Advertisement
E-Paper

ছড়াচ্ছে ডেঙ্গি, মশা মারতে নয়া ‘কামান’

ডেঙ্গির প্রকোপ দেখা দিয়েছে পশ্চিম মেদিনীপুরে। ইতিমধ্যে আক্রান্ত ১১ জন। সোমবারও জেলার বিস্তীর্ণ এলাকায় বৃষ্টি হয়েছে। জমা জল থেকে মশার উপদ্রব বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় তাই মশা মারার নতুন যন্ত্র আনল জেলা স্বাস্থ্য দফতর। আপাতত আধুনিক প্রযুক্তির ৪টি স্প্রে মেশিন আনা হয়েছে।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০২ অগস্ট ২০১৬ ০১:৪৭
নতুন স্প্রে মেশিন থেকে ধোঁয়া দেওয়া হল নবকোলায় (বাঁ দিকে)। দেখা হল পরিত্যক্ত টায়ারের জমা জলে মশা বাড়ছে কিনা (ডান দিকে)।
 —নিজস্ব চিত্র।

নতুন স্প্রে মেশিন থেকে ধোঁয়া দেওয়া হল নবকোলায় (বাঁ দিকে)। দেখা হল পরিত্যক্ত টায়ারের জমা জলে মশা বাড়ছে কিনা (ডান দিকে)। —নিজস্ব চিত্র।

ডেঙ্গির প্রকোপ দেখা দিয়েছে পশ্চিম মেদিনীপুরে। ইতিমধ্যে আক্রান্ত ১১ জন। সোমবারও জেলার বিস্তীর্ণ এলাকায় বৃষ্টি হয়েছে। জমা জল থেকে মশার উপদ্রব বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় তাই মশা মারার নতুন যন্ত্র আনল জেলা স্বাস্থ্য দফতর। আপাতত আধুনিক প্রযুক্তির ৪টি স্প্রে মেশিন আনা হয়েছে। জেলার চারটি মহকুমার প্রত্যেকটিতে একটি করে মেশিন পাঠানোর কথা।

ইতিমধ্যে যে এলাকায় ডেঙ্গি ছড়িয়েছে, গড়বেতা ৩ ব্লকের সেই নবকোলায় এই স্প্রে মেশিন দিয়ে ধোঁয়া দেওয়া শুরু হয়েছে। জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক গিরীশচন্দ্র বেরা বলেন, “যে সব এলাকায় জ্বর হচ্ছে, সেখানে মেডিক্যাল টিম পাঠানো হয়েছে। স্বাস্থ্যকর্মীরা বাড়ি বাড়ি যাচ্ছেন। ডেঙ্গি নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ার মতো কিছু হয়নি।’’

দিন কয়েক আগে গড়বেতা ৩ ব্লকের নবকোলায় জ্বরে আক্রান্ত হয়ে দুই কিশোরীর মৃত্যু হয়। বেশ কয়েকজন জ্বরে আক্রান্ত হন। এরপরই নড়েচড়ে বসে স্বাস্থ্য দফতর। জ্বরে আক্রান্তদের রক্তের নমুনা সংগ্রহ করে কলকাতার স্কুল অফ ট্রপিক্যাল মেডিসিনে পাঠানো হয়। শনিবার প্রাথমিক রিপোর্ট জেলায় আসার পরে দেখা যায়, যে ১৮ জনের রক্তের নমুনা পাঠানো হয়েছিল, তার মধ্যে ১১ জনই ডেঙ্গি আক্রান্ত। তারপরই হইচই পড়ে।

সোমবারও গড়বেতা-৩ ব্লকের একাধিক এলাকায় মেডিক্যাল টিম গিয়েছিল। বাসিন্দাদের স্বাস্থ্য-পরীক্ষা হয়। রক্তের নমুনা সংগ্রহ করা হয়। এলাকায় মশারি বিলিও হয়েছে। ছিলেন জেলার উপ-মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক রবীন্দ্রনাথ প্রধান। তিনি বলেন, ‘‘যে সব এলাকায় জ্বর ছড়িয়েছে, সেখানে মশা তাড়াতে ধোঁয়া ছড়ানো হচ্ছে। নতুন মেশিন আসায় কাজে সুবিধে হয়েছে। একসঙ্গে অনেকটা এলাকা জুড়ে ধোঁয়া ছড়ানো যাচ্ছে।’’ জেলা স্বাস্থ্য দফতরের এক সূত্রে খবর, নতুন এই স্প্রে মেশিন চালানোর জন্য প্রশিক্ষিত কর্মী প্রয়োজন। তাই সব এলাকায় এই মেশিন পাঠানো হবে না। যেখানে ডেঙ্গির প্রকোপ দেখা দেবে, সেখানেই পাঠানো হবে।

পশ্চিম মেদিনীপুরে ডেঙ্গির হানা অবশ্য এই প্রথম নয়। প্রায় ফি বছরই ডেঙ্গিতে শতাধিক মানুষ আক্রান্ত হন। গত বছরও জেলায় থাবা বসিয়েছিল মশাবাহী এই রোগ। এক কলেজ ছাত্রীর মৃত্যু পর্যন্ত হয়েছিল। এ বারও জেলার শতাধিক মানুষ ইতিমধ্যে জ্বরে আক্রান্ত হয়েছেন। মূলত দাসপুর, চন্দ্রকোনা, ঘাটাল, শালবনি, দাঁতন প্রভৃতি এলাকায় জ্বরের প্রকোপ বেশি। তাই ওই সব এলাকায় বাড়তি সতর্কতা নেওয়া হচ্ছে।

জেলার এক স্বাস্থ্য-কর্তার মতে, নিয়মিত আবর্জনা পরিষ্কার না হওয়ায় মশার উপদ্রব বাড়ছে। শহর থেকে গ্রাম— এক ছবি। বর্ষায় আবার যত্রতত্র জল জমে পরিস্থিতি মশার বংশ বিস্তারে অনুকূল হয়ে উঠছে। অবস্থা মোকাবিলায় সচেতনতা কর্মসূচিতে জোর দিচ্ছে জেলা স্বাস্থ্য দফতর। দফতরের উদ্যোগে ‘লিফলেট’ বিলি করা জানানো হচ্ছে, এই রোগ দূরে রাখতে কী ভাবে আগাম সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। মশারি টাঙিয়ে ঘুমনোর পরামর্শও দিচ্ছেন স্বাস্থ্য কর্তারা। জেলার উপ-মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক রবীন্দ্রনাথবাবু বলেন, “ডেঙ্গি প্রতিরোধে সচেতনতা কর্মসূচি হচ্ছে। রোগের উপসর্গ, সাবধনতায় কী করণীয় সে সব মানুষকে জানানো হচ্ছে।’’ এই কর্মসূচি আর নয়া ‘কামান ডেঙ্গি ঠেকানো যায় কিনা সেটাই এখন দেখার।

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy