ব্রিগেডে জনসভা হচ্ছে, কিন্তু শহরের রাস্তায় মিছিল নেই। বরং আছে বাস-বোঝাই বিজেপি কর্মী-সমর্থকের দল। আছে হাঁসফাঁস গরমে পাতালপথে ‘শান্তির’ ব্রিগেডমুখী যাত্রা। ভোটের আগে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ব্রিগেড রাজনৈতিক উত্তাপ বাড়ালেও মিছিলহীন শহরের রাস্তা জন্ম দিল এক অভিনব অভিজ্ঞতার।
আলিপুর আবহাওয়া দফতরের সূত্র বলছে, শনিবার দুপুরে শহরের তাপমাত্রা ছিল ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। তবে, আদতে গরম অনুভূত হয়েছে আরও পাঁচ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি। মার্চের দ্বিতীয় সপ্তাহে গ্রাম, শহরতলি থেকে ব্রিগেডে এসে শহুরে গরমে কার্যত নাজেহাল হয়েছেন বিজেপি কর্মী-সমর্থকেরা। সকালের দিকে যদিও চিত্রটা ছিল আলাদা। শিয়ালদহ ও হাওড়া স্টেশনে জেলা থেকে আসা কর্মী-সমর্থকদের হেঁটেই ব্রিগেডমুখী হতে দেখা গিয়েছিল। কিন্তু বেলা ১২টা গড়াতেই রাস্তায় বিজেপির পতাকা লাগানো বাসের ভিড় বাড়লেও মিছিলের ভিড় কার্যত উধাও হয়ে যায়।
রাজ্য বিজেপির তরফে জেলা থেকে কর্মীদের আনতে হাজারেরও বেশি বাসের ব্যবস্থা করা হয়েছিল। পাশাপাশি, শহরতলি ও জেলা থেকে লোকাল ট্রেনে করে এ দিন সকালে শিয়ালদহ ও হাওড়া স্টেশনে কর্মীরা এসেছেন। মূলত দুই ২৪ পরগনা, নদিয়া, মুর্শিদাবাদ থেকে আসা বিজেপি কর্মী-সমর্থকেরা এ দিন শিয়ালদহ স্টেশনে নামেন। দুই মেদিনীপুর, বর্ধমান, হুগলি থেকে আসা কর্মীরা নামেন হাওড়ায়। স্টেশনে নেমে ব্রিগেডমুখী মিছিলের পরিকল্পনা থাকলেও তীব্র গরমে তা করা যায়নি। ফলে বাধ্য হয়েই বিকল্প হিসেবে অধিকাংশ মানুষ মেট্রোর ‘শান্তির’ যাত্রাকে বেছে নেন।
দুপুরে শিয়ালদহ মেট্রো স্টেশনে গিয়ে দেখা গেল, শনিবারের চেনা ফাঁকা স্টেশনের ছবি উধাও। উল্টে গেরুয়া টুপি পরা জনতাকে সামলাতে হিমশিম খাচ্ছেন মেট্রোকর্মীরা। টিকিটের লাইনের ভিড় এড়াতে বার বার অ্যাপের সাহায্যে টিকিট কাটার কথা ঘোষণা করা হচ্ছে। একই ছবি দমদম এবং হাওড়া মেট্রো স্টেশনেও। সেখানেও গেরুয়া টুপি পরা যাত্রীদের দাপট ছিল ভাল রকম। নদিয়া থেকে রানাঘাট লোকালে শিয়ালদহ স্টেশনে পৌঁছে মেট্রোর সামনে দাঁড়িয়ে ছিলেন কয়েক জন। তাঁদেরই এক জন, শতদল মণ্ডল বললেন, ‘‘মিছিল করে যাব বলে ব্যানার, পতাকা, পোস্টার সব এনেছিলাম। কিন্তু গরমে কেউ মিছিলে পা মেলাতেই রাজি হচ্ছে না। সত্যি বলতে, বাইরের ওই গরমের থেকে মেট্রোর শান্তিই ভাল।’’
কী বলছেন মেট্রোর কর্তারা? মেট্রোর ভিড় আর পাঁচটা শনিবারকে যে হার মানিয়েছে, তা তাঁরা মানছেন। দুপুরের দিকে মেট্রোর দরজা বন্ধ করতে বহু স্টেশনে বেগ পেতে হয়েছে বলে খবর। মেট্রোর মুখ্য জনসংযোগ আধিকারিক এস এস কান্নানের কথায়, ‘‘অন্যান্য শনিবারের তুলনায় যাত্রীদের ভিড় বেশি ছিল। মেট্রোর পরিষেবা সুষ্ঠু এবং স্বাভাবিক ছিল।’’
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)