E-Paper

স্কুল-কলেজ চত্বরে বাড়তি শুনানি কেন্দ্র,প্রস্তুতি শুরু জেলায়

সোমবার জেলার এক নির্বাচন-আধিকারিক বলেন, ‘‘কমিশনের সম্মতি মিলেছে। জেলায় কয়েকটি অতিরিক্ত শুনানি কেন্দ্র চালু হচ্ছে।

বরুণ দে

শেষ আপডেট: ০৬ জানুয়ারি ২০২৬ ০৯:০৩
—প্রতীকী চিত্র।

—প্রতীকী চিত্র।

জেলাগুলি থেকে প্রস্তাব গিয়েছিল কলকাতায় সিইও-র দফতরে। সেখান থেকে দিল্লিতে নির্বাচন সদনে। সব দিক খতিয়ে দেখে অতিরিক্ত শুনানি কেন্দ্র চালুর প্রস্তাবে সায় দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। সূত্রের খবর, রাজ্যের ১২টি জেলায় সব মিলিয়ে ১৬০টি অতিরিক্ত শুনানি কেন্দ্র চালুর প্রস্তাবে সায় দিয়েছে কমিশন। এর মধ্যে পশ্চিম মেদিনীপুরের ১১টি কেন্দ্র রয়েছে।

সোমবার জেলার এক নির্বাচন-আধিকারিক বলেন, ‘‘কমিশনের সম্মতি মিলেছে। জেলায় কয়েকটি অতিরিক্ত শুনানি কেন্দ্র চালু হচ্ছে। এতে সংশ্লিষ্ট অঞ্চলের নোটিসপ্রাপ্ত ভোটারদের সুবিধা হবে। তাঁদের আর দীর্ঘ পথ পেরিয়ে ব্লক সদরের শুনানিকেন্দ্রে আসতে হবে না।’’ এখন শুনানি কেন্দ্র রয়েছে ব্লক অফিস, মহকুমাশাসকের অফিস চত্বরে। এ বার অতিরিক্ত শুনানি কেন্দ্র হচ্ছে কলেজ, হাই স্কুল, প্রাথমিক স্কুল, কমিউনিটি হল চত্বরে। শালবনির পিঁড়াকাটা কমিউনিটি হল চত্বরে যেমন দু’টি অতিরিক্ত শুনানি কেন্দ্র চালু হচ্ছে। একটি মেদিনীপুর বিধানসভার জন্য, আরেকটি শালবনি বিধানসভার জন্য। সব ঠিক থাকলে চলতি সপ্তাহের শেষে কিংবা আগামী সপ্তাহের শুরুর দিকে জেলায় অতিরিক্ত শুনানি কেন্দ্র চালু হতে পারে।

গত ২৭ ডিসেম্বর থেকে শুরু হয়েছে এসআইআরের শুনানি। শুনানি পর্ব চলবে ৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশিত হবে ১৪ ফেব্রুয়ারি। কী কারণে শুনানি কেন্দ্রের বিকেন্দ্রীকরণ প্রয়োজন, ব্লক সদর ছাড়াও অন্যত্র অতিরিক্ত কেন্দ্র প্রয়োজন, প্রস্তাবে জানিয়েছিল জেলাগুলি। সূত্রের খবর, এ ক্ষেত্রে পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা থেকে জানানো হয়েছিল, কিছু কিছু অঞ্চল ব্লক সদর থেকে ২৫ কিলোমিটারেরও বেশি দূরে। ফলে, নোটিসপ্রাপ্ত ভোটারদের যাতায়াতে সমস্যা হচ্ছে। জানানো হয়েছিল, কুয়াশাজনিত সমস্যার কথা। সকালে ঘন কুয়াশায় অনেকটা দূরে যাতায়াত নিরাপদও নয়। জেলার একটি অংশে বনাঞ্চল থাকার কথাও জানানো হয়েছিল। বলা হয়েছিল, জঙ্গলে হাতির গতিবিধি রয়েছে। হাতির হানাও হয়। সব দিক বিবেচনা করে এই জেলার ৬টি বিধানসভায় মোট ১১টি অতিরিক্ত শুনানি কেন্দ্র চালুর প্রস্তাবে সায় দিয়েছে কমিশন। অতিরিক্ত এই সব শুনানি কেন্দ্রেও পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা রাখতে হবে, স্পষ্ট করেছে কমিশন। জেলার এক নির্বাচন আধিকারিক বলেন, ‘‘অতিরিক্ত শুনানি কেন্দ্র সংক্রান্ত কমিশনের নির্দেশিকা এসেছে। নির্দেশ মতোই পদক্ষেপ হচ্ছে।’’

‘নো- ম্যাপিং’ তালিকাভুক্তদের শুরুতে শুনানিতে ডাকা হচ্ছিল। পশ্চিম মেদিনীপুরে এই তালিকাভুক্ত ভোটারের সংখ্যা প্রায় ৬৫ হাজার। এর পরে নজরে ‘লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি’ অর্থাৎ, তথ্যগত অসঙ্গতি। এমন ভোটারদেরও নোটিস বিলি শুরু হয়েছে। জানুয়ারির দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকে এঁদের শুনানি শুরু হওয়ার কথা। সূত্রের খবর, তথ্যগত অসঙ্গতির কারণে এই জেলায় আপাতত শুনানির নোটিস পেতে চলেছেন প্রায় ১ লক্ষ ২০ হাজার ভোটার। জেলার এক নির্বাচন- আধিকারিক বলেন, ‘‘যাঁদের তথ্যগত অসঙ্গতি রয়েছে, তাঁদের তথ্য যাচাই করে দেখছেন বিএলওরা। যাচাইয়ের পরেও যে সব ভোটারকে নিয়ে সন্দেহ দূর হবে না, তাঁদের শুনানিতে ডাকা হবে।’’

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

midnapore West Bengal SIR

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy