২০২৪ সালের ১২ নভেম্বর। কলকাতা পুরসভার স্বাস্থ্য বিমা ফাইল নম্বর ৭০২। ওই ফাইল অনুযায়ী, কলকাতার তৎকালীন মেয়র ফিরহাদ হাকিমের অফিসার অন স্পেশাল ডিউটি (ওএসডি) কালীচরণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের চিকিৎসার খরচ বাবদ দেড় লক্ষ টাকা বরাদ্দ করা হয়েছিল। তবে, তিনি যে রোগের চিকিৎসা করিয়েছিলেন, তার জন্য এক লক্ষ টাকা পাওয়ার যোগ্য ছিলেন বলে সূত্রের খবর।
২০২৪ সালের ২০ নভেম্বর। সংবাদমাধ্যমে খবরটি প্রকাশিত হতেই ওই দিন সন্ধ্যায় কালীচরণ পুরসভার স্বাস্থ্য বিমা সেল ও অর্থ বিভাগের কর্মী-আধিকারিকদের তলব করেছিলেন। স্বাস্থ্য বিমা বাবদ অতিরিক্ত ৫০ হাজার টাকা অনলাইনে ওই দিনই ফিরিয়ে দিয়েছিলেন। এই খবর প্রকাশ্যে আনার জন্য সেই সময়ে পুরসভার অর্থ দফতরের একাধিক জনকে বদলিও করা হয়েছিল বলে পুরসভাসূত্রের খবর।
বছর দুয়েক আগে এ ভাবেই নিয়ম ভেঙে স্বাস্থ্য বিমার টাকা পাওয়ার অভিযোগ উঠেছিল কালীচরণের বিরুদ্ধে। অভিযোগ, তিনি যে রোগের চিকিৎসার খরচ বাবদ পুরসভার কাছ থেকে স্বাস্থ্য বিমার বিল করেছিলেন, তাতে তিনি এক লক্ষ টাকা পাওয়ার যোগ্য ছিলেন। কিন্তু কলকাতা পুরসভার ২০২৪ সালের ১২ নভেম্বরের স্বাস্থ্য বিমার ফাইল নম্বর ৭০২ অনুযায়ী দেখা যাচ্ছে, তাঁর স্বাস্থ্য বিমার খরচ বাবদ দেড় লক্ষ টাকা বরাদ্দ করা হয়েছিল। ফাইলের নীচে সই ছিল পুরসভার তৎকালীন মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিকের। তিনি এখন অবসরপ্রাপ্ত।
পুরসভা সূত্রের খবর, ২০২৪ সালের নভেম্বরে কালীচরণ মেরুদণ্ডে স্নায়ুর ব্যথার জন্য ই এম বাইপাসের একটি বেসরকারি হাসপাতালে ছোট অস্ত্রোপচার করিয়েছিলেন। তিনি ৬ নভেম্বর সন্ধ্যা ৭টা নাগাদ হাসপাতালে ভর্তি হন। পরের দিন দুপুর ৩টে নাগাদ হাসপাতাল থেকে ছাড়া পান।
স্বাস্থ্য বিমা সংক্রান্ত পুর কমিশনারের বিজ্ঞপ্তির (২০১৭-’১৮ সালে মিউনিসিপ্যাল কমিশনার সার্কুলার নম্বর ২) আট নম্বর অনুচ্ছেদে বলা ছিল, বিমার টাকা পেতে সংশ্লিষ্ট পুরকর্মীকে কমপক্ষে ২৪ ঘণ্টা হাসপাতালে ভর্তি থাকতে হবে। কিন্তু, বেসরকারি হাসপাতাল থেকেপাওয়া তথ্যে দেখা গিয়েছে, কালীচরণ ২৪ ঘণ্টা হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন না। পুরসভা সূত্রের খবর, স্বাস্থ্যবিমার টাকা পেতে কমপক্ষে ২০ দিন সময় লাগে। প্রথমে পুর সচিবের দফতরে আবেদন করতে হয়। আবেদন যাচাই করেন পুরসভার স্বাস্থ্য দফতরের নির্দিষ্ট মেডিক্যাল অফিসারেরা। তাঁরা সম্মতি দিলে পুর সচিব দেখে তা অর্থ দফতরে পাঠান। অভিযোগ, প্রাক্তন মেয়রেরওএসডি কালীচরণের ক্ষেত্রে এ সব কোনও ‘নিয়ম’ মানা হয়নি। কালীচরণ গ্রুপ ‘এ’ আধিকারিক। এ ক্ষেত্রে ওই টাকা পেতে অনলাইনে আবেদন করাটাই নিয়ম। গ্রুপ ‘সি’ ও গ্রুপ ‘ডি’র কর্মীরা দরখাস্ত করে আবেদন করেন। কিন্তু অভিযোগ, টাকা দ্রুত পেতে কালীচরণ অফলাইনে আবেদন করেছিলেন। পুরসভার কর্মীদের একাংশের অভিযোগ, ‘‘সাধারণ কর্মচারীদের স্বাস্থ্য বিমার টাকা পেতে রীতিমতো হিমশিম খেতে হয়। এ ক্ষেত্রে মেয়রের ওএসডি বলেই কি বিশেষ ছাড় পেয়েছিলেন কালীচরণ?’’
অভিযোগ, বিষয়টি প্রকাশ্যে এলেও কোনও ব্যবস্থা নেননি পুর কর্তৃপক্ষ। উল্টে কালীচরণকে সমর্থন করতেই দেখা গিয়েছে।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)