মাছ ধরতে নেমে রবিবার সকালে হাবড়ার কুমড়া পঞ্চায়েতের কলতলা বিশ্বাসপাড়ার একটি পুকুরে মৎস্যজীবীদের জালে উঠেছিল ব্যাগ। খুলতেই বেরিয়ে আসে কিছু আগ্নেয়াস্ত্র ও কার্তুজ। পরে পুলিশ গিয়ে ফের তল্লাশি চালালে আরও কয়েকটি আগ্নেয়াস্ত্র ও কার্তুজ মেলে। সব মিলিয়ে এ দিন মোট আটটি আগ্নেয়াস্ত্র, ৯৭ রাউন্ড কার্তুজ এবং দু’টি ম্যাগাজিন উদ্ধার করা হয়েছে। ঘটনায় আতঙ্ক ছড়ায় এলাকায়।
পুলিশ জানিয়েছে, উদ্ধার হওয়া আগ্নেয়াস্ত্রগুলির উৎস খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সেগুলি কোনও অপরাধমূলক কাজে ব্যবহৃত হয়েছিল কিনা কিংবা এর সঙ্গে কোনও সংগঠিত চক্রের যোগ রয়েছে কিনা, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। আগ্নেয়াস্ত্রগুলির মধ্যে কয়েকটি বেশ আধুনিক। সেগুলি ফরেন্সিক পরীক্ষায় পাঠানো হতে পারে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের প্রশ্ন, এত আগ্নেয়াস্ত্র ও কার্তুজ কী ভাবে পুকুরে এল এবং কারা সেগুলি ফেলে গেল? এ নিয়ে জল্পনাও শুরু হয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, এলাকায় আরও কয়েকটি বড় পুকুর থাকায় সেগুলিতেও তল্লাশি চালানো উচিত। তাঁদের আশঙ্কা, অন্য জলাশয়গুলিতেও অস্ত্র মজুত করে রাখা হয়ে থাকতে পারে।
গ্রামবাসীদের মধ্যে কানন দত্ত বলেন, ‘‘পুকুরের পাশেই আমাদের বাড়ি। এতদিন ধরে এত অস্ত্র এখানে লুকিয়ে রাখা হয়েছিল, ভাবতেই ভয় লাগছে। ভোটের কারণে কি এ সব মজুত করা হয়েছিল?’’ রঞ্জিৎ মণ্ডল নামে আর এক গ্রামবাসী বলেন, ‘‘যারা এই অস্ত্রগুলি এখানে ফেলেছিল, তাদের খুঁজে বার করতে হবে। এলাকায় শান্তি ও নিরাপত্তা বজায় রাখতে প্রশাসনকে কড়া ব্যবস্থা নিতে হবে। আমরা চাই, এলাকায় যেন স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরে আসে।’’
হাবড়ার বিজেপি বিধায়ক দেবদাস মণ্ডলের দাবি, ‘‘ভোটের সময় তৃণমূলের দুষ্কৃতীরা ওই সব আগ্নেয়াস্ত্র জড়ো করেছিল। যাতে ভোটের পরে ব্যবহার করতে পারে। সরকার পরিবর্তন হওয়ায় আতঙ্কে দুষ্কৃতীরা সেগুলি পুকুরে ফেলে দেয়। তবে, কেউ রেহাই পাবে না। পুলিশ তদন্ত করে প্রকৃত দোষীদের খুঁজে বের করবে।’’
বিজেপি বিধায়কের অভিযোগ নিয়ে তৃণমূল নেতৃত্ব কোনও প্রতিক্রিয়া দিতে চাননি। দলের স্থানীয় নেতারা বিষয়টি নিয়ে প্রকাশ্যে মন্তব্য করা থেকে বিরত থেকেছেন।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)