করোনা-কালের গোড়ায় পশ্চিম মেদিনীপুর জেলাকে সতর্ক করে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছিলেন, ‘‘মেদিনীপুর কিন্তু হ য ব র ল হয়ে যাবে! এটা হতে দেওয়া যায় না।’’ রবিবার জেলায় ‘রেকর্ড’ সংখ্যক করোনা আক্রান্তের হদিস মেলার পরে জেলার অবস্থা কার্যত ‘হ য ব র ল’-ই হয়ে গিয়েছে। সামনে এসেছে পরিকল্পনার অভাবের দিকটিও।
সংক্রমণ যখন ক্রমশ ছড়াচ্ছে, তখন করোনা আক্রান্তদের ভর্তি নিয়ে জট পেকেছে জেলায়। কোন হাসপাতালে তাঁদের ভর্তি করা হবে, সমস্যা সেখানেই। এতদিন পশ্চিম মেদিনীপুরের করোনা আক্রান্তদের পূর্ব মেদিনীপুরের পাঁশকুড়ার বড়মা হাসপাতালে ভর্তি করা হত। বড়মা হাসপাতাল জানিয়ে দিয়েছে, আর পশ্চিমের রোগীদের ভর্তি নেওয়া হবে না। পশ্চিম মেদিনীপুরের করোনা আক্রান্তদের চিকিৎসা শালবনি সুপার স্পেশ্যালিটিতে হওয়ার সিদ্ধান্ত হলেও সেখানে পরিকাঠামো গড়ে ওঠেনি।
পাঁশকুড়ার বড়মা হাসপাতালের নোডাল অফিসার শচীন্দ্রনাথ রজক মানছেন, ‘‘গত শুক্রবারই শেষ পশ্চিম মেদিনীপুর থেকে করোনা আক্রান্ত রোগী বড়মায় ভর্তি হয়েছেন। এরপর আর পশ্চিম মেদিনীপুরের কোনও রোগী এখানে ভর্তি হননি।’’ কেন? শচীন্দ্রনাথের জবাব, ‘‘পশ্চিম মেদিনীপুরে আলাদা কোভিড হাসপাতাল করার কথা। তাই এখন আর ওই জেলার রোগী বড়মায় ভর্তি নেওয়া হচ্ছে না।’’
বিকল্প না পেয়ে আপাতত মেদিনীপুর শহরতলির দুই করোনা হাসপাতালেই আক্রান্তদের রাখা হচ্ছে। অথচ, এই দুই হাসপাতালের কোনওটিতেই আক্রান্তদের থাকার কথা নয়। করোনা-সন্দেহভাজনদের রাখার পরিকাঠামোই রয়েছে এখানে। জেলাশাসক রশ্মি কমল বলছেন, ‘‘এ জেলার করোনা আক্রান্তদের চিকিৎসা শালবনি সুপার স্পেশ্যালিটি হাসপাতালে হবে। সেই মতো পদক্ষেপ করাও হচ্ছে।’’ তবে সেখানে যে চিকিৎসা শুরু করা যায়নি পরোক্ষা তা মানছেন জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক নিমাইচন্দ্র মণ্ডল। তাঁর আশ্বাস, ‘‘শীঘ্রই শালবনি সুপার স্পেশ্যালিটি হাসপাতালে করোনা আক্রান্তদের চিকিৎসা শুরু হবে।’’
গত শুক্রবারই শেষ পশ্চিম মেদিনীপুরের রোগী ভর্তি নিয়েছেন বড়মা কর্তৃপক্ষ। সে দিন ১২ জন রোগীকে ভর্তি করানো নিয়ে সমস্যাও হয়েছিল। ওই দিন শুরুতে এই জেলার ৩ জন রোগীকে বড়মায় পাঠানো হয়েছিল। বলেকয়ে তাঁদের ভর্তি করাতে হয়। পরে আরও ৯ জন রোগীকে পাঠানো হয়। তখন প্রশাসনের হস্তক্ষেপে তাঁদের ভর্তি করাতে হয়। জেলার এক স্বাস্থ্য আধিকারিক মানছেন, ‘‘ওই হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ শুক্রবার থেকে রোগী পাঠাতে নিষেধ করেছিলেন। পশ্চিম মেদিনীপুরে এখনও আক্রান্তদের চিকিৎসার পরিকাঠামো গড়ে ওঠেনি। বাধ্য হয়েই ওই দিন ওখানে দু’দফায় ১২ জন রোগীকে পাঠাতে হয়েছিল। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ শেষমেশ ১২ জনকে ভর্তিও নিয়েছেন। তবে শনিবার থেকে আর রোগী পাঠাতে নিষেধ করেছিলেন।’’
অথচ শনি-রবি, এই দু’দিনে পশ্চিম মেদিনীপুরে ‘রেকর্ড’ করোনা আক্রান্তের খোঁজ মিলেছে। এক সময়ে ঠিক হয়, ঘাটালের এক কোয়রান্টিন কেন্দ্রেই আশপাশের আক্রান্তদের রাখা হবে। পরে ঠিক হয়েছে, আপাতত মেদিনীপুর শহরতলির দুই করোনা হাসপাতালে থাকবেন আক্রান্তেরা। উপসর্গহীনদের রাখা হবে লেভেল- ১ হাসপাতালে (আয়ুষ), উপসর্গযুক্তদের লেভেল-২ হাসপাতালে (গ্লোকাল)। এক স্বাস্থ্য আধিকারিক মানছেন, ‘‘একসঙ্গে অনেক করোনা আক্রান্তের হদিস মিলেছে। তাই সমস্যা হয়েছে।’’