শুভেন্দু অধিকারীর আপ্তসহায়ক চন্দ্রনাথ রথ খুনে ভিন্রাজ্যের পাশাপাশি এ বার জেলবন্দি ‘সুপারি কিলার’দের উপরেও নজরদারি শুরু হল। সূত্রের খবর, জেলবন্দি পেশাদার খুনিদের সম্পর্কে খোঁজখবর নেওয়া শুরু করেছেন তদন্তকারীরা। শুধু এ রাজ্যই নয়, অন্য রাজ্যেরও জেলে বন্দি পেশাদার খুনিদের সম্পর্কে খোঁজখবর নেওয়া শুরু হয়েছে। চন্দ্রনাথ হত্যার ব্লুপ্রিন্ট জেলে বসেই তৈরি হয়েছিল কি না, কিংবা জেলবন্দি কোনও পেশাদার খুনি এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত কি না, তা এখন তদন্তকারীদের আতশকাচের তলায়।
প্রসঙ্গত, চন্দ্রনাথকে যে ভাবে খুন করা হয়েছে, যে কায়দায় খুন করা হয়েছে, তা দেখে তদন্তকারীদের অনুমান, পেশাদার খুনিরা এ কাজে জড়িত। গাড়ি ঘিরে ফেলে চন্দ্রনাথকে লক্ষ্য করে পয়েন্ট ব্ল্যাঙ্ক রেঞ্জ থেকে গুলি, তা-ও আবার ব্যস্ত রাস্তায়। তার পর সেখান থেকে দুষ্কৃতীদের চম্পট হয়ে যাওয়া— সব মিলিয়ে পেশাদার খুনির তত্ত্বই জোরালো হচ্ছে। ফলে এ বার জেলবন্দি পেশাদার খুনিদেরও ঠিকুজি-কোষ্ঠী বার করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
বুধবার রাতে মধ্যমগ্রামে নিজের আবাসনের সামনে খুন হন চন্দ্রনাথ। তাঁর গাড়ি দাঁড় করিয়ে বাইক আরোহী দুষ্কৃতীরা পর পর গুলি চালায়। ঝাঁঝরা হয়ে যান শুভেন্দুর আপ্তসহায়ক। তাঁর গাড়ির চালকও গুলিবিদ্ধ হন। আপাতত তিনি গুরুতর জখম অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তদন্তকারীদের অনুমান, সুপারি কিলার নিয়োগ করা হয়েছিল চন্দ্রনাথকে খুনের জন্য। এক থেকে দেড় মাস আগে এই খুনের ছক কষা হয়েছিল। সুপরিকল্পিত ভাবে হত্যা করা হয়েছে তাঁকে। পুলিশ জানার চেষ্টা করছে, মাসখানেক আগে কারও সঙ্গে চন্দ্রনাথের বচসা হয়েছিল কি না, এমন কিছু ঘটেছিল কি না, যাতে তাঁকে খুন করার প্রয়োজন হয়। এক থেকে দেড় মাস আগে কার বা কাদের চন্দ্রনাথকে খুনের প্রয়োজন পড়ে থাকতে পারে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
চন্দ্রনাথকে খুনে ব্যবহৃত একটি চারচাকা, দু’টি বাইক বাজেয়াপ্ত করেছে পুলিশ। এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহে কয়েক জনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে বলেও সূত্রের খবর। চন্দ্রনাথ খুনের তদন্তে বৃহস্পতিবারই রাজ্য পুলিশ সিট গঠন করে। সাত সদস্যের সিট-এর মাথায় রয়েছেন সিআইডি-র ডিআইজি পদমর্যাদার আধিকারিক। এ ছাড়া, বারাসত পুলিশের সদস্যেরাও তদন্তকারী দলে আছেন। রাখা হয়েছে এসটিএফ, সিআইডি-র আধিকারিকদেরও।