নিরুদ্দেশ হয়েছিলেন প্রায় তিন দশক আগে। অনেক খোঁজাখুঁজি করেছিল পরিবার। কিন্তু হদিস মেলেনি। ফলে বাড়়ির লোকেরা ধরেই নিয়েছিলেন, করিম শেখ আর ফিরবেন না। স্ত্রীও স্বামীকে ‘মৃত’ দেখিয়ে দরকারি নথি তৈরি করে নিয়েছিলেন। অন্যত্র বিয়ে করে চলেও গিয়েছেন। কিন্তু মুর্শিদাবাদের ভগবানগোলার সেই করিম মরেননি। তিনি জীবিত। তা জানা গেল সোমবার সন্ধ্যায়। অপ্রত্যাশিত ভাবে আচমকা নিজের পৈতৃক ভিটেয় হাজির হলেন করিম। ৩৫ বছর পর বাড়ি ফিরলেন স্রেফ নথির টানে!
রাজ্যে ভোটার তালিকার নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর নিয়ে তোড়জোড় শুরু হয়েছে। মঙ্গলবার থেকেই বাড়ি বাড়ি যাবেন নির্বাচন কমিশনের বুথ লেভেল আধিকারিক (বিএলও)-রা। সেই সময় তাঁদের যাতে ঝটপট নিজের নথি দেখাতে পারেন, তা নিশ্চিত করতেই ভগবানগোলা থানা এলাকার হাবাসপুর খাসমহল গ্রামের বাড়িতে ফিরেছেন করিম।
ষাটোর্ধ্ব বৃদ্ধ জানান, এত দিন তিনি হাওড়ার উলুবেড়িয়ায় ছিলেন। সেখানে নতুন সংসার পেতেছেন। সুখেই কাটছিল তাঁর জীবন। তাতে ছন্দপতন ঘটে রাজ্যে এসআইআর ঘোষণা হতেই। করিমের কথায়, ‘‘মঙ্গলবার থেকে এসআইআর শুরু হচ্ছে। প্রয়োজনীয় নথি জোগাড় করতেই গ্রামের বাড়িতে ফিরে আসতে হল। নথি না দেখালে হয়তো ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ চলে যাবে। তাই ফিরে এলাম নথি নিতে।’’
করিম ফিরে আসায় ভীষণ খুশি তাঁর ভাইয়েরা। তাঁর ভাই কুদ্দুস শেখ বলেন, ‘‘দাদাকে ৩০ বছর পর দেখে আমরা ভীষণ খুশি। ভেবেছিলাম আর কোনও দিন দেখা হবে না। কিন্তু আমাদের দাদা যে জীবিত, সেই প্রমাণ আজ প্রশাসনই দিয়ে দিল! দাদার এই ঘর ওয়াপসির জন্য এসআইআর-কে ধন্যবাদ জানাতেই হচ্ছে।’’