E-Paper

ভোটের পরেও রয়েছে কেন্দ্রীয় বাহিনী, বহু স্কুল বিপাকে

দ্বিতীয় পর্যায়ক্রমিক পরীক্ষার পড়াশোনা ও দ্বাদশ শ্রেণির ক্লাসও শুরু হবে। এই পরিস্থিতিতে স্কুল খুলতে যত দেরি হবে, ততই পড়াশোনার ক্ষতি হবে।

শেষ আপডেট: ০২ মে ২০২৬ ০৮:২৫
—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।

—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।

ভোট শেষ হয়ে গেলেও এখনও বহু স্কুলে রয়ে গিয়েছে কেন্দ্রীয় বাহিনী। ভোটের ফল বেরোনোর পরেও তারা স্কুলে থেকে যাবে কিনা, তা নিয়ে নিশ্চিত নন প্রধান শিক্ষকেরা। তাঁদের দাবি, কেন্দ্রীয় বাহিনীর একটি বড় অংশ ভোটের পরে ফিরে গিয়েছে। এখনও যাঁরা রয়ে গিয়েছেন, তাঁদের স্কুল থেকে অন্যত্র স্থানান্তরিত করা হোক।

কেন্দ্রীয় বাহিনী থাকার কারণে এত দিন বন্ধ থাকা স্কুলগুলি খুলে যাচ্ছে আজ, শনিবার থেকে। সেই সব স্কুলের প্রধান শিক্ষকেরা জানাচ্ছেন, স্কুলখুলেই ৮ মে প্রকাশিত হবে মাধ্যমিকের ফল। শুরু হবে একাদশ শ্রেণির ভর্তি প্রক্রিয়া। দ্বিতীয় পর্যায়ক্রমিক পরীক্ষার পড়াশোনা ও দ্বাদশ শ্রেণির ক্লাসও শুরু হবে। এই পরিস্থিতিতে স্কুল খুলতে যত দেরি হবে, ততই পড়াশোনার ক্ষতি হবে। বিশেষত, দ্বাদশ শ্রেণির ক্লাস নিয়মিত না হলে পড়ুয়াদের তৃতীয় সিমেস্টারের প্রস্তুতি ঠিক মতো হবে না। এখন তৃতীয় ও চতুর্থসিমেস্টার নিয়েই উচ্চ মাধ্যমিকের মূল্যায়ন হয়। শিক্ষকদের মতে, ১১ মে থেকে গরমের ছুটি পড়ে যাবে। তাই ৪ মে ভোটের ফল বেরোনোর পরেও যদি কিছু স্কুলে কেন্দ্রীয় বাহিনী থেকে যায়, তা হলে সেখানে গরমের ছুটির আগে পড়াশোনা শুরু করাই যাবে না।

ভবানীপুরের মিত্র ইনস্টিটিউশনের প্রধান শিক্ষক রাজা দে বলেন, ‘‘এ বার এখনও তেমন গরম পড়েনি। গত কয়েক বছর ধরেএপ্রিলে তীব্র গরম পড়ায় নির্ধারিত সময়ের আগেই গরমের ছুটি দেওয়া হচ্ছিল। এ বার গরমের ছুটি আগেভাগে পড়েনি। তাই স্কুলগুলিতে গরমের ছুটির আগে পর্যন্ত টানা ক্লাস হতে পারত। কিন্তু কেন্দ্রীয় বাহিনী থাকার কারণে কিছু স্কুলে পড়াশোনার ক্ষতি হল।’’

শিক্ষানুরাগী ঐক্য মঞ্চের সাধারণ সম্পাদক কিঙ্কর অধিকারীর মতে, ‘‘জানতে পেরেছি, এখন ৭০০ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী রাজ্যে রয়ে গিয়েছে। ভোট-পরবর্তী হিংসার ঘটনা যাতে না ঘটে, তা নিশ্চিত করতে কিছু কেন্দ্রীয় বাহিনী রাজ্যে থাকবে। তবে তাদের জন্য তো এখন আর স্কুলের দরকার নেই। জেলায় জেলায় প্রচুর কিষাণ মান্ডি, কমিউনিটি হল ফাঁকা পড়ে আছে। সেখানেই তাদের স্থানান্তরিত করা হোক। আমরা বার বার দাবি করেছি, কেন্দ্রীয় বাহিনীর থাকার জন্য আলাদা ব্যবস্থা করা হোক।’’

নারায়ণদাস বাঙুর মেমোরিয়াল মাল্টিপারপাস স্কুলের প্রধান শিক্ষক সঞ্জয় বড়ুয়া বলেন, ‘‘আমাদের স্কুলে এখনও কেন্দ্রীয় বাহিনী আছে। শুনেছি, ৪ মে, অর্থাৎ ফল বেরোনো পর্যন্ত তারা থাকবে। তার পরেও থাকবে কিনা, সেটা এখনও নিশ্চিত নয়। স্কুল শনিবার থেকে খুলেদেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু সেটা সম্ভব হল না।’’

শিয়ালদহের টাকি মাল্টিপারপাস বয়েজ় স্কুলের প্রধান শিক্ষিকা স্বাগতা বসাক জানান, তাঁদের সমস্যাটা ভিন্ন। ওই স্কুল থেকে কেন্দ্রীয় বাহিনী চলে গেলেও তাদের থাকার পরিকাঠামো এখনও রয়ে গিয়েছে।

স্বাগতা বলেন, ‘‘রবিবার ডাক্তারির সর্বভারতীয় প্রবেশিকা পরীক্ষা বা নিটের সিট পড়েছে আমাদের স্কুলে। ফলে, স্কুল থেকে কেন্দ্রীয় বাহিনী চলে গেলেও স্কুলের মাঠে তাদের খাওয়াদাওয়ার তাঁবু, স্নানের জন্য বড় চৌবাচ্চা, অস্থায়ী শৌচালয় রয়ে গিয়েছে। এগুলি সরিয়ে না নিলে পড়ুয়ারা মাঠে খেলাধুলো করতে পারবে না। এগুলি দ্রুত সরানোর জন্য স্থানীয় প্রশাসনের কাছে আবেদন করেছি।’’

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

central force

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy