আইপ্যাকের কর্ণধার প্রতীক জৈন। —ফাইল চিত্র।
মধ্যাহ্নভোজের বিরতির পর ফের আইপ্যাক মামলা শুনবে সুপ্রিম কোর্ট।
বিচারপতিদের উদ্দেশে সিব্বল বলেন, “ইডির মামলায় দেখুন, তাঁরা কী অভিযোগ করেছেন? তাঁদের অভিযোগ দেখে প্রশ্ন আসা স্বাভাবিক যে, অনুচ্ছেদ ১৪ বা ২১ কোথা থেকে আসছে?” এই সূত্রেই তিনি বলেন, অর্থ তছরুপ প্রতিরোধ আইন অনুযায়ী ইডির ক্ষমতা রয়েছে আইনে, সংবিধানে নয়।”
সিব্বল বলেন, “কোনও সরকারি কর্মচারী যদি দায়িত্ব পালনে বাধার সম্মুখীন হন, তবে তিনি অনুচ্ছেদ ৩২-এর অধীনে মামলা করতে পারেন না। এমনকি তিনি অনুচ্ছেদ ২২৬-এ যেতে পারেন না। এই ক্ষেত্রে কাজে বাধা দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা শুরু হবে, কারণ এতে ওই আধিকারিকের দায়িত্ব পালনের অধিকার লঙ্ঘিত হয়েছে।” একই সঙ্গে সিব্বলের সংযোজন, “কোনও আধিকারিকের তদন্ত করার কোনও মৌলিক অধিকার নেই। এটি একটি আইন দ্বারা প্রদত্ত অধিকার। এই অধিকার লঙ্ঘিত হলেও সেটাকে মৌলিক অধিকার লঙ্ঘন বলা যাবে না।”
বিচারপতি মিশ্র সিব্বলের উদ্দেশে বলেন, “অনুগ্রহ করে শুধু ইডির কথা না বলে, যে সকল ইডি আধিকারিকদের বিরুদ্ধে অন্যায় হয়েছে বলে অভিযোগ, তাঁদের মৌলিক অধিকারের দিকেও মনোযোগ দিন। আপনি যদি শুধু ইডি নিয়েই কথা বলেন এবং সেই দ্বিতীয় পিটিশনটি (মামলা)-কে ভুলে যান—যেটি করেছেন ওই ইডি আধিকারিকেরা, যাঁরা এই অন্যায়ের শিকার।”
সিব্বলের উদ্দেশে বিচারপতি মিশ্র বলেন, “ইডি ইডি করছেন। ইডির আধিকারিকেরাও তো মামলা করেছেন। তাঁরা যদি ক্ষতিগ্রস্ত হন, তাঁদেরও কি মৌলিক অধিকার নেই? জবাব দিন।”
সিব্বল বলেন, “যদি কোনও অপরাধ একটি নির্দিষ্ট রাজ্যের নির্দিষ্ট থানার এলাকায় ঘটে, তা হলে সেই অপরাধের তদন্ত ওই রাজ্যকেই করতে হবে। এমনকি যদি সেখানে মৌলিক অধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগও থাকে, তবুও।” একই সঙ্গে তাঁর সংযোজন, “এখনই মৌলিক অধিকার লঙ্ঘন হয়েছে বলে ধরে নেওয়া যায় না। প্রথমে তদন্ত হতে হবে। তদন্তের পর যদি দেখা যায় যে তদন্ত এগোচ্ছে না, বা ঠিক ভাবে হচ্ছে না, তখন বলা যেতে পারে যে মৌলিক অধিকার লঙ্ঘিত হচ্ছে।”
সিব্বল বলেন, “ধরা যাক অপরাধ হয়েছে। তা হলে বলতে হবে কোন মৌলিক অধিকার লঙ্ঘিত হয়েছে? যার ভিত্তিতে অনুচ্ছেদ ৩২-এ এখানে আসা যাবে? যদি আইনে নির্দিষ্ট প্রতিকার আগে থেকেই থাকে, তা হলে অনুচ্ছেদ ৩২ ব্যবহার করা যাবে না। আমাদের মূল বক্তব্য হল, এখানে আইনি প্রতিকার রয়েছে। যেখানে অপরাধ হয়েছে, সেই এলাকার থানাই আইনি এক্তিয়ার পাবে।”
সিব্বলের উদ্দেশে বিচারপতি মিশ্র বলেন, “দুটো ঘটনাকে একই সঙ্গে দেখাতে চাইছেন কেন? অর্থ তছরুপ প্রতিরোধ আইনে মামলা এবং ইডির কাজে বাধা দুটো এক জিনিস নয়। দ্বিতীয় অভিযোগকে আলাদা করে দেখতে হবে। শুধু পিএমএলএ আইনের মধ্যে ফেলে বিচার করা যাবে না।” বিচারপতি সিব্বলের উদ্দেশে বলেন, “উত্তেজিত ভাবে বোঝানোর চেষ্টা করে আমাদের শেখাতে যাবেন না।”
মুখ্যমন্ত্রীর আইনজীবী সিব্বল বলেন, “যদি ইডি আর্থিক তছরুপ প্রতিরোধ আইন বা পিএমএলএ-র অধীনে তদন্ত করতে গিয়ে অন্য কোনও অপরাধের কথা জানতে পারে, তা হলে ওই আইনের অনুচ্ছেদ ৬৬ অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে, এই ক্ষেত্রে রাজ্যকে জানাতে হবে।”
সিব্বলের প্রশ্নের প্রেক্ষিতে বিচারপতি মিশ্র বলেন, “আমরা এখন কিছুই ধরে নিচ্ছি না, কিন্তু এটাই তো অভিযোগ। আমাদের ভুল বুঝবেন না। প্রতিটি অভিযোগই কিছু তথ্যের উপর ভিত্তি করে হয়। যদি কোনও তথ্যই না-থাকে, তবে তদন্তের দরকারই পড়ত না। তাই তো ইডি এখানে সিবিআই তদন্ত চেয়েছে।”
বিচারপতির উদ্দেশে সিব্বল বলেন, “আদালত কি এখনই ধরে নিচ্ছে যে, মুখ্যমন্ত্রী কোনও অপরাধ করেছেন?”
বিচারপতি মিশ্রের প্রশ্ন, “মুখ্যমন্ত্রী যদি ইডির তদন্তে হস্তক্ষেপ করেন, তবে আপনার মতে ইডির কী প্রতিকার চাওয়া উচিত? তারা কি সেই রাজ্য সরকারের কাছেই যাবে—যার প্রধান নিজেই মুখ্যমন্ত্রী এবং সেখানে গিয়ে বিষয়টি জানিয়ে প্রতিকার চাইবে?”
বিচারপতি মিশ্রের প্রশ্নের প্রেক্ষিতে সিব্বল বলেন, “কোনও সংস্থা নিজে মৌলিক অধিকার প্রয়োগ করতে না-পারলেও, সেই সংস্থার শেয়ারহোল্ডার (অংশীদার) ব্যক্তি হিসাবে নিজের অধিকার নিয়ে কেউ আদালতে যেতে পারেন।”
সিব্বলের উদ্দেশে বিচারপতি মিশ্র বলেন, “আপনি বলছেন ইডি কোনও কর্পোরেট সংস্থা নয়, কোনও কোম্পানিও নয়, এমনকি আলাদা সরকারও নয়—শুধু সরকারের একটি ডিরেক্টরেট। তা হলে কি মৌলিক অধিকার নিয়ে কোনও সংস্থা মামলা করতে পারে?”
সিব্বলের সওয়াল, “ইডি বলছে পশ্চিমবঙ্গে যে তদন্ত হচ্ছে, সেটা রাজ্য সরকারকে দিয়ে করানো উচিত নয়। সিবিআইকে তদন্তভার দেওয়া হোক। কিন্তু তার জন্য আইনে আলাদা সংস্থান আগে থেকেই রয়েছে। তার পরেও কেন মৌলিক অধিকার চেয়ে মামলা?”
সিব্বল বলেন, “ইডি রাজস্ব দফতরের অধীনে পড়ে। এটি একটি ডিরেক্টরেট, আলাদা কোনও দফতর নয়। তারা ইচ্ছাকৃত ভাবে ইডিকে পিটিশনার (মামলাকারী) করেছে, কারণ কেন্দ্রীয় সরকার অনুচ্ছেদ ৩২-এর অধীনে সরাসরি মামলা করতে পারে না। তারা কেবল অনুচ্ছেদ ১৩১-এর অধীনে মামলা করতে পারে।”
মুখ্যমন্ত্রীর আইনজীবী সিব্বল বলেন, “যদি আইনের শাসন লঙ্ঘিত হয়, তবে স্পষ্ট করে বলতে হবে—কী ভাবে লঙ্ঘন হয়েছে? আইনের শাসন প্রতিফলিত হয় সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১৪, ১৬, ১৯-এ।
বিচারপতি এনভি অঞ্জরিয়া বলেন, “মৌলিক অধিকার সব সময় ব্যক্তিকেন্দ্রিক হতে হবে, এমন নয়। আইনের শাসন নিজেই একটি মৌলিক নীতি। তাই এর লঙ্ঘন হলে, সেটাও আদালতে তোলা যেতে পারে।”
বিচারপতি প্রশান্তকুমার মিশ্র বলেন, “হতে পারে ওই আধিকারিক (ইডির ডেপুটি ডিরেক্টর) ছায়ার মতো ছিলেন।” সিব্বলের সওয়াল, “(ইডির) কোন মৌলিক অধিকার লঙ্ঘিত হয়েছে, সেটা মামলায় স্পষ্ট ভাবে জানানো হয়নি।”
ডেপুটি ডিরেক্টরের অনুপস্থিতি নিয়ে সিব্বল প্রশ্ন তোলার পরেই ইডির আইনজীবী এসভি রাজু আদালতে বলেন, “এই দাবি (সিব্বল) করতেই পারেন। আসলে কী হয়েছিল, সেই ঘটনা আমি বলব।”
Or
By continuing, you agree to our terms of use
and acknowledge our privacy policy
We will send you a One Time Password on this mobile number or email id
Or
By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy