E-Paper

দম্পতির দেহ উদ্ধার, সুইসাইড নোট পড়ে প্ররোচনার অভিযোগ

কলকাতা পুলিশ জানিয়েছে, মৃতদের নাম বিকাশ দাস (৬৫) ও বাসন্তী দাস (৬৩)। একটি শাড়ির দু’টি অংশ দিয়ে স্বামী-স্ত্রী গলায় ফাঁস দিয়েছিলেন বলে প্রাথমিক তদন্তে জানিয়েছে পুলিশ। বাড়ির মালকিনের সঙ্গে পুলিশ কথা বলছে।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১৭ মার্চ ২০২৬ ০৬:৪৪

—প্রতীকী চিত্র।

চরম আর্থিক সঙ্কটের সম্মুখীন হয়েছিলেন দম্পতি। ছ’মাস ধরে বাড়ি ভাড়া বকেয়া ছিল। ভাড়া মিটিয়ে দেওয়ার জন্য বাড়ির মালিকও ক্রমাগত চাপ দিচ্ছিলেন। এমন অবস্থায় উদ্ধার হল ওই দম্পতির ঝুলন্ত দেহ। রবিবার সন্ধ্যায় ঘটনাটি জানাজানি হতেই চাঞ্চল্য ছড়ায় হরিদেবপুরের দাসপাড়া রোড এলাকায়। সুইসাইড নোট পড়ে গোটা ঘটনা জানাজানি হয়। ওই দম্পতির এ হেন পরিণতির জন্য আত্মীয়দের তরফে বাড়ির মালিক-সহ কয়েক জনের বিরুদ্ধে আত্মহত্যায় প্ররোচনা দেওয়ার অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। তদন্ত শুরু করেছে হরিদেবপুর থানার পুলিশ।

কলকাতা পুলিশ জানিয়েছে, মৃতদের নাম বিকাশ দাস (৬৫) ও বাসন্তী দাস (৬৩)। একটি শাড়ির দু’টি অংশ দিয়ে স্বামী-স্ত্রী গলায় ফাঁস দিয়েছিলেন বলে প্রাথমিক তদন্তে জানিয়েছে পুলিশ। বাড়ির মালকিনের সঙ্গে পুলিশ কথা বলছে। তিনি কেমন আচরণ করেছেন, তা-ও দেখা হচ্ছে। তদন্তকারীদের যুক্তি, বাড়ির মালিক ভাড়া চাইতেই পারেন। কিন্তু ভাড়া চাইলেই যদি কেউ আত্মহত্যা করেন, সেটা বাড়ির মালিকের দোষ হতে পারে না। এ ক্ষেত্রে বাড়ির মালিক কোনও অমানবিক আচরণ করেছেন কিনা, কোনও হুমকি দিয়েছেন কিনা, সে সব দেখা হচ্ছে। বিকাশের লেখা নোটে উল্লিখিত আরও একাধিক ব্যক্তি ও মহিলার খোঁজ চলছে।

রবিবার সন্ধ্যায় দাসপাড়া রোডের ওই বাড়ির আশপাশের আবাসিকেরা আঁতকে ওঠেন বারান্দায় শাড়ির ফাঁস থেকে প্রৌঢ়ার ঝুলন্ত দেহ দেখে। এর পরেই হইচই শুরু হয়। পুলিশে খবর দেন প্রতিবেশীরা। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে বাসন্তীর দেহ উদ্ধার করে। এর পরে ঘরে ঢুকে পুলিশ বিকাশকেও শাড়ির ফাঁসে ঝুলতে দেখে। একই শাড়ির দু’টি অংশ ফাঁসের জন্য ব্যবহার করা হয় বলে পুলিশ জানিয়েছে। দম্পতি আত্মঘাতী হয়েছেন বলেই দাবি পুলিশের। দেহ দু’টি উদ্ধার করে এম আর বাঙুরে নিয়ে গেলে তাঁদের মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসকেরা।

পুলিশ জানায়, প্রাথমিক ভাবে অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা রুজু করা হলেও সোমবার দম্পতির এক আত্মীয় থানায় আত্মহত্যায় প্ররোচনা দেওয়ার মামলা দায়ের করেন। এর পরেই সুইসাইড নোটে উল্লেখ থাকা বাড়ির মালকিন-সহ একাধিক ব্যক্তি ও মহিলার বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের হয়।

তদন্তকারীরা জানান, ওই প্রৌঢ় দম্পতির কোনও সন্তান নেই। দাসপাড়া রোডের একটি খুব ছোট ঘরে তাঁরা দু’বছর ধরে ভাড়া ছিলেন। বিকাশ দালালির কাজ করতেন।আর বাসন্তী ছিলেন আয়া। সুইসাইড নোট থেকে জানা গিয়েছে, গত ছ’মাস ধরে তাঁরা আর্থিক দুরবস্থারমধ্যে ছিলেন। মেটাতে না পারায় বাড়ির ভাড়া বাকি পড়েছিল। বাড়ির মালকিন ভাড়ার জন্য ক্রমাগতচাপ দিচ্ছিলেন। সুইসাইড নোটে বাড়ির মালকিনের সঙ্গে আরও একাধিক নাম রয়েছে। সেই সব লোকজনের এই ঘটনায় ভূমিকা কী, তা অবশ্য সুইসাইড নোটে স্পষ্ট নয়। তাঁদের পরিচয়ও স্পষ্ট করে বলা নেই। তাঁরা অন্য পাওনাদার কিনা, তাঁদের এ ক্ষেত্রে কী ভূমিকা, সবটাই খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

Suicide Financial Burden Suicide Case

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy