Advertisement
E-Paper

দুই বাড়ির কোন্দলে সিসিটিভি চায় পাড়া

এক বাড়ির বাসিন্দা সুচিত্রা গুপ্তের অভিযোগ, রাতে প্রায়ই মদের আসর বসে পাশে বিশ্বজিৎ গুপ্তের বাড়িতে। হইহল্লা চলে গভীর রাত পর্যন্ত। তাঁর দাবি, তিনি একাধিক বার প্রতিবাদ করেছেন, অনুরোধ করেছেন। কিন্তু কাজ হয়নি।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২০ জুন ২০১৭ ১৩:০০

লাগোয়া দুই বাড়ির অশান্তিতে অতিষ্ঠ পাড়া-পড়শি। অশান্তি আর তার জেরে লাগাতার হুমকি-পাল্টা হুমকির দাপটে দুই বাড়ির মাঝে সিসিটিভি বসানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন প্রতিবেশীরা। আবেদন গিয়েছে কাউন্সিলরের কাছেও। নাজেহাল পুলিশ।

সিঁথি এলাকার খেয়ালি পার্কের কাছে এই ঘটনায় পুলিশের কাছে বারবার অভিযোগ দায়ের হয়েছে দু’পক্ষের তরফেই। কিন্তু সমাধান হয়নি। পুলিশ জানিয়েছে, মদ্যপানকে কেন্দ্র করে রবিবার রাতে ফের ঝামেলা বাধে প্রদীপ গুপ্তের পরিবারের সঙ্গে বিশ্বজিৎ গুপ্তের পরিবারের। তাঁরা আবার দূর সম্পর্কের আত্মীয়। লাগোয়া দুই বাড়ির এই দুই পরিবারের মধ্যে হাতাহাতির উপক্রম হওয়ায় পুলিশ পৌঁছয় ঘটনাস্থলে। কিন্তু এড়ানো যায়নি সংঘর্ষ। এর পরে দু’পক্ষকেই থানায় এনে অভিযোগ শোনে পুলিশ। অভিযুক্ত সোমনাথ মজুমদারকে আটক করা হলেও সকালে ছেড়ে দেওয়া হয়। এখনও আটক অন্য পক্ষের অভিযুক্ত প্রদীপ গুপ্ত।

এক বাড়ির বাসিন্দা সুচিত্রা গুপ্তের অভিযোগ, রাতে প্রায়ই মদের আসর বসে পাশে বিশ্বজিৎ গুপ্তের বাড়িতে। হইহল্লা চলে গভীর রাত পর্যন্ত। তাঁর দাবি, তিনি একাধিক বার প্রতিবাদ করেছেন, অনুরোধ করেছেন। কিন্তু কাজ হয়নি। পুলিশেও অভিযোগ দায়ের করেছেন বহু বার। রবিবার রাতে সে রকমই হইহল্লা হওয়ায় তিনি প্রতিবাদ করেন বলে জানান সুচিত্রা। তাঁর অভিযোগ, প্রতিবাদ করতেই বিশ্বজিৎ গুপ্ত, তাঁর স্ত্রী সোমা গুপ্ত এবং শ্যালক সোমনাথ মজুমদার জোর করে ঘরে ঢুকে ভাঙচুর শুরু করেন। সুচিত্রাদেবীর পনেরো বছরের ছেলেকেও মারতে যান। এ সময়ে তিনি পুলিশে খবর দিলে পুলিশ ঘটনাস্থলে আসে। তত ক্ষণে সুচিত্রাদেবীর স্বামী প্রদীপ গুপ্তকে মাটিতে ফেলে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ। স্বামীকে বাঁচাতে গেলে আঁচড় বসে যায় সুচিত্রাদেবীর হাতেও। তাঁর দাবি, পুলিশ সব দেখেও নিষ্ক্রিয় ছিল।

অন্য দিকে, পাশের বাড়ির বিশ্বজিৎ গুপ্তের স্ত্রী সোমাদেবীর দাবি, মদের আসর বসানোর অভিযোগ মিথ্যা। বরং ওই পরিবারের তরফেই বিনা কারণে গালিগালাজ করা হয় তাঁর কিশোরী মেয়েকে। কুরুচিকর মন্তব্য করা হয় পরিবারের উদ্দেশে। অপর পক্ষের উস্কানির কারণেই বিষয়টি মারধর পর্যন্ত গড়ায় বলে দাবি তাঁর। তাঁর অভিযোগ, এর আগে এ রকম অশান্তির জেরে তাঁদের বাড়িতে আগুন পর্যন্ত লাগিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন প্রদীপ গুপ্ত। রাতে থানায় গিয়ে প্রদীপ গুপ্তের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেন তাঁরাও।

পুলিশ জানিয়েছে, এই অভিযোগ আর পাল্টা অভিযোগের ভিড়ে তাঁরা নাজেহাল। সমস্যা নতুন নয়। বহু বছর ধরেই দু’টি পরিবার তুচ্ছাতিতুচ্ছ বিষয় নিয়ে পরস্পরের সঙ্গে বড় অশান্তিতে জড়িয়ে পড়ে। কখনও গ্রেফতার হয় এ পক্ষের কেউ, কখনও বা অপর পক্ষের। সমাধান কিছুতেই হয় না।

প্রতিবেশীদের কথায়, ‘‘যে কোনও দিন বড় বিপদ ঘটতে পারে। কখনও কেউ এই বাড়িতে বালতি বালতি জল ছুড়ছে, তো কখনও কেউ আগুন লাগাতে যাচ্ছে। আমাদের শান্তি তো নেই-ই, নিরাপত্তাও নেই। সবাই চাঁদা তুলে সিসিটিভি লাগানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছি। কাউন্সিলরকে জানিয়েছি।’’ কাউন্সিলর গৌতম হালদার জানিয়েছেন, তিনি বিষয়টি জানেন। এর আগে হস্তক্ষেপও করেছেন, তবে লাভ হয়নি। তাঁর কথায়, ‘‘পুলিশ আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিক। সিসিটিভি বসানোর আবেদন পেয়েছি। স্থানীয় মানুষ যদি নিরাপত্তার অভাব বোধ করেন, তবে অবশ্যই সহযোগিতা করব সিসিটিভি বসানোর ব্যাপারে।’’

CCTV Colony Quarrel Family সিসিটিভি
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy