Follow us on

Download the latest Anandabazar app

© 2021 ABP Pvt. Ltd.

Advertisement

১৮ অক্টোবর ২০২১ ই-পেপার

হাওড়ায় বাড়ি? ঢুকতে দিল না এনআরএস, যন্ত্রণা নিয়েই বাড়ি ফিরে প্রসব, সদ্যোজাত বাঁচল না

নিজস্ব সংবাদদাতা
কলকাতা ১৯ এপ্রিল ২০২০ ০১:৩০
—ফাইল চিত্র।

—ফাইল চিত্র।

ন’মাসের অন্তঃসত্ত্বাকে করোনায় আক্রান্ত হওয়ার ‘ভয়’ দেখিয়ে বাড়ি পাঠানোর অভিযোগ উঠল এনআরএসের কর্তব্যরত চিকিৎসকদের একাংশের বিরুদ্ধে। আতঙ্কিত প্রসূতি হাসপাতালের বদলে নিজের বাড়িতে ফিরে শৌচাগারে পুত্রসন্তান প্রসব করলেন। যদিও সেই সন্তান বাঁচেনি।

ওই প্রসূতি বেসরকারি স্বাস্থ্য পরিষেবার সঙ্গে যুক্ত। এ দিন তিনি জানান, শুক্রবার রাত থেকে তাঁর প্রসব-বেদনা শুরু হয়। তাঁর অভিযোগ, একাধিক বেসরকারি হাসপাতালের সঙ্গে যোগাযোগ করলেও কেউ সন্তানসম্ভবাকে ভর্তি নিতে চায়নি। পারিবারিক সূত্রে এনআরএসের এক স্বাস্থ্য আধিকারিকের সঙ্গে প্রসূতির যোগাযোগ ছিল। তাঁর পরামর্শ মেনে তিনি শনিবার বিকেলে এনআরএসের জরুরি বিভাগে আসেন। তাঁকে স্ত্রীরোগ বিভাগে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। সম্প্রতি এনআরএসে এক প্রসূতির দেহে করোনা পজ়িটিভ ধরা পড়েছে। তরুণী জানান, স্ত্রীরোগ বিভাগে যাওয়া মাত্র তাঁকে জানানো হয়, ওই ঘটনার জন্য সেখানে রোগী ভর্তি বন্ধ রয়েছে। বিষয়টি পরিচিত স্বাস্থ্য আধিকারিককে জানায় ওই প্রসূতির পরিবার। কিন্তু কর্তব্যরত চিকিৎসকেরা কোনও কথা শুনতে রাজি ছিলেন না বলে অভিযোগ। প্রসূতির কথায়, ‘‘প্রতি মুহূর্তে আমাকে বলে যাচ্ছে, এখানে ভর্তির পরে আপনি ও আপনার সন্তানের করোনা হলে আমরা কেউ দায়ী থাকব না। আপনাকে করোনা পজ়িটিভ রোগীর সঙ্গে থাকতে হবে! আমি নিজে স্বাস্থ্য পরিষেবার সঙ্গে যুক্ত। চিকিৎসকেরা যে এত দুর্ব্যবহার করবেন ভাবিনি।’’

তরুণীর দাবি, প্রায় দেড় ঘণ্টা ধরে নানা ভাবে তাঁকে বোঝানো হয়, ওই ওয়ার্ডে ভর্তি হলে করোনা হবেই। শেষ পর্যন্ত মানসিক ভাবে বিপর্যস্ত প্রসূতি কাঁদতে কাঁদতে বাড়ি চলে আসেন। তরুণী বলেন, ‘‘বাড়িতে পৌঁছনোর পরে শৌচাগারে আমার প্রসব হয়ে গেল। আমার সন্তানকে বাঁচাতে পারলাম না। ওরা হাসপাতালে বারবার বলছিল, আমি, আমার বাচ্চা মরে গেলে কেউ দায়ী থাকবে না। বাচ্চাটা আমার মরেই গেল।’’

Advertisement

আরও পড়ুন: রাজ্যে সক্রিয় আক্রান্ত ১৭৮, মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১২, কিট পেলে র‌্যাপিড টেস্ট: মুখ্যসচিব

ঘটনার নিন্দা করে অধ্যক্ষ শৈবাল মুখোপাধ্যায় জানান, সেই সময়ে কারা ডিউটিতে ছিলেন, তাঁদের তালিকা চাওয়া হয়েছে। আগামিকাল, সোমবার অভিযোগের ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

রোগী কল্যাণ সমিতির চেয়ারম্যান তথা চিকিৎসক শান্তনু সেন বলেন, ‘‘অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে। যদি অভিযুক্তদের নির্দিষ্ট ভাবে চিহ্নিত না করা যায়, তা হলে ইউনিট হেড এবং বিভাগীয় প্রধানকে দায়িত্ব নিতে হবে।’’

আরও পড়ুন: কলকাতার বহু পাড়া পুরো সিল করল পুলিশ, দেখে নিন কোথায় কোথায়

আরও পড়ুন

Advertisement