E-Paper

যোগ দিবসে রেড রোডে অনুষ্ঠানের টানে শেষ রাতেই পথে উৎসাহীরা

রেজিস্ট্রেশন ছিল না, এমন বহু মানুষ ভোরে এসেও রেড রোডে ঢুকতে পারেননি। আশপাশের রাস্তায় দাঁড়িয়ে তাঁরা যোগব্যায়াম শুরু করেন।

আর্যভট্ট খান

শেষ আপডেট: ২২ জুন ২০২৬ ০৭:৪৫
কসরত: আন্তর্জাতিক যোগ দিবসের অনুষ্ঠানে স্কুলের ছাত্রীরা। রবিবার, রেড রোডে।

কসরত: আন্তর্জাতিক যোগ দিবসের অনুষ্ঠানে স্কুলের ছাত্রীরা। রবিবার, রেড রোডে। ছবি: রণজিৎ নন্দী

ভোরের আলো তখন সবে ফুটেছে। রেড রোড সংলগ্ন মেয়ো রোডের সামনে ভিড় জমিয়েছে এক দল স্কুলছাত্র। কী ভাবে ঢুকতে হবে রেড রোডে, সেই নিয়ে তারা বিভ্রান্ত। কারণ, যেখান দিয়েই তারা ঢুকতে যাচ্ছে, পুলিশ তাদের আটকে দিচ্ছে। বলছে— এই দিক দিয়ে ঢোকা যাবে না। শেষ পর্যন্ত অবশ্য পথ খুঁজে পেল ওই ছাত্রেরা। মেয়ো রোড পেরিয়ে ডাফরিন রোড ধরে রেড রোডে পৌঁছন তারা। তত ক্ষণে ঘড়িতে প্রায় ছ’টা।

রবিবার সকালে নিরাপত্তার বজ্র আঁটুনির মধ্যে দিয়েই রেড রোডে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ডাকে আয়োজিত আন্তর্জাতিক যোগ অনুষ্ঠান সম্পন্ন হল। রেজিস্ট্রেশন ছাড়া রেড রোডে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা ছিল। সঙ্গে মোবাইল বা কোনও কিছুই রাখার অনুমতি ছিল না। রেড রোড জুড়ে বিছানো ছিল কার্পেট। নাম নথিভুক্ত করে আসা প্রত্যেককে যোগের ম্যাট দেওয়া হয়েছিল। অনুষ্ঠানের শেষে তাঁরা সেটি নিয়ে গিয়েছেন।

রেজিস্ট্রেশন ছিল না, এমন বহু মানুষ ভোরে এসেও রেড রোডে ঢুকতে পারেননি। আশপাশের রাস্তায় দাঁড়িয়ে তাঁরা যোগব্যায়াম শুরু করেন। নিরাপত্তার কড়াকড়ি এতটাই ছিল যে, সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিরাও রেড রোডে ঢুকতে পারেননি। রেড রোডের পাশাপাশি মিলেনিয়াম পার্ক সংলগ্ন ঘাটে একটি ক্রুজে, বিভিন্ন যাত্রিবাহী নৌকাতেও যোগব্যায়াম করেন অনেকে।

ঠিক সাড়ে ছ’টায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী অনুষ্ঠানস্থলে আসেন। তাঁকে স্বাগত জানান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। প্রধানমন্ত্রী আসারআগেই অবশ্য রাজ্যের নেতা-মন্ত্রীরা আসতে শুরু করেছিলেন। মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ বলেন, ‘‘এই রাজ্য আন্তর্জাতিক যোগ দিবস পালন করত না বললেই চলে। যোগকে তারা বিয়োগ করে রেখেছিল। এখন মানুষের সরকারমহা সমারোহে যোগ দিবস পালন করছে।’’

এ দিন প্রধানমন্ত্রী শুধু নিজেই যোগব্যায়াম করেননি, অন্যেরা কেমন করছেন, তা ঘুরে ঘুরে দেখেন। ভুল শুধরেও দেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘‘যোগকে শুধু একটা দিনে সীমিত রাখলে হবে না। যোগকে জীবন ও পরিবারের অঙ্গ করতে হবে। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে হবে।’’

এ দিনের আয়োজন ঘিরে মানুষের উৎসাহ এত বেশি ছিল যে, ভোর পাঁচটার মধ্যে রেড রোডে ঢুকেও অনেকে সামনে বসার জায়গা পাননি। নদিয়ার করিমপুরের একটি যোগ প্রশিক্ষণ কেন্দ্র থেকে আসা এক দল যুবক জানান, শনিবার রাতেই কলকাতায় এসে গিয়েছিলেন। মঞ্চের কাছাকাছি বসার জন্য রবিবার ভোর সাড়ে তিনটেয় চলে এসেছেন। ওই দলের এক জন অরূপ রায় বলেন, ‘‘সাড়ে তিনটেয় এসে দেখি, কিছু মানুষ তার আগেই এসে বসে পড়েছেন। তবে প্রধানমন্ত্রীকে দূর থেকে হলেও দেখেছি।’’

মঞ্চের কাছাকাছি বসার জন্য ভোর সোয়া চারটেয় স্কুল থেকে বেরিয়ে পড়েছিল যাদবপুর বিদ্যাপীঠ এবং বাঘা যতীন বালিকা বিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীরা। বাঘা যতীন বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা শম্পা ভট্টাচার্য বলেন, ‘‘ছাত্রীদের উৎসাহ এতটাই ছিল যে, ভোর চারটের মধ্যে তারা সবাই অভিভাবকের সঙ্গে স্কুলে চলে আসে। তবে আমরা মঞ্চেরথেকে দূরে বসেছিলাম, তাই এলইডি পর্দায় প্রধানমন্ত্রীকে দেখেছি। যোগব্যায়াম সহজ ছিল। সবাই করতে পারছিল।’’

সকাল সাতটা থেকে পৌনে আটটা পর্যন্ত চলে মূল অনুষ্ঠান। সাতটার পরে রোদের তেজ বাড়তে থাকে। বাঁকুড়া থেকে আসা প্রৌঢ় কানাইলাল ঘোষ বলেন, ‘‘প্রধানমন্ত্রীকে সামনে থেকে দেখার আশা ছিল। কিন্তু এলইডি পর্দায় দেখলাম। শেষ হওয়ার একটু আগে উঠে এলাম।’’

রেড রোডের এ দিনের অনুষ্ঠানে ছাত্রছাত্রীদের যোগদানের জন্য শতাধিক সরকারি ও বেসরকারি স্কুলকে নির্বাচন করা হয়েছিল। এ জন্য তাদের যাতায়াতের দায়িত্বে ছিল রাজ্য সরকার। অনুষ্ঠান শেষে সরকারি বাসে চেপে বাড়ি ফেরার সময়ে পড়ুয়াদের বরাদ্দ টিফিনে ছিল প্যাকেট করা ঝালমুড়ি, কলা, কুকিজ়, বাদাম চাক এবং মোড়কবন্দি ডাবের জল। ‘‘তবে এ ঝালমুড়ি বাঙালি কায়দায় মাখা ঝালমুড়ি নয়’’— বলে উঠলেন এক স্কুলশিক্ষিকা।

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

red road Yoga Day

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy