হরিপাল পঞ্চায়েতে সমিতির কর্মাধ্যক্ষ মিলন দে। সেই মিলনবাবুই সুমিতদের জামিন হলে তাঁর আপত্তি না থাকার কথা লিখিত ভাবে বৃহস্পতিবার চন্দননগর আদালতকে জানালেন।
দিন কয়েক ধরেই এলাকায় কানাঘুষো শোনা যাচ্ছিল, দলের চাপে মন্ত্রী বেচারাম মান্নার ‘স্নেহভাজন’ হিসেবে পরিচিত সুমিতের বিরুদ্ধে মামলা প্রত্যাহার করে নিতে চলেছেন মিলনবাবু। এ দিন আদালতে লিখিত আবেদনে মিলনবাবু জানিয়েছেন, তাঁর সঙ্গে অভিযুক্তদের আপোসে মীমাংসা হয়ে গিয়েছে। অভিযুক্তেরা জামিন পেলে তাঁর আপত্তি নেই। মিলনবাবু বলেন, ‘‘বেচাদা (বেচারাম মান্না), আমার দল যা নির্দেশ দিয়েছে, সেটাই করেছি।’’
তবে, এ নিয়ে এ দিনও বেচারামবাবু কোনও মন্তব্য করতে চাননি। টিএমসিপি-র জেলা সভাপতি শুভজিৎ সাউ বলেন, ‘‘দলের ব্যাপার। দলের মধ্যেই মীমাংসা হচ্ছে। এ ব্যাপারে সংবাদমাধ্যমকে কিছু বলার নেই।’’ সুমিতের সঙ্গে চেষ্টা করেও যোগাযোগ করা যায়নি। তাঁর ফোন বন্ধ ছিল।
গত ৯ অগস্ট নালিকুলের ওই জলসত্র শিবিরে হামলা এবং তারকেশ্বরের মহিলা পুণ্যার্থীদের শ্লীলতাহানির অভিযোগ উঠেছিল সুমিত ও তাঁর দলবলের বিরুদ্ধে। অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ তিন জনকে গ্রেফতার করলেও সুমিতকে ধরেনি। পুলিশের খাতায় সুমিত এখনও ‘পলাতক’। তবে, গত রবিবারেই সুমিতকে সিঙ্গুরে পুলিশের উপস্থিতিতেই মিছিল করতে দেখা গিয়েছিল। সে দিন সুমিত দাবি করেছিলেন, ‘‘আমার কিছু হবে না।’’ জেলা পুলিশ এখনও দাবি করছে, সুমিতকে খোঁজা হচ্ছে।
ওই ঘটনায় যে তিন জনকে পুলিশ গ্রেফতার করেছিল, তাঁদের মধ্যে এক জন টেট পরীক্ষার্থী। এ দিন চন্দননগর আদালত তাঁকে জামিন দেয়। বাকি অভিযুক্তদের জামিনের শুনানি হওয়ার কথা আগামী ১ সেপ্টেম্বর। কিন্তু অভিযোগ জানানোর পরে মিলনবাবু যে ভাবে সুর নরম করলেন, তাতে বিরোধীরা তৃণমূলকে বিঁধতে ছাড়েনি। বিজেপি-র জেলা সহ-সভাপতি স্বপন পাল বলেন, ‘‘চারদিকে নারী নির্যাতন চলছে। শ্লীলতাহানিতে অভিযুক্ত ছাত্রনেতাকে ছাড়াতে শাসকদল যা করছে, তাতে তাদের চেহারা আরও বেআব্রু হয়ে পড়ছে।’’