Advertisement
E-Paper

শৌচকর্মে বস্তির ভরসা মাঠই

কোনও বাড়িতেই নেই শৌচালয়। এমনকী নেই সুলভ শৌচালয়ও। গত পুর নির্বাচনের আগে এলাকায় ঘুরে মানুষের অভাব-অভিযোগ শুনেছিলেন কেন্দ্রের শাসকদল বিজেপির সম্পাদক সিদ্ধার্থনাথ সিংহ।

দেবমাল্য বাগচী

শেষ আপডেট: ১৪ জুলাই ২০১৭ ০০:০০

কোথাও বাড়ির সামনে-পিছনে খোলা জায়গায় চট ঘেরা ছোট্ট জায়গাতেই স্নান সারছেন পরিবারের সদস্যরা। চটের চেহারাও জীর্ণ। তার উপর ভোর হতে না হতেই ছেলে-মেয়ে সকলকেই শৌচকর্মের জন্য ছুটতে হচ্ছে রেল লাইনের ধারে অথবা ঝোপের আড়ালে। যার পরিণামে দূষণ ছড়াচ্ছে এলাকায়। এমন দৃশ্য কোনও গ্রামাঞ্চলের নয়, খোদ রেলশহর খড়্গপুরের।

কেন্দ্রীয় সরকারের লক্ষ্য ঘরে-ঘরে শৌচালয়। চলছে স্বচ্ছ ভারত অভিযান। অথচ গোটা রেল শহরেই এমন এ দৃশ্য চোখে পড়ছে অহরহ। গত এপ্রিল মাসে শহরে এসে রেল প্রতিমন্ত্রী রাজেন গোহেন বলেছিলেন, রেলের বস্তি এলাকায় ন্যূনতম নাগরিক পরিষেবায় বাধা থাকতে পারে না। কিন্তু তার পরেও রেলশহরে রেলের জমিতে থাকা বস্তি এলাকায় শৌচালয়ের অভাবে মানুষের ভরসা খোলা মাঠ। শহরের বিভিন্ন রেলবস্তিতে বাড়ি-বাড়ি শৌচালয় দূরের কথা সুলভ শৌচালয়ও নেই। আবার যেখানে রয়েছে তা ব্যবহারের অযোগ্য। বিপজ্জনকও বটে।

শহরের বড় আয়মার রামনগরে প্রায় দেড়শো পরিবারের বাস। কোনও বাড়িতেই নেই শৌচালয়। এমনকী নেই সুলভ শৌচালয়ও। গত পুর নির্বাচনের আগে এলাকায় ঘুরে মানুষের অভাব-অভিযোগ শুনেছিলেন কেন্দ্রের শাসকদল বিজেপির সম্পাদক সিদ্ধার্থনাথ সিংহ। দিয়েছিলেন নানা প্রতিশ্রুতি। পরে রেলমন্ত্রী সুরেশ প্রভু খড়্গপুরে এসে শহরের বস্তি এলাকার উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দেন। প্রতিশ্রুতি ছিল তৃণমূলেরও। পুরভোট থেকে বিধানসভা নির্বাচন পেরিয়ে গিয়েছে। এখন শহরের বিধায়ক বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ। পুরপ্রধান তৃণমূলের শহর সভাপতি প্রদীপ সরকার। কিন্তু রামনগর রেলবস্তির অনুন্নয়নের ছবিটা বদলায়নি। স্থানীয় শান্তিদেবী সিংহ, শচীনাদেবী সিংহ বলেন, ‘‘কোথায় উন্নয়ন! এখনও মেয়েদের সম্মান বিসর্জন দিয়ে শৌচকর্মের জন্য রেল লাইনের ধারে যেতে হয়। বর্ষায় ভোগান্তির শেষ থাকে না।’’ তাঁদের ক্ষোভ, টিভিতে, খবরের কাগজে প্রধানমন্ত্রী বাড়ি-বাড়ি শৌচালয়ের কথা বলছেন। কিন্তু ভোটের পরে কেউ তাঁদের দিকে ফিরেও তাকায় না।

সিএমই গেট সংলগ্ন রেলবস্তিরও একই ছবি। নেই বাড়ি-বাড়িতে শৌচালয়। বাড়ির সামনে ছোট্ট ঘেরা অংশে স্নান সারতে হয়। শৌচকর্মের জন্য দু’টি সুলভ শৌচালয় থাকলেও কাদা-জঙ্গল পেরিয়ে সেখানে যাওয়া যেমন বিপজ্জনক তেমনই নোংরা- দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ এলাকাবাসী।

রেলের স্বাস্থ্য বিভাগের সুপারিন্টেন্ডেন্ট এ মণ্ডল বলেন, “রেলের এলাকায় জবরদখল আইন বিরুদ্ধ। তাই সেখানে শৌচালয় গড়া মানে দখলদারিকে প্রশ্রয় দেওয়া।”

Toilet Field Slum বস্তি শৌচকর্ম
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy