Advertisement
E-Paper

হুড়মুড়িয়ে বাড়িতে ঢুকে গেল ট্রেলার, জখম শিশু-সহ ৭

২০১৩ সালের সপ্তমীর রাতের আতঙ্ক ফের ফিরে এল ২০১৫ সালের লক্ষ্মীপুজোর পরে। সে বার হাওড়া-আমতা রোডের উপর মাকড়দহ তেলিপুকুর ধারের বাঁকে একটি মোটরচালিত ভ্যানের সঙ্গে বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে প্রাণ গিয়েছিল ৬ জনের। বুধবার গভীর রাতে প্রায় একই জায়গায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার পাশে বাড়িতে ঢুকে পড়ল ট্রেলার। এ বার প্রাণহানির ঘটনা না ঘটলেও আহত হলেন একটি শিশু-সহ ৭ জন।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ৩০ অক্টোবর ২০১৫ ০২:১১
ট্রেলার ঢোকার আগে এখানেই ছিল আস্ত একটি ঘর।-নিজস্ব চিত্র।

ট্রেলার ঢোকার আগে এখানেই ছিল আস্ত একটি ঘর।-নিজস্ব চিত্র।

২০১৩ সালের সপ্তমীর রাতের আতঙ্ক ফের ফিরে এল ২০১৫ সালের লক্ষ্মীপুজোর পরে। সে বার হাওড়া-আমতা রোডের উপর মাকড়দহ তেলিপুকুর ধারের বাঁকে একটি মোটরচালিত ভ্যানের সঙ্গে বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে প্রাণ গিয়েছিল ৬ জনের। বুধবার গভীর রাতে প্রায় একই জায়গায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার পাশে বাড়িতে ঢুকে পড়ল ট্রেলার। এ বার প্রাণহানির ঘটনা না ঘটলেও আহত হলেন একটি শিশু-সহ ৭ জন। ক্ষুব্ধ স্থানীয় বাসিন্দারা বৃহস্পতিবার সকাল থেকে নিজেদের উদ্যোগে ওই বাঁকের আশপাশে তিনটি হাম্প তৈরির কাজ শুরু করেছেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, মাকড়দহ তেলিপুকুর ধারে হাওড়া-আমতা রোডের পাশেই ঘেঁষাঘেঁষি করে বেশ কয়েকটি ইটের দেওয়াল ও টালির চালের ছোট বাড়ি রয়েছে। বুধবার রাত সাড়ে এগারোটা নাগাদ বিকট শব্দ করে ওই জায়গায় তিনটি বাড়িতে পর পর ধাক্কা মারে একটি ট্রেলার। একটি বাড়ি হুড়মুড় করে ভেঙে পড়ে। দু’টি আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বাড়ির ভিতর যাঁরা ছিলেন তাঁরা কোনওরকমে বাইরে বেরিয়ে আসেন। কয়েকজনের হাত, পা, মাথায় চোট লাগে। স্থানীয় বাসিন্দারা আহতদের ডোমজুড় গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখান থেকে কয়েকজনকে কলকাতার এসএসকেএম হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকালে ওই এলাকার বাসিন্দারা ওই বাঁকের সামনে নিজেদের উদ্যোগে হাম্প তৈরি শুরু করেন। পুলিশ ট্রেলারটিকে আটক করেছে। চালক ও খালাসিকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের অভিযোগ, তেলিপুকুর ধারের ওই বাঁকটি দীর্ঘদিন ধরেই বিপজ্জনক। ২০১৩ সালে সপ্তমীর রাতের দুর্ঘটনার পরেও বেশ কয়েকবার ওই জায়গায় দুর্ঘটনা ঘটেছে। কিন্তু স্থানীয় প্রশাসনের কাছে বার বার আবেদন করা সত্ত্বেও ওই বাঁক ও তার আশপাশে হাম্প তৈরি করা হয়নি। তাই তাঁরা বাধ্য হয়ে নিজেরাই হাম্প তৈরি করছেন। ওই বাঁকের কাছে যান নিয়ন্ত্রণের জন্য সিভিক ভলান্টিয়ার রাখার দাবিও জানিয়েছেন তাঁরা। স্থানীয় মাকড়দহ ১ পঞ্চায়েতের ভারপ্রাপ্ত প্রধান অপর্ণা মুখোপাধ্যায় অবশ্য বলেন, ‘‘হাম্প তৈরি করা পূর্ত দফতরের কাজ। হাম্পের আকার এবং মাপ ঠিক না থাকলেও দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। বিষয়টি পূর্ত দফতরে জানাব।’’

ডোমজুড় ব্লক প্রশাসনের এক কর্তা জানান, হাওড়া-আমতা রোডের ঠিক পাশেই ওই বাড়িগুলি সরকারি জমিতে তৈরি করা হয়েছে। তার পরেও বিষয়টি মানবিক ভাবেই দেখা হচ্ছে। কয়েক সপ্তাহ আগে ওই এলাকায় হাম্প তৈরি করে দেওয়ার জন্য স্থানীয় বাসিন্দারা স্মারকলিপি দিয়েছিলেন। সেই চিঠি পূর্ত দফতরে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে।

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy