সবং: বেসরকারি আইটিআই কলেজের তিনতলা ভবন। মাস কয়েক ধরে এই আইআইটি কলেজ ভবনের ছবি-সহ বিজ্ঞাপন দিয়ে লক্ষ-লক্ষ টাকার বিনিময়ে নার্সিং কলেজে পড়ুয়া ভর্তি চলছিল। দাবি করা হচ্ছিল, এটি ব্লকের প্রথম নার্সিং কলেজ। নিউ ভিশন অ্যাকাডেমি নামের সেই নার্সিং কলেজকে ‘ভুয়ো’ দাবি করলেন স্বাস্থ্য অধিকর্তা। এরপরই টনক নড়ল এলাকাবাসীর!
সবং ব্লকের বুড়াল গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার উদ্ধবপুরে এখন ছড়াচ্ছে ক্ষোভ। গত কয়েকমাস ধরে এই এলাকাতেই নিউ ভিশন অ্যাকাডেমি নামে একটি নার্সিং কলেজ খোলা হয়েছে বলে প্রচার চলেছিল। বিজ্ঞাপনে কলেজের যে ভবন দেখানো হয়েছে তা এলাকার আইটিআই কলেজের ভবন হওয়ায় বাড়ছিল সংশয়। এ বার রাজ্যের স্বাস্থ্য অধিকর্তা সেই নিউ ভিশন অ্যাকাডেমি-সহ রাজ্যের ৯টি বেআইনি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে এফআইআর করার নির্দেশ দিয়েছেন। সেই তালিকায় রয়েছে ‘নার্সিং ফার্মেসি’ নামে সবংয়ের আরেকটি নার্সিং কলেজের নাম। যদিও ‘নার্সিং ফার্মেসি’র অস্তিত্ব এখনও খুঁজে পাওয়া যায়নি।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বছর কয়েক আগেই স্থানীয় বাসিন্দা শঙ্করপ্রসাদ মাইতি তাঁর বাবা প্রয়াত গোবিন্দপ্রসাদ মাইতির স্মৃতিতে একটি অছি গঠন করেছেন। বছর কয়েক আগে নিজের জমিতে ‘উৎকর্ষ বাংলা’ নামে অছির অধীনে একটি শিক্ষাকেন্দ্র গড়ে তোলেন শঙ্করপ্রসাদ। চলতি বছরে ‘উৎকর্ষ বাংলা’ বদলে ওই তিনতলা ভবনেই গড়া হয় ‘সবং প্রাইভেট আইটিআই’ কলেজ। সেই আইটিআই কলেজের অনুমোদনে নথিপত্র দিল্লি গেলেও শুরু হয়ে যায় পড়ুয়া ভর্তি। নিযুক্ত হয়েছেন অধ্যক্ষ। কিন্তু একই ভবনে নিউ ভিশন অ্যাকাডেমি নামে নার্সিং কলেজ চালানোর চেষ্টায় আইটিআই কলেজের অধ্যক্ষ জেলা পুলিশ সুপার থেকে মুখ্যমন্ত্রীর কাছে অভিযোগ জানান। উদ্ধবপুরের ওই আইটিআই কলেজের অধ্যক্ষ উজ্বল মাইতি বলেন, “একই ভবন ব্যবহার করে নার্সিং কলেজ চালুর চেষ্টা হওয়ায় কলেজের স্বার্থে অভিযোগ জানিয়েছিলাম। পুলিশ তদন্ত শুরু করতেই আমার কলেজের কর্মী গৌরহরি সামন্ত আমাকে কুরুচিকর মন্তব্য করেন। অছির সম্পাদক শঙ্করপ্রসাদ মাইতিও তাঁর হাতে সাংসদ মানস ভুঁইয়া আছেন বলে আমাকে হুমকি দেন। চাপের মুখে আমি অভিযোগ প্রত্যাহার করি।”
অভিযোগ প্রত্যাহার হলেও শেষমেশ স্বাস্থ্য দফতরের নজরে ভুয়ো নার্সিং কলেজের তালিকায় এসেছে নিউ ভিশন অ্যাকাডেমি। ঘটনায় সরব স্থানীয় সুব্রত মান্না, প্রসেনজিত কুইল্যারা বলেন, “একই ভবনে দু’টি কলেজ দেখে মনে খটকা থাকলেও এলাকায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হচ্ছে ভেবে এতদিন চুপ ছিলাম!” পাশের গ্রাম মোহাড়ের মানস রায়, অনিমেষ বর্মনরা বলেন, “এলাকায় এমন ভুয়ো কলেজ যাঁরা করেছে তাঁরা পড়ুয়াদের ভবিষ্যৎ নিয়ে খেলছে। প্রতিবাদ হবে।”
চাপের মুখে ভোলবদলে অছির সম্পাদক শঙ্করপ্রসাদ মাইতি বলেন, “আমরা তো কোনও নার্সিং কলেজ করিনি। কয়েকজন লোক আমাদের আইটিআই কলেজের ছবি তুলে বিজ্ঞাপন দিয়ে এখানে নার্সিং কলেজের ক্লাস করবে বলে জানিয়েছিল। একটা ঘর চেয়েছিল। আমি দিইনি। অধ্যক্ষ মিথ্যা অভিযোগ তুলছেন।”
তবে ওই নার্সিং কলেজের বিজ্ঞাপনে যাঁর নম্বর ভাসছে সেই গৌরহরি সামন্ত বলেন, “আমরা নার্সিং পড়ুয়া ভর্তি নিয়ে বেঙ্গালুরুর কলেজে পাঠিয়ে দিই। এই কনসালটেন্সির আমি কর্মী। আমাদের মালিক শঙ্করপ্রসাদ মাইতি। আমাদের আইটিআই কলেজের অধ্যক্ষ আমাদের ফাঁসাতে আইটিআই কলেজের ছবি-সহ বিজ্ঞাপন দিয়েছেন।” ঘটনাটি নিয়ে জেলা মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক বলেন, “শুনেছি সবংয়ে এমন ভুয়ো কলেজ রয়েছে। আমরা খোঁজ নিচ্ছি।” আর সবংয়ের ‘ভুমিপুত্র’ মানস ভুঁইয়া বলেন, “ওখানে আইটিআই কলেজ হয়েছে জানি। কিন্তু এসব নার্সিং কলেজের বিষয়ে আমি কিছুই জানিনা। আমি চাই সঠিকভাবে তদন্ত হোক।”