Advertisement
E-Paper

এক দিনে আক্রান্ত ৮৪, একশো ছুঁয়েই দু’শোর দিকে

রাজ্য স্বাস্থ্য দফতরের বুলেটিন বলছে, গত ২৪ ঘন্টায় এই জেলায় করোনায় সংক্রমিত হয়েছেন ৮৪ জন!

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০৮ জুন ২০২০ ০৩:৩৬
দাসপুরের একটি কোয়রান্টিন কেন্দ্র  জীবাণুমুক্ত করা হচ্ছে। নিজস্ব চিত্র

দাসপুরের একটি কোয়রান্টিন কেন্দ্র  জীবাণুমুক্ত করা হচ্ছে। নিজস্ব চিত্র

করোনা আক্রান্তের সংখ্যা একশোর কোঠায় ঢুকেই প্রায় দু’শোর কাছাকাছি পৌঁছে গেল পশ্চিম মেদিনীপুরে। রবিবারই নয়া ‘রেকর্ড’ হল জেলায়।

রাজ্য স্বাস্থ্য দফতরের বুলেটিন বলছে, গত ২৪ ঘন্টায় এই জেলায় করোনায় সংক্রমিত হয়েছেন ৮৪ জন! যা এক দিনে রাজ্যে জেলাওয়াড়ি আক্রাম্ত বৃদ্ধির হারে রেকর্ড। এই মুহূর্তে জেলায় আক্রান্তের সংখ্যা ১৭৭। শনিবার সংখ্যাটা ছিল ৯৩।! জেলায় প্রথম করোনা সংক্রমিতের খোঁজ মিলেছিল মার্চের শেষে। এরপর গত আড়াই মাসে সবমিলিয়ে যত সংক্রমিতের খোঁজ মিলেছে, তার প্রায় সম-সংখ্যক সংক্রমিতের খোঁজ মিলল রবিবার। অনেকের কাছেই এটা উদ্বেগের ঠেকছে।

মেদিনীপুর মেডিক্যাল-সহ একাধিক পরীক্ষাগারে জেলার নমুনাগুলির পরীক্ষা হয়েছে। শনিবার রাত থেকে রিপোর্ট এসেছে। কোন এলাকায় কতজন পজ়িটিভ, রবিবার সকাল থেকে তা মিলিয়ে দেখতেই ব্যস্ত ছিলেন একাংশ স্বাস্থ্যকর্মী। তাঁদেরই একজন বলছিলেন, ‘‘একসঙ্গে এতজনের পজ়িটিভ রিপোর্ট আগে কখনও আসেনি।’’ জেলায় তো একদিনে ‘রেকর্ড’ সংক্রমণ হল? জেলাশাসক রশ্মি কমলের দাবি, ‘‘পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। উদ্বেগের কোনও কারণ নেই।’’ একই মত জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক নিমাইচন্দ্র মণ্ডলের। তিনি বলেন, ‘‘বেশ কয়েকজন সংক্রমিত হয়েছেন। প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করা হচ্ছে।’’

রবিবার জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকেই সংক্রমণের খবর মিলেছে। ঘাটাল, দাসপুরে বিপুল সংক্রমণ হয়েছে। কেশপুর, গড়বেতা, দাঁতনেও সংক্রমিতের হদিস মিলেছে। এমনকি, জেলার সদর শহর মেদিনীপুরেও দু’জন সংক্রমিত হয়েছেন বলে খবর। স্থানীয় প্রশাসনের অবশ্য দাবি, শহরের ওই দু’জনের কেউই এখন শহরে নেই। ছোটবাজারের বাসিন্দা একজন এখন পড়শি এক জেলায় রয়েছেন। রবীন্দ্রনগরের বাসিন্দা একজন চিকিৎসার জন্য কলকাতায় রয়েছেন। জেলা প্রশাসনের এক সূত্র মনে করিয়ে দিচ্ছে, করোনা সংক্রমিত বেশিরভাগই পরিযায়ী শ্রমিক। পরিযায়ী শ্রমিকেরা ফিরেছেন। তাঁদের পরীক্ষা হয়েছে। তাই সংক্রমণ বেড়েছে।

জেলার প্রথম আক্রান্ত ছিলেন মুম্বই ফেরত পরিযায়ী শ্রমিক। গত দু’সপ্তাহে বহু পরিযায়ী শ্রমিক ফিরেছেন। এরপরই আক্রান্তের সংখ্যা হু হু করে বাড়ছে। নতুন নতুন এলাকায় সংক্রমণ দেখা দিচ্ছে। সংক্রমণ বৃদ্ধির হার উদ্বেগজনক। জেলায় করোনা আক্রান্তের সংখ্যা পঞ্চাশ থেকে একশোয় পৌঁছতে সময় লাগল মোটে পাঁচ দিন। জেলার এক স্বাস্থ্য আধিকারিকও মানছেন, ‘‘আক্রান্তদের মধ্যে বেশিরভাগই পরিযায়ী শ্রমিক।’’ তাঁরও যুক্তি, ‘‘পরীক্ষার হার বাড়ানো হয়েছে। তাই সংক্রমিতও বাড়ছে।’’ প্রশাসনের এক সূত্রে খবর, রবিবার পর্যন্ত জেলায় প্রায় ৬২ হাজার পরিযায়ী শ্রমিক ফিরেছেন। এঁদের অনেকে মহারাষ্ট্র, দিল্লি, গুজরাতের মতো সংক্রমণ-প্রবণ রাজ্য থেকে ফিরেছেন। এঁদের রাখার জন্য প্রায় ১,৯০০ নিভৃতবাস (কোয়রান্টিন) কেন্দ্র খুলতে হয়েছে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে এলাকার স্কুলগুলিকেই নিভৃতবাস কেন্দ্র করা হয়েছে।

যে ভাবে জেলায় লাফিয়ে বাড়ছে করোনা সংক্রমণ, তা উদ্বেগেরই ঠেকছে অনেকের কাছে। চলতি মাসে সংখ্যাটা কোথায় গিয়ে পৌঁছবে, সে নিয়েও চিন্তায় রয়েছেন অনেকে।

Covid-19 Coronavirus
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy