×

আনন্দবাজার পত্রিকা

Advertisement

০৭ মার্চ ২০২১ ই-পেপার

মৃত্যুর পরে এ বার শেষকৃত্যের জন্যও অপেক্ষা বৃদ্ধের

সুপ্রকাশ মণ্ডল
কলকাতা ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২১ ০৫:১৭
গত শুক্রবার হাসপাতালে মৃত্যু হয় অশোকবাবুর

গত শুক্রবার হাসপাতালে মৃত্যু হয় অশোকবাবুর
প্রতীকী চিত্র

অর্থ নয়, সময় নয়, সাহায্য নয়। দরকার ছিল শুধু একটি চিঠির। দাদার দেহ দাহ করার জন্য সেই চিঠিও পুলিশকে দিতে তিনি অপারগ বলে জানালেন কলকাতার হাসপাতালে মৃত অস্ট্রেলীয় নাগরিক অশোক চক্রবর্তীর ভাই। অশোকবাবুর স্ত্রী-কন্যারও সন্ধান মিলেছে অস্ট্রেলিয়ায়। কিন্তু অসুস্থ অশোকবাবুর খোঁজ নেননি তাঁরা। পরিজনেদের সন্ধান মিললেও পুলিশের খাতায় অশোকবাবুর দেহ এখন ‘বেওয়ারিশ লাশ’।

এই অবস্থায় অশোকবাবুর সৎকারে আইনি জটিলতা তৈরি হয়েছে। ময়না-তদন্তের পরে আপাতত অশোকবাবুর দেহ রাখা পুলিশ মর্গে। এ দিকে, বৃদ্ধের ভাই সৌমিত্র চক্রবর্তীর এ হেন আচরণে মর্মাহত অশোকবাবুর বন্ধুরা। তাঁরা জানান, ভাইকে মানুষ করেছিলেন অশোকবাবুই।

গত ২ ডিসেম্বর পুলিশ অশোকবাবুকে অচেতন অবস্থায় রাস্তায় পড়ে থাকতে দেখে শম্ভুনাথ পণ্ডিত হাসপাতালে ভর্তি করে। কয়েক দিনের চিকিৎসায় কিছুটা সুস্থ হন তিনি। ব্যাগে তাঁর নামে অস্ট্রেলিয়ার একটি পাসপোর্ট পাওয়া যায়। হাসপাতাল থেকে যোগাযোগ করা হয় ওয়েস্ট বেঙ্গল রেডিয়ো ক্লাবের সম্পাদক অম্বরীশ নাগ বিশ্বাসের সঙ্গে।

Advertisement

তাঁরা কলকাতায় অস্ট্রেলিয়ার দূতাবাসে পুরো ঘটনার কথা জানান। দূতাবাস জানিয়ে দেয়, অশোকবাবু সেই দেশেরই নাগরিক। অস্ট্রেলিয়া-প্রবাসী বিজ্ঞানী গোরাচাঁদ ঘোষ সিডনিতে অশোকবাবুর স্ত্রী-কন্যাকে খুঁজে বার করেন। তাঁর স্ত্রী জানিয়েছিলেন, অশোকবাবুর সঙ্গে তাঁর বিচ্ছেদ হয়ে গিয়েছে। তবুও মানবিকতার খাতিরে তাঁরা কিছু করতে চান।

এর পরে অম্বরীশবাবুরা শিলিগুড়িতে খোঁজ পান অশোকবাবুর ভাই সৌমিত্রবাবুর। কিন্তু তিনি জানিয়ে দেন, শারীরিক কারণে তিনি দাদাকে দেখতে আসতে পারবেন না। আর আর্থিক কারণে দাদার দায়িত্ব নেওয়াও তাঁর পক্ষে সম্ভব নয়।

সংবাদপত্রে অশোকবাবুর খবর এবং ছবি দেখে তাঁকে চিনতে পারেন এক সময়ের সহকর্মী সুশান্ত পাল। সুশান্তবাবু এবং তাঁর অন্য সহকর্মীরা ঠিক করেন, অসুস্থ বন্ধুর দায়িত্ব সকলে মিলেই নেবেন।। কিন্তু সেই সুযোগ মেলেনি। তার আগেই গত শুক্রবার হাসপাতালে মৃত্যু হয় অশোকবাবুর।

হ্যাম রেডিয়ো ক্লাবই বৃদ্ধের শেষকৃত্যের দায়িত্ব নিয়েছিল। কিন্তু এই কাজের জন্য সৌমিত্রবাবুর অনুমতি দরকার ছিল। তিনি প্রথমে চিঠি পাঠাবেন বলে জানালেও পরে বেঁকে বসেন।

অনুমতি দিতে কী অসুবিধা? ফোনে সৌমিত্রবাবু বলেন, “অর্থ, লোকবল বা শারীরিক ক্ষমতা— কোনওটাই আমার নেই।’’ কিন্তু সে সব তো কেউ চায়নি। দেওয়ার কথা তো একটি অনুমতিপত্র! সৌমিত্রবাবু বলেন, “দাদার মৃত্যুর খবর পাওয়ার পর থেকে আমি খেতে পর্যন্ত পারিনি।’’ তা হলে তাঁর এমন পরিণতি তিনি মেনে নিচ্ছেন কেন? বৃদ্ধের ভাইয়ের জবাব, “আমি অসহায়! আমার লেখার ক্ষমতা পর্যন্ত নেই।’’

পুলিশ জানিয়েছে, পরিজনেদের অনুমতি না মিললে অশোকবাবুর দেহ দাবিদারহীন হিসেবে সৎকার করতে হবে। কিন্তু, সেখানেও অসুবিধা। যে হেতু অশোকবাবু অস্ট্রেলিয়ার নাগরিক, তাই তাদের দূতাবাসে বিষয়টি জানানো হয়েছে। সেখান থেকে কী জবাব আসে, আপাতত সেই দিকেই তাকিয়ে পুলিশ।



Tags:

Advertisement