Advertisement
E-Paper

গিরিশ পার্কে বিজেপি-তৃণমূলের মধ্যে পাথর ছোড়াছুড়ি! বৌবাজার থানার ওসি-সহ জখম অনেকে, মন্ত্রী শশী পাঁজার বাড়িতেও হামলা

বিজেপির অভিযোগ, তাদের ব্রিগে়ডমুখী বাসে তৃণমূল পাথর ছোড়ে, সেখান থেকেই গোলমালের সূত্রপাত। তৃণমূলের পাল্টা দাবি, মন্ত্রীর বাড়িতে হামলা এবং ভাঙচুরের পরেই তারা প্রতিরোধে নামে।

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১৪ মার্চ ২০২৬ ১৩:৫৬
শনিবার দুপুরে তৃণমূল এবং বিজেপির সংঘর্ষে উত্তপ্ত গিরিশ পার্ক।

শনিবার দুপুরে তৃণমূল এবং বিজেপির সংঘর্ষে উত্তপ্ত গিরিশ পার্ক। — নিজস্ব চিত্র।

গিরিশ পার্কে রাজ্যের মন্ত্রী শশী পাঁজার বাড়ি লক্ষ্য করে পাথর ছোড়ার অভিযোগ উঠল। তৃণমূল কর্মীদের দাবি, ব্রিগেডে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সভায় যাওয়ার সময় বিজেপি কর্মীরা এ সব করেছেন। মন্ত্রীর অভিযোগ, তিনিও আক্রান্ত হয়েছেন। বিজেপির পাল্টা অভিযোগ, গিরিশ পার্ক দিয়ে যাওয়ার সময় তাদের নেতা-কর্মীদের বাস লক্ষ্য করে ইট ছোড়ে তৃণমূল। পুলিশ নিষ্ক্রিয় ছিল বলেও তাঁদের অভিযোগ। এই ঘটনায় আহত হয়েছেন বৌবাজার থানার ওসি বাপ্পাদিত্য নস্কর। বিজেপি জানিয়েছে, দলের উত্তর কলকাতা জেলা সভাপতি তমোঘ্ন ঘোষ-সহ বেশ কয়েক জন কর্মী আহত হয়েছেন। তমোঘ্নকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। ব্রিগেডে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর মুখেও উঠে এসেছে কর্মীদের আক্রান্ত হওয়ার প্রসঙ্গ। গিরিশ পার্কে মোতায়েন করা হয়েছে পুলিশবাহিনী। ঘটনাস্থলে যান কলকাতা পুলিশের ডিসি (সেন্ট্রাল) ইন্দিরা মুখোপাধ্যায়।

ভেঙেছে মন্ত্রী শশী পাঁজার বাড়ির জানলার কাচ।

ভেঙেছে মন্ত্রী শশী পাঁজার বাড়ির জানলার কাচ। ছবি: সারমিন বেগম।

শনিবার দুপুরে ব্রিগেডে সভা রয়েছে মোদীর। গিরিশ পার্কে তৃণমূল কর্মীদের একাংশ জানিয়েছেন, সেই সভায় যোগ দিতে যাওয়ার সময়ে একদল বিজেপি কর্মী শশীর বাড়ি লক্ষ্য করে পাথর ছোড়েন। শশী বলেন, ‘‘বিজেপির গুন্ডারা এ সব করেছে। আজ যে বাসগুলি ব্রিগেডে যাচ্ছে, সেগুলিতে রয়েছে ইট, কাচের বোতল, বোমা। বহিরাগত গুন্ডাদের নিয়ে তারা ব্রিগেডে যাচ্ছে। গিরিশ পার্ক মেন রোডে আমার বাড়িতে হামলা করেছে।’’

গিরিশ পার্কে মোতায়েন করা হয়েছে পুলিশ।

গিরিশ পার্কে মোতায়েন করা হয়েছে পুলিশ। — নিজস্ব চিত্র।

কী ভাবে ঘটনার সূত্রপাত? শশী জানিয়েছেন, গিরিশ পার্কে তাঁর বাড়ির আশপাশে ‘বয়কট বিজেপি’ লেখা পোস্টার, ফ্লেক্স ছিল। বিজেপি কর্মীরা সেখান দিয়ে যাওয়ার সময় বাস থেকে নেমে এসে সে সব পোস্টার ছিঁড়ে দেন। তার পরে বাসে উঠে যান। এর পরে আবার তৃণমূল কর্মীরা সেই পোস্টার লাগাতে গেলে বাস থেকে নেমে এসে বিজেপি কর্মীরা মারধর শুরু করেন বলে অভিযোগ।

নিজের আঘাত দেখাচ্ছেন এক ব্যক্তি।

নিজের আঘাত দেখাচ্ছেন এক ব্যক্তি। — নিজস্ব চিত্র।

শশী জানান, সেই সময় তাঁর বাড়ি লক্ষ্য করেও ঢিল ছোড়া হয়। জানলার কাচ ভেঙে দেওয়া হয়। শশীর কথায়, ‘‘এরা খুনও করতে পারে। এরা গুন্ডা। গণতন্ত্রের খুন করা হয়েছে। ওঁদের দুঃসাহস দেখুন!’’ পরে সাংবাদিক বৈঠক করে রাজ্যের মন্ত্রী ব্রাত্য বসু বলেন, ‘‘প্রধানমন্ত্রী আজ বলেন পরিবর্তন হবে, প্রতিটা হিসাব বুঝে বুঝে নেওয়া হবে। এই হুমকি যে তিনি দিলেন, তার হাতেগরম নিদর্শন গিরিশ পার্কে রাস্তার উপর দেখলাম। আমার সহকর্মীর বাড়িতে ভাঙচুর চালানো হয়। প্রধানমন্ত্রী আসায় কর্মীরা এতটা উত্তেজিত হয়েছেন যে, যখন তাঁরা জানতে পারেন গিরিশ পার্কে ওটা মন্ত্রীর বাড়ি, তখন বাড়ি লক্ষ্য করে ঢিল ছোড়েন। বর্বরের মতো বাড়ি আক্রমণ করা হয়।’’ ব্রাত্য বলেন, ‘‘স্বাধীনতার পরে গুজরাতে এক সাংসদ খুন হন। কিন্তু তা ছাড়া কোনও মন্ত্রীর বাড়ি এ ভাবে আক্রমণ করা হচ্ছে বলে প্রাক্‌নজির খুঁজে পাইনি।’’ গিরিশ পার্কের ঘটনা নিয়ে এক্স হ্যান্ডলে পোস্ট করেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি লেখেন, ‘‘মন্ত্রী শশী পাঁজার উপর জঘন্য, কাপুরুষোচিত আক্রমণের নিন্দা জানাই। তাঁর বাড়িতে ভাঙচুর এবং লুটপাট হয়েছে। আমাদের দলের কর্মীদেরও মারধর করা হয়েছে।’’ অভিষেকের কথায়, ‘‘শহরে প্রধানমন্ত্রীকে দেখে উৎসাহিত বিজেপির গুন্ডারা রাজ্যের মন্ত্রীর উপর হামলা চালিয়েছে। এটা শুধু একজন মহিলার উপর নয়, রাজ্যের প্রতিটি মহিলার উপর আক্রমণ।’’

বিজেপির অভিযোগ, তৃণমূল কর্মীরা তাদের বাস লক্ষ্য করে ইট ছোড়েন। আহত হন বেশ কয়েক জন বিজেপি কর্মী। আহত হন বিজেপির উত্তর কলকাতা জেলা সভাপতি তমোঘ্ন। তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। ব্রিগেডগামী বাসেও ভাঙচুর করা হয়েছে বলে অভিযোগ বিজেপির। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার একটি ভিডিয়ো দেখিয়ে বলেন, ‘‘আমার কাছে ভিডিয়ো রয়েছে। শশী পাঁজার ছেলেরা আমাদের বাসে ঢিল মারছে। গোটা রাজ্যের মানুষের দেখা প্রয়োজন, যে ওরা গণতন্ত্রকে কতটা সম্মান করে। গাড়ি আটকাতে শশী পাঁজা সকল কাউন্সিলরদের ডেকে এই কাজ করেছে। পুলিশ আক্রমণ আটকানোর চেষ্টা করেনি।’’ তিনি আরও বলেন, ‘‘অঞ্চলের সকল কাউন্সিলর এই ঘটনা সঙ্গে জড়িত। মাথায় শশী পাঁজা। নিজেরা যেমন বিদ্যাসাগরের মূর্তি ভেঙেছিল, সে ভাবেই এখন চেষ্টা করছে। যত ভোট এগিয়ে আসছে, ওরা ভয় পাচ্ছে। ’’

এই ঘটনায় আহত হয়েছেন বৌবাজার থানার ওসি। গিরিশ পার্কে মোতায়েন করা হয়েছে পুলিশবাহিনী। পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে সেখানে গিয়েছেন ডিসি সেন্ট্রাল।

হাসপাতালে চিকিৎসা চলছে বিজেপি নেতা তমোঘ্ন ঘোষের।

হাসপাতালে চিকিৎসা চলছে বিজেপি নেতা তমোঘ্ন ঘোষের। ছবি: সংগৃহীত।

শশীর দফতরের কর্মী তরুণ সাহা বলেন, ‘‘বাইরে মন্ত্রী শশী কয়েক জনের সঙ্গে কথা বলছিলেন। হঠাৎই ইট, পাটকেল ছোড়া হতে থাকে। তিনি দ্রুত ভিতরে চলে আসেন। কর্মীদের বাঁচাতে গিয়ে মন্ত্রীরও আঘাত লেগেছে।’’ আর এক তৃণমূল কর্মীর দাবি, শশীর বাড়ি লক্ষ্য করে ইট ছোড়ার পরে বিজেপি কর্মীরা পালানোর চেষ্টা করেন। অভিযুক্তেরা দাবি করেন, তাঁরা ত্রিপুরা থেকে এসেছেন।

(প্রতিবেদনটি যখন প্রথম প্রকাশিত হয়েছিল, তখন উপরের একটি ছবিতে নিজের আঘাত দেখাচ্ছেন যিনি, তাঁকে বিজেপি কর্মী বলে উল্লেখ করা হয়েছিল। অনিচ্ছাকৃত এই ভুলের জন্য আমরা ক্ষমাপ্রার্থী)

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy