Advertisement
E-Paper

তিন বার ‘মৃত্যু’! স্বর্গের পরিবর্তে অন্য এক জায়গায় পৌঁছোন তিন বারই, নাসার প্রাক্তন বিজ্ঞানীর দাবিতে হইচই, বিতর্ক

ইনগ্রিড জানিয়েছেন, প্রতিটি ঘটনা ভিন্ন ভাবে ঘটলেও ফলাফল ছিল একই। ‘মারা’ যাওয়ার পর সম্পূর্ণ শান্ত এক অদ্ভুত অবস্থায় প্রবেশ করেছিলেন তিনি। সেখানে কোনও ভয় ছিল না, সময়ের কোনও ধারণা ছিল না।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ০৮ মে ২০২৬ ১৫:৩৫
Former NASA scientist claims she ‘dies thrice’ and experience same thing every time

ছবি: এআই সহায়তায় প্রণীত।

তিন বার ‘মারা’ গিয়েছিলেন। ‘মৃত্যু’র পর প্রতি বার একই জিনিস দেখেছিলেন। তবে তা স্বর্গের দরজা ছিল না। তেমনটাই দাবি করে হইচই ফেললেন নাসার প্রাক্তন এক বিজ্ঞানী। ৫৫ বছর বয়সি ওই সমুদ্রবিজ্ঞানীর নাম ইনগ্রিড হনকালা। দীর্ঘ দিন নাসার সঙ্গে কাজ করেছেন তিনি। ইনগ্রিড দাবি করেছেন, শুধু এক বার নয়, ২, ২৫ এবং ৫২ বছর বয়সে তিন-তিন বার ‘মৃত্যু’র কাছাকাছি পৌঁছেছিলেন তিনি এবং প্রতি বারই হুবহু একই জিনিস দেখেছেন।

ইনগ্রিড জানিয়েছেন, প্রতিটি ঘটনা ভিন্ন ভাবে ঘটলেও ফলাফল ছিল একই। ‘মারা’ যাওয়ার পর সম্পূর্ণ শান্ত এক অদ্ভুত অবস্থায় প্রবেশ করেছিলেন তিনি। সেখানে কোনও ভয় ছিল না, সময়ের কোনও ধারণা ছিল না এবং তিনি তাঁর শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ার অনুভূতি পেয়েছিলেন। বিজ্ঞানী আরও বর্ণনা করেছেন, ‘মৃত্যু’র পর তিনি ‘বিশুদ্ধ এবং সচেতন’ অবস্থায় পরিণত হয়েছিলেন। মগ্ন হয়েছিলেন আলো, স্বচ্ছতা এবং শান্তিতে পরিপূর্ণ এক বিশাল, আন্তঃসংযুক্ত চেতনার মধ্যে।

ইনগ্রিডের দাবি, এটি কোনও ক্ষণস্থায়ী বিভ্রম ছিল না। বরং এটি ছিল একটি ধারাবাহিক অভিজ্ঞতা, যা তিনি প্রতি বার মৃত্যুর কাছাকাছি আসার সময় ফিরে পেতেন। বিজ্ঞানীর বিশ্বাস, ওই মুহূর্তগুলি জীবন-পরবর্তী জগতের একটি আভাস দিয়েছিল তাঁকে। তিনি জোর দিয়ে জানিয়েছেন, তাঁর অভিজ্ঞতাগুলি বাস্তব জীবনে অনুভব করা যে কোনও কিছুর চেয়েও বেশি বাস্তব ছিল। ইনগ্রিডের দাবিগুলি, যা বিজ্ঞান ও আধ্যাত্মিকতার মধ্যকার সীমারেখাকে অস্পষ্ট করে দিয়েছে, তা ইতিমধ্যেই মৃত্যুর পর আসলে কী ঘটে তা নিয়ে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

কিন্তু কী ভাবে তিন বার মৃত্যুর দ্বারপ্রান্তে পৌঁছেছিলেন ইনগ্রিড। বিজ্ঞানী জানিয়েছেন, প্রথমে মাত্র দু’বছর বয়সে কলম্বিয়ার বোগোটায় তাঁর বাড়িতে বরফঠান্ডা জলের একটি ট্যাঙ্কে পড়ে যাওয়ার পর তিনি প্রথম বার ‘মৃত্যু’র মুখোমুখি হন। পরে আরও দু’বার নাকি একই অভিজ্ঞতা হয় তাঁর— একটি ২৫ বছর বয়সে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় এবং অন্যটি ৫২ বছর বয়সে অস্ত্রোপচারের সময় রক্তচাপ কমে গিয়ে। ইনগ্রিডের দাবি, প্রতিটি পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভিন্ন হওয়া সত্ত্বেও প্রতিটি অভিজ্ঞতা তাঁকে একই জায়গায় ফিরিয়ে নিয়ে গিয়েছিল। প্রতি বারই তিনি তাঁর শারীরিক সত্তার ঊর্ধ্বে এক শান্তিপূর্ণ সচেতনতার অবস্থায় প্রবেশ করতেন বলেও দাবি করেছেন বিজ্ঞানী।

অনেক বিজ্ঞানী যুক্তি দেন, মৃত্যুর মুখোমুখি হওয়া অভিজ্ঞতাগুলি চরম মানসিক চাপের মধ্যে মস্তিষ্কের কার্যকলাপের ফল। তবে ইনগ্রিডের বিশ্বাস, এগুলি আরও গভীর কিছুর দিকে ইঙ্গিত করে। তাঁর কথায়, ‘‘এই অভিজ্ঞতা জীবন সম্পর্কে আমার ধারণাকেই বদলে দিয়েছে। বেঁচে থাকার জন্য সংগ্রাম করা এক ব্যক্তি হিসাবে নিজেকে দেখার পরিবর্তে, আমি বুঝতে শুরু করলাম যে হয়তো পুরো বিষয়টি আমার চেতনারই এক প্রকাশ।’’

ইনগ্রিড এখন এ-ও বিশ্বাস করেন যে মৃত্যু কোনও শেষ নয়, বরং একটি রূপান্তর। তিনি বলেন, ‘‘বিভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে মৃত্যুকে অস্তিত্বের সমাপ্তি বলে মনে হয়। কিন্তু না, তা চেতনার ধারাবাহিকতার একটি রূপান্তর মাত্র।’’

এই সব দাবি সত্ত্বেও ইনগ্রিডের একটি সফল বৈজ্ঞানিক কর্মজীবন রয়েছে। তিনি সমুদ্রবিজ্ঞান নিয়ে গবেষণা করেছেন এবং পরিবেশগত গবেষণায় কাজ করেন। নাসা এবং মার্কিন নৌবাহিনীর সঙ্গে যৌথ ভাবে কাজও করেছেন তিনি। ইনগ্রিডের আসন্ন বই, ‘ডাইং টু সি দ্য লাইট: আ সায়েন্টিস্ট’স গাইড টু রিঅ্যাওয়েকেনিং’-এ ‘মৃত্যু-পরবর্তী’ অভিজ্ঞতা ও চেতনা সম্পর্কে এবং সেগুলির সম্ভাব্য তাৎপর্য নিয়ে লিখেছেন তিনি।

Near Death Experience NASA
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy