×

আনন্দবাজার পত্রিকা

Advertisement

১৫ জুন ২০২১ ই-পেপার

গরমে মরু-শহরকে টেক্কা দিল কলকাতা

নিজস্ব সংবাদদাতা
কলকাতা ০১ এপ্রিল ২০২১ ০৪:৪৭
ফাইল চিত্র।

ফাইল চিত্র।

গরমের নিরিখে রাজস্থানের মরু এলাকার জয়সলমেরকেও পিছনে ফেলে দিল শহর কলকাতা! এ দিন সেখানে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৭.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আর কলকাতার পারদ উঠেছে ৩৯.৩ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। স্বাভাবিকের থেকে ৫ ডিগ্রি বেশি।

রাজনীতির উত্তাপ কি প্রভাব ফেলছে প্রকৃতিতেও? বুধবার হাওয়া অফিসের থার্মোমিটারে পারদের উত্থান দেখে এমন টিপ্পনী কাটছেন কেউ কেউ। হাওয়া অফিস জানিয়েছে, এ মরসুমে এ দিনই এখনও পর্যন্ত উষ্ণতম। শুধু তাই নয়, গত এক দশকের নিরিখে মার্চ মাসে এমন গরম দ্বিতীয় বার পড়ল। এর আগে ২০১৪ সালের ৩০ মার্চ ৩৯.৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা উঠেছিল।

আলিপুর হাওয়া অফিসের তথ্য বলছে, পুরুলিয়া, আসানসোল, শ্রীনিকেতনকেও পিছনে ফেলেছে কলকাতা। এ দিন ওই তিনটি এলাকায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল যথাক্রমে ৩৮.৩, ৩৮.৪ এবং ৩৬.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। বাঁকুড়া, পশ্চিম মেদিনীপুরে প্রবল গরম পড়েছে। ওই দুই শহরে এ দিন সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল যথাক্রমে ৪০.৩ এবং ৪২.৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

Advertisement

মার্চেই এমন গরমে রীতিমতো হাসফাঁস করছেন মানুষজন। ভোটের লাইনে দীর্ঘ ক্ষণ দাঁড়িয়ে যাতে ভোটাররা অসুস্থ না-হয়ে পড়েন সে ব্যাপারে সতর্ক করছেন চিকিৎসকেরা। শুষ্ক গরম থেকে বাঁচতে পর্যাপ্ত জলপান এবং প্রয়োজনে নুন-চিনির জল খেতে বলছেন তাঁরা। সরাসরি রোদ থেকে বাঁচতে টুপি, ছাতা ব্যবহার করার পরামর্শও দিয়েছেন চিকিৎসকেরা। এ দিনই কলকাতা ট্র্যাফিক পুলিশের কর্মীদের হাতে ছাতা, সানগ্লাস, ওআরএস তুলে দেন পুলিশ কমিশনার সৌমেন মিত্র।

অনেকেই বলছেন, পুরুলিয়া, আসানসোলে শুষ্ক গরম নতুন নয়। কিন্তু কলকাতা বা গাঙ্গেয় বঙ্গে এমন শুষ্ক গরম দেখা যায় না। তা হলে এমন পরিস্থিতি কেন? আলিপুর আবহাওয়া দফতরের অধিকর্তা গণেশকুমার দাস বলছেন, ‘‘পশ্চিম দিক থেকে শুষ্ক, গরম হাওয়া জোরালো ভাবে রাজ্যে ঢুকছে। এর পাশাপাশি বঙ্গোপসাগরে কোনও উচ্চচাপ বলয় নেই। তার ফলে জলীয় বাষ্প গাঙ্গেয় বঙ্গের পরিমণ্ডলে ঢুকতে পারছে না। তার জেরেই এমন পরিস্থিতি।’’

গণেশবাবুর আশ্বাস, সপ্তাহান্তে তাপমাত্রা কমতে পারে। আবহবিদদের একাংশ বলছেন, শুক্রবার ও শনিবার নাগাদ গাঙ্গেয় বঙ্গের কোথাও কোথাও ঝড়বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। তার জেরে কিছুটা স্বস্তি মিলতে পারে।

Advertisement