×

আনন্দবাজার পত্রিকা

Advertisement

২৮ জানুয়ারি ২০২১ ই-পেপার

তৃণমূল অফিসের রং বদলে জোর জল্পনা  

নিজস্ব সংবাদদাতা
মেদিনীপুর৩০ নভেম্বর ২০২০ ০০:২২
এই অফিসের রং বদলেই বিতর্ক। নিজস্ব চিত্র।

এই অফিসের রং বদলেই বিতর্ক। নিজস্ব চিত্র।

শুভেন্দু অধিকারীর মন্ত্রিত্বে ইস্তফার রাতেই তাঁর খাসতালুক পূর্ব মেদিনীপুরের খেজুরিতে আধ ডজন তৃণমূল কার্যালয় দখলের অভিযোগ ওঠে বিজেপি-র বিরুদ্ধে। ঘাসফুলের পতাকা নামিয়ে সেখানে উড়েছে গেরুয়া পতাকা।

অত দূর না হলেও খাস মেদিনীপুর শহরে এ বার এক তৃণমূল কার্যালয়ের রং বদল হয়েছে। আর তাতেই শুরু হয়েছে জল্পনা, এ বার কি হাতবদলও হবে!

স্টেশন রোডের অদূরে, চার্চস্কুলের সামনে ওই তৃণমূল অফিসে মূলত ‘দাদা’-র অনুগামীরাই বসতেন। শুভেন্দুকে নিয়ে জল্পনা-পর্বের মধ্যেই সম্প্রতি ওই অফিসটির রং বদলে হলুদ পোঁচ পড়েছে। দেওয়াল থেকে নেমেছে দলের নাম লেখা সাইনবোর্ড।

Advertisement

শুভেন্দুর অন্যতম ঘনিষ্ঠ স্নেহাশিস ভৌমিকের উদ্যোগেই বছর কয়েক আগে শহরে দলের ওই অফিস গড়ে ওঠে। স্নেহাশিস এখন তৃণমূলের পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা সাধারণ সম্পাদক। তিনি যখন যুব তৃণমূলে ছিলেন, সে সময়েই অফিসটি তৈরি হয়। দীর্ঘ সময়ে এটি মেদিনীপুর শহর তৃণমূল যুব কংগ্রেস কার্যালয় ছিল। দেওয়ালেও সংগঠনের নাম লেখা ছিল। সরকারি জমি দখল করেই অফিসটি গড়ে ওঠায় সে সময়ে বিতর্কও হয়েছে। মেদিনীপুরে এক কর্মসূচিতে এসে অফিসটির উদ্বোধন করেছিলেন মন্ত্রী শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়। এখন অবশ্য দেওয়ালে দল কিংবা সংগঠনের কোনও নাম নেই। সে নাম মুছে হলুদ রং করা হয়েছে।

জল্পনা উড়িয়ে স্নেহাশিস অবশ্য বলেন, ‘‘অফিসের রংটা পুরনো হয়ে গিয়েছিল। তাই নতুন করে রং করা হচ্ছে। ওখানে দলের নামও লেখা হবে। এ নিয়ে জল্পনার কিছুই নেই।’’ তাঁর কথায়, ‘‘অফিসটি আমাদেরই ছিল, আমাদেরই থাকবে।’’ এ প্রসঙ্গে তৃণমূলের জেলা সভাপতি অজিত মাইতি বলেন, ‘‘ওখানে ঠিক কী হয়েছে জানা নেই। খোঁজ নিচ্ছি।’’ প্রায় একই দাবি করেছেন দলের শহর সভাপতি বিশ্বনাথ পাণ্ডব। তবে স্নেহাশিসের সঙ্গে জেলা তৃণমূলের দূরত্বও স্পষ্ট। শনিবার মেদিনীপুরে সুব্রত বক্সীর দলীয় সভায় হাতেগোনা যে অনুগামীরা ডাক পাননি, তাঁদের মধ্যে ছিলেন স্নেহাশিসও। স্নেহাশিসের অবশ্য দাবি, কোনও দূরত্ব নেই। তিনি দলেই আছেন।

তবে জল্পনায় থেকেই যাচ্ছে ওই হলুদ রং। ক’দিন আগে মেদিনীপুরে জগদ্ধাত্রী পুজোর উদ্বোধনে এসেছিলেন শুভেন্দু। সে দিনও তাঁর অনুগামীদের কাঁধে হলুদ রঙের পতাকা দেখা গিয়েছিল। অনুগামীদের অবশ্য দাবি, বিষয়টি কাকতালীয়। ওই অফিসে আসা- যাওয়া করা এক অনুগামীর কথায়, ‘‘যে রং হাতের কাছে পাওয়া গিয়েছে, তা দিয়েই রং করা হয়েছে। রং নিয়ে আমাদের কোনও ছুতমার্গ নেই। দলের অফিসটি সংস্কারই করা হচ্ছে।’’

মন্ত্রিত্ব ছাড়লেও তৃণমূলের সঙ্গে সম্পর্ক ছেদ করেননি শুভেন্দু। শনিবার মেদিনীপুরে এসে দলের রাজ্য সভাপতি সুব্রত বক্সীও জানিয়েছেন, ‘‘শুভেন্দু দলেই আছেন।’’ তবু মেদিনীপুরে তৃণমূলের ওই অফিসের রং বদল নিয়েও দলের বাইরে-ভিতরে চাপা গুঞ্জন শুরু হয়েছে। আর শুভেন্দু- অনুগামীরা যে সক্রিয় রয়েছেন মেদিনীপুরে, তার প্রমাণ মিলেছে রবিবারও। এদিন সকালে কিছু নতুন ফ্লেক্স দেখা গিয়েছে শহরের মল্লিকচকে। স্থানীয় রাস উৎসব প্রাঙ্গনের আশেপাশে। ‘দাদা’- র অনুগামীরাই শুভেন্দুর ছবি সম্বলিত ফ্লেক্সগুলি দিয়েছেন। কোনওটায় লেখা, ‘ক্ষমতার জন্য নয়, মানুষের কাজ করার জন্য আমাদের রাজনীতি’। কোনওটায় লেখা, ‘তাই তো বলি বাংলাতে ভাই, শুভেন্দুদা তোমাকে চাই।’

Advertisement