: প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা তালিকায় নাম থাকা সত্ত্বেও মিলছে না বাড়ি। অভিযোগে সরব নন্দীগ্রাম-১ ব্লকের দাউদপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের বাসিন্দাদের একাংশ। অভিযোগ, বিজেপির সমর্থক হওয়াতেই তাঁদের প্রতি পক্ষপাতমূলক আচরণ করা হচ্ছে। প্রতিবাদে ১২ অগস্ট নন্দীগ্রাম-১ ব্লকের আকন্দবাড়ী গ্রামের বহু বাসিন্দা লিখিত অভিযোগ জানিয়েছেন বিডিওর কাছে।
প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনায় সরকারি সমীক্ষার পর প্রাপকের তালিকায় নাম রয়েছে একাধিক গ্রামবাসীর। তার পরেও এই প্রকল্পের সুবিধা পাচ্ছেন না অনেকেই। যদিও দেখা গিয়েছে, পাকা বাড়ি রয়েছে এমন অনেকের নামই প্রাপকের তালিকা রয়েছে। শুধু তাই নয়, তালিকায় অনেকের পিছনে নাম থাকলেও তারা আবাস যোজনায় বাড়ি পেয়ে যাচ্ছেন। অন্যদিকে ঝড় এবং দুর্যোগের ফলে যাঁদের বাড়ি সম্পূর্ণভাবে ধুলিসাৎ হয়ে গিয়েছে। কিংবা যাঁদের কাঁচা বাড়ি রয়েছে তাঁদের নাম প্রথমে থাকা সত্ত্বেও তাঁরা আবাস যোজনায় বরাদ্দ বাড়ি পাননি। ওই সব বাসিন্দার অভিযোগ, তাঁদের অনেকে বিজেপির সমর্থক হওয়ার কারণেই আবাস যোজনা প্রকল্প থেকে বঞ্চিত হতে হচ্ছে। আর এ সবই হচ্ছে শাসকদলের ইশারায়। তাই বাধ্য হয়েই তাঁরা বিডিওর কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন। আকন্দবাড়ি গ্রামের বাসিন্দা বিজয় কুমার সাহু বলেন, ‘‘শুধুমাত্র বিজেপি করার কারণেই আবাস যোজনা সুবিধা থেকে বঞ্চিত হতে হচ্ছে। গরিবদের ঘর দেওয়া নিয়েও পক্ষপাত করছে শাসক দল। যাঁদের সবকিছু রয়েছে তাঁরা শুধুমাত্র শাসক দলের কর্মী-সমর্থক হওয়ায় আবাস যোজনার সুবিধা পাইয়ে দেওয়া হচ্ছে।’’ বিজয়ের আরও অভিযোগ, ‘‘প্রাপকের তালিকায় আমার ক্রমিক সংখ্যা ছিল ৩৬৫। আমি বাড়ি না পেলেও গ্রামে আবাস যোজনা বাড়ি পাচ্ছেন এমন কয়েক জনের ক্রমিক সংখ্যা ৫০০-র কাছাকাছি।’’
দাউদপুর পঞ্চায়েতের প্রধান শেখ সামসুর ইসলাম অবশ্য দাবি করছেন, ‘‘যারা অভিযোগ করছে তাদের বেশিরভাগেরই পাকা বাড়ি আছে। আর বিজয় কুমার সাহু গীতাঞ্জলি আবাস যোজনা বাড়ি তৈরির টাকা পেয়েও বাড়ি করেননি।’’
বিজেপির নন্দীগ্রাম-১ উত্তম মণ্ডল সভাপতি গৌতম দাস বলেন, ‘‘আসলে এখানেও কাটমানি খাওয়ার ব্যাপারে রয়েছে। সে জন্য শাসক দলের ঘনিষ্ঠদের সুবিধা পাইয়ে দিচ্ছে তৃণমূল নেতারা।’’ বিজয় সাহুর টাকা পেয়েও ঘর না করা নিয়ে প্রধানের কথার জবাবে গৌতম জানান, তিন কিস্তিতে ঘর তৈরির টাকা দেওয়া হয়। তার জন্য ঘর তৈরি হচ্ছে কি না কয়েকটি পর্যায়ে তা খতিয়ে দেখে সরকারের লোকজন। তা হলে কী করে বিজয় সাহু টাকা পেলেন। এতেই বোঝা যাচ্ছে প্রধান শাক দিয়ে দুর্নীতির মাছ ঢাকতে চাইছেন।
নন্দীগ্রাম-১ এর বিডিও সুমিতা সেনগুপ্ত বলেন, ‘‘আবাস যোজনা নিয়ে অভিযোগ পেয়েছি। অভিযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’’