Advertisement
E-Paper

যন্ত্র হাতে বসে, নজরদারি নেই

কথা ছিল, স্টেশন থেকে বেরিয়ে আসা যাত্রীদের সকলকে দাঁড় করিয়ে পরীক্ষা করা হবে। যাত্রী কোথা থেকে আসছেন, করোনা আক্রান্ত কারও সংস্পর্শে এসেছেন কি না, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানবেন স্বাস্থ্যকর্মীরা।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২০ মার্চ ২০২০ ০৮:১৪
 নিষ্ক্রিয়: স্বাস্থ্যকর্মীরা বসে। থার্মাল স্ক্যানিং হচ্ছে না যাত্রীদের। খড়্গপুর স্টেশনে। ছবি: দেবরাজ ঘোষ

নিষ্ক্রিয়: স্বাস্থ্যকর্মীরা বসে। থার্মাল স্ক্যানিং হচ্ছে না যাত্রীদের। খড়্গপুর স্টেশনে। ছবি: দেবরাজ ঘোষ

করোনা সতর্কতায় দিন দু’য়েক আগেই ঘটা করে খড়্গপুর স্টেশনে চালু হয়েছিল থার্মাল স্ক্যানার। অথচ এখন পরীক্ষা ছাড়াই স্টেশন হয়ে অবাধে শহরে ঢুকছেন ভিন্ে রাজ্যের যাত্রীরা। নামকা-ওয়াস্তে টেবিল-চেয়ার নিয়ে বসে গল্পে মশগুল স্বাস্থ্যকর্মীরা!

কথা ছিল, স্টেশন থেকে বেরিয়ে আসা যাত্রীদের সকলকে দাঁড় করিয়ে পরীক্ষা করা হবে। যাত্রী কোথা থেকে আসছেন, করোনা আক্রান্ত কারও সংস্পর্শে এসেছেন কি না, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানবেন স্বাস্থ্যকর্মীরা। তার পরে যাত্রীদের পরীক্ষা করা হবে থার্মাল স্ক্যানার যন্ত্র দিয়ে। এ ক্ষেত্রে স্টেশনের উত্তর ও দক্ষিণ দু’দিকে দু’টি পরীক্ষাকেন্দ্র তৈরি করা হয়েছে। সেখানে রয়েছেন একজন করে চিকিৎসক-সহ কয়েকজন স্বাস্থ্যকর্মী। এ ছাড়াও রয়েছেন রেল ও রাজ্য পুলিশের কর্মীরা। এ ক্ষেত্রে সাবওয়ে, ফুটব্রিজ, লিফট-সহ বিভিন্ন পথ দিয়ে আসা যাত্রীদের এই পরীক্ষা কেন্দ্রগুলিতে নিয়ে আসার কথা পুলিশকর্মীদের। এর পরে ওই কেন্দ্রে যাবতীয় পরীক্ষার পর যাত্রীদের যেতে দেওয়া হবে বলে জানানো হয়। এমনকি, দিন-রাত ২৪ঘন্টার জন্য এই প্রক্রিয়া চালু থাকবে বলেও দাবি করেছি রেল ও রাজ্য।

দাবির সঙ্গে বাস্তবের ফারাক চোখে পড়ছে। স্টেশনের উত্তর ও দক্ষিণ দিকে গেলেই দেখা যাচ্ছে, টেবিলে বসে রয়েছেন চিকিৎসক-সহ স্বাস্থ্যকর্মীরা। দেখা নেই পুলিশেরও। দু’জন সিভিক ভলেন্টিয়ারকে দায়িত্ব দেওয়া হলেও তাঁরাও বসেই কাটাচ্ছেন সময়। খারাপ চেহারা স্টেশনের দক্ষিণদিকে। সেখানে লিফট, ফুটব্রিজ, সাবওয়ে-সহ একাধিক বেরনোর পথ থাকায় যাত্রীদের পরীক্ষা কার্যত শিকেয় উঠেছে। এ দিনই বেঙ্গালুরু থেকেই যশবন্তপুর এক্সপ্রেসে ফেরেন একদল নার্সিং পড়ুয়া। তাঁদের মধ্যেই এগরার শাশ্বত পণ্ডা, রামনগরের সহেলী দাসেরা বলেন, “আমরা তো স্টেশনের ফুটব্রিজ দিয়েই নেমে এলাম। ওই স্বাস্থ্যকর্মীরা তো টেবিলে বসেই ছিলেন। আমরা তো ওঁদের সামনে দিয়েই বেরিয়ে এলাম। একবারও দাঁড়াতে বলেননি।” বিহারের ছাপরার কয়েকজন বাসিন্দা খড়্গপুর স্টেশনে এ দিন টিকিট কাটছিলেন। তাঁদেরই একজন সঞ্জয় যাদব বলেন, “আমরা দুগ্ধ খামারে কাজ করি। বিহার থেকে কলকাতায় গিয়েছিলাম। এখন কলকাতা থেকে লোকাল ট্রেনে খড়্গপুরে এসে রাউরকেল্লা যাওয়ার টিকিট কাটতে এসেছি। ফুটব্রিজ দিয়ে এলাম। কেউ বিস্তারিত কিছু জানতে চায়নি। পরীক্ষাও করেনি।”

পরীক্ষাকেন্দ্র কি লোকদেখানো? ওই পরীক্ষাকেন্দ্রের ইন-চার্জ চিকিৎসক তীর্থা মণ্ডল জানার যুক্তি, “আমরা যতটা সম্ভব যাত্রীদের দাঁড় করিয়ে পরীক্ষা করছি। যাত্রীদেরও সচেতন হয়ে আমাদের কাছে আসা উচিত।” খড়্গপুরের অতিরিক্ত মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক দেবাশিস পাল বলেন, “বৈঠকে কথা হয়েছিল সমস্ত যাত্রীদের আটকে পরীক্ষা করা হবে। ঠিক ছিল, পুলিশ থাকবে। কিন্তু সেটা না থাকায় একটা সমস্যা হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে মহকুমাশাসকের সঙ্গে কথা বলব।”

Coronavirus
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy