E-Paper

জোড়াবাগানে ভাঙল বাড়ি, অল্পের জন্য রক্ষা বাসিন্দাদের

ওই বাড়িতে থাকতেন দুই ভাই, দেবাশিস মিত্র, শুভাশিস মিত্র এবং তাঁদের ৭৪ বছরের অসুস্থ মা গোপা মিত্র।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ৩০ জুন ২০২৬ ০৮:৩৯
অঘটন: ভেঙে পড়েছে পুরনো বাড়ির দোতলার একাংশ। সোমবার, উত্তর কলকাতার জোড়াবাগানের কাশী দত্ত স্ট্রিটে।

অঘটন: ভেঙে পড়েছে পুরনো বাড়ির দোতলার একাংশ। সোমবার, উত্তর কলকাতার জোড়াবাগানের কাশী দত্ত স্ট্রিটে। ছবি: সুমন বল্লভ।

সোমবার ভোর পৌনে ৬টা। আচমকাই বিকট শব্দে কেঁপে উঠল জোড়াবাগানের ২০ নম্বর ওয়ার্ডের ২৪ নম্বর কাশী দত্ত স্ট্রিটের বাড়িটি। মুহূর্তের মধ্যে ভেঙে পড়ল সেই বাড়ির দোতলার সামনের অংশ। এই ঘটনায় অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে যান বাড়ির বাসিন্দারা। হতাহতের ঘটনা না ঘটলেও পুরনো বাড়িটির নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তারাতলায় গুদাম-বিপর্যয়ের রেশ কাটতে না কাটতেই আবার একটি বাড়ি-বিপর্যয়ের ঘটনায় অস্বস্তিতে পুরসভাও।

পুলিশ জানিয়েছে, ওই বাড়িতে থাকতেন দুই ভাই, দেবাশিস মিত্র, শুভাশিস মিত্র এবং তাঁদের ৭৪ বছরের অসুস্থ মা গোপা মিত্র। এ ছাড়াও বাড়ির নীচের তলায় থাকতেন তাঁদের পারিবারিক ছাপাখানা ব্যবসার এক কর্মচারী। ওই পরিবারের দাবি, রবিবারের ভারী বৃষ্টির পর থেকেই বাড়ির দুর্বল অংশে সমস্যা দেখা দেয়। শুভাশিস বলেন, ‘‘ভোরে হঠাৎ বিকট শব্দে ঘুম ভাঙে। দেখি, দোতলার সামনের অংশটা ভেঙে পড়েছে। তড়িঘড়ি ছুটে আসি।’’ ঘটনার পরে জোড়াবাগান থানার পুলিশ এলাকা ঘিরে ফেলে। কলকাতা পুরসভার বিল্ডিং বিভাগের আধিকারিকেরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তাঁরা জানান, বাড়িটির ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। রিপোর্টের ভিত্তিতে পরবর্তী পদক্ষেপ করা হবে। পুলিশ সূত্রের খবর, পরিবারের সদস্যদের আপাতত ২০ নম্বর ওয়ার্ডের কমিউনিটি হলে স্থানান্তরিত করা হয়েছে। ওয়ার্ডের মেডিক্যাল অফিসার সায়ন পাহাড়ি বলেন, ‘‘পরিবারের সকলের শারীরিক পরীক্ষা করা হয়েছে। গোপাদেবীর রক্তচাপ ও নাড়ির গতি স্বাভাবিক রয়েছে। প্রয়োজনীয় ওষুধ এবং ওআরএস দেওয়া হয়েছে।’’

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, এলাকার একাধিক বিপজ্জনক বাড়ি নিয়ে বার বার প্রাক্তন পুরপ্রতিনিধি বিজয় উপাধ্যায়কে জানানো হলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। ভেঙে পড়া বাড়িটির পাশের বাড়ির বাসিন্দা বিশাল সোনকার বলেন, ‘‘পাশের বাড়িটি ভাঙায় আমাদের বাড়িও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বহু বার জানিয়েছিলাম, কিন্তু কোনও লাভ হয়নি। এখনও এলাকায় এমন অনেক জরাজীর্ণ বাড়ি রয়েছে।’’ যদিও অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বিজয়। তিনি বলেন, ‘‘বিপজ্জনক বাড়িগুলি নিয়ে একাধিক বার বিল্ডিং বিভাগের সঙ্গে কথা বলেছি। ২০২৫ সালের অক্টোবরের ১৬ তারিখ আধিকারিকেরা এসে পরিদর্শন করে নোটিসও দেন। কিন্তু বাড়ির মালিকেরা নির্দেশ না মানলে আমার পক্ষে বেশি কিছু করা সম্ভব নয়।”

পুরসভার বিল্ডিং বিভাগ সূত্রের খবর, তারা ওই বাড়ি-সহ বেশ কিছু বিপজ্জনক পুরনো বাড়িতে অনেক বার নোটিস দিয়েছে। কিন্তু বাড়ির মালিকেরা কথা শোনেননি। তাঁরা বাড়ি ছাড়তে নারাজ।

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

jorabagan

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy