Advertisement
E-Paper

শান্তির ভোটে জবাব ডায়মন্ড হারবারের

নির্বাচন কমিশনের মতে, ভোট শান্তিতেই হয়েছে। বিরোধীদের অভিযোগ নিয়ে প্রশ্ন করা হলে ওই লোকসভা কেন্দ্রের কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষক অবিনাশ সিংহ বললেন, “তেমন বড় কিছু হয়নি। ভোট হয়েছে সুষ্ঠু ভাবেই।”

অনুপ চট্টোপাধ্যায় ও চিরন্তন রায়চৌধুরী

শেষ আপডেট: ২০ মে ২০১৯ ০২:২৯
ফলতার উত্তর বাসুলহাটের বাসিন্দাদের একাংশের অভিযোগ, তাঁদের ভয় দেখানো হয়েছে, তাই ভোট দিতে যেতে পারেননি। ছবি: সব্যসাচী ইসলাম

ফলতার উত্তর বাসুলহাটের বাসিন্দাদের একাংশের অভিযোগ, তাঁদের ভয় দেখানো হয়েছে, তাই ভোট দিতে যেতে পারেননি। ছবি: সব্যসাচী ইসলাম

ডায়মন্ড হারবারের ভোট নিয়ে অশান্তি ও সন্ত্রাসের অভিযোগ ছিল বিরোধীদের। কিন্তু রবিবার, ভোটের দিন প্রকাশ্যে তার তেমন কোনও প্রমাণ মিলল না। রবিবার সকালে ভোট শুরুর পর থেকে ওই কেন্দ্রের ডায়মন্ড হারবার, ফলতা, সাতগাছিয়া, বজবজের বেশ কিছু বুথে তৃণমূলের আশ্রিত সশস্ত্র দুষ্কৃতীদেরর উপস্থিতিতে বুথ থেকে দলীয় এজেন্ট সরানো, ভোটারদের বার করে দিয়ে রিগিং নিয়ে নির্বাচন কমিশনে অভিযোগ জানিয়েছে বাম এবং বিজেপি। তৃণমূলের ‘দুষ্কৃতীরা’ তাঁর গাড়ি ভাঙচুর করেছে বলে থানায় অভিযোগ দায়ের করেন বিজেপি প্রার্থী নীলাঞ্জন রায়।

জবাবে ওই কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন, ‘‘বিরোধীরা বলেছিলেন, ডায়মন্ড হারবারের ভোটে অশান্তি হবে। ভোট শান্তিপূর্ণ হওয়ায় যোগ্য জবাব পেয়েছেন তাঁরা।’’ অভিষেকের পাল্টা অভিযোগ, ‘‘কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানেরা কিছু এলাকায় বাড়াবাড়ি করেছেন। নির্বাচন কমিশনকে তা জানানো হয়েছে।’’

নির্বাচন কমিশনের মতে, ভোট শান্তিতেই হয়েছে। বিরোধীদের অভিযোগ নিয়ে প্রশ্ন করা হলে ওই লোকসভা কেন্দ্রের কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষক অবিনাশ সিংহ বললেন, “তেমন বড় কিছু হয়নি। ভোট হয়েছে সুষ্ঠু ভাবেই।” একই সুর ওই কেন্দ্রের রিটার্নিং অফিসার নিখিলেশ মণ্ডলের। তিনি বলেন, “বাম শিবির ও বিজেপির কাছ থেকে কিছু অভিযোগ এসেছিল। সঙ্গে সঙ্গেই পুলিশ-প্রশাসন সেখানে গিয়ে ব্যবস্থা নিয়েছে।’’

দিল্লি দখলের লড়াই, লোকসভা নির্বাচন ২০১৯

ফলতা থানা থেকে ৫০০ মিটার দূরের জন বসতি উত্তর বাসুলহাট। অভিযোগ ছিল, সেই গ্রামের ভোটারদের বুথে যেতে বাধা দেওয়া হচ্ছে। দেওয়া হয়েছে প্রচ্ছন্ন হুমকিও। গ্রামে যেতেই এক মহিলা দাবি করেন, সকাল সাড়ে ৮টা নাগাদ ভোট দিতে গেলে তাঁকে বুথ থেকে টেনে বার করে দেওয়া হয়। এক গ্রামবাসী বলেন, “ওরা চায়, সবাই যেন ঘাসফুলেই ভোট দেয়, পদ্মফুলে নয়। আমরা চেয়েছিলাম, পুলিশ এসে আমাদের নিয়ে যাক। কিন্তু কেউ আসেনি।’’

দুপুরে ফলতার বেলেশ্বর-সহরা এলাকার একটি বুথের সামনে বেআইনি জমায়েত হটাতে লাঠি উঁচিয়ে তেড়ে যায় কেন্দ্রীয় বাহিনী। এলাকাবাসীর একাংশের অভিযোগ, এক জনের আঘাত লাগে। কমিশন সূত্রের খবর, তারাগঞ্জ-সহ কয়েকটি এলাকার বুথে সিসি ক্যামেরায় কিছু সমস্যা দেখা দেয়। ফলে ছবি ওঠেনি। মারধরের ভয় দেখিয়ে গ্রামে আটকে রেখে ভোট দিতে বাধা দেওয়ার কথাও শুনিয়েছেন খলতা এবং সাতগাছিয়ার বেশ কিছু ভোটার।

ভোটের দিন সকাল থেকে নিজের কেন্দ্রের কোনও বুথে যেতে দেখা যায়নি অভিষেককে। দলীয় সূত্রের খবর, এ দিন সকালে কলকাতায় ভোট দিয়েই তিনি চলে যান আমতলায়, তৃণমূলের দলীয় কার্যালয়ে। সারা দিন সেখানে বসেই ভোটের তদারক করেছেন। তবে বাম প্রার্থী ফুয়াদ হালিম কেন্দ্রে ঘুরলেও কোনও বুথে যাননি। ডায়মন্ড হারবার থেকে ফলতা, নোদাখালি, আমতলায় দলীয় কার্যালয়ে ঘুরেই কাটিয়ে দেন। কিন্তু কেন? ভোট প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার পরে তিনি একাধিক বার নিগৃহীত হয়েছিলেন। সে-কথা তুলে ঘনিষ্ঠ মহলে ফুয়াদ জানিয়েছেন, ভোটের দিনও তেমন কোনও ঘটনা ঘটলে দলের কর্মী-সমর্থকদের মনোবল ভেঙে যেতে পারত। তাই তিনি বুথে যাননি। বেলা সাড়ে ১১টা নাগাদ নোদাখালির ডোঙারিয়া হাইস্কুল মোড়ের কাছে তৃণমূলের ‘বাইক বাহিনীর’ দুষ্কৃতীরা তাঁর উপরে হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ করেন বিজেপি প্রার্থী নীলাঞ্জনবাবু। শাসক দলের লোকেরা কয়েকটি বুথে ছাপ্পা ভোট দিচ্ছে শুনে তা দেখতে গেলে ইট মেরে তাঁর গাড়ির কাচ ভেঙে দেওয়া হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ জানিয়েছেন নোদাখালি থানায়। যদিও অভিষেক জানান, বিজেপির লোকেরাই তাঁর গাড়ি ভেঙেছে।

Lok Sabha Election 2019 লোকসভা নির্বাচন ২০১৯ Diamond harbour TMC BJP
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy