দীর্ঘ দু’মাস বাদে ঘরে ফিরলেন ঘরছাড়ারা। প্রশাসনের আধিকারিকদের সঙ্গে রাস্তায় হাঁটলেন যুযুধান তৃণমূল এবং বিজেপির নেতা ও বিধায়ক। ঘরছাড়াদের ঘরে ফেরানোর প্রক্রিয়ায় রবিবার সৌজন্যের রাজনীতির সাক্ষী থাকল খেজুরি।
বিধানসভা ভোটের পর থেকে খেজুরি, ভগবানপুর, পটাশপুর এবং নন্দীগ্রাম সহ পূর্ব মেদিনীপুর জেলার বিভিন্ন জায়গায় বিরোধী কর্মী-সমর্থকরা ঘরছাড়া। শাসক দলের সন্ত্রাসে তাঁরা দীর্ঘদিন ধরে ঘরে ফিরকতে পারছিলেন না বলে অভিযোগ। হাইকোর্টের নির্দেশ মেনে শনিবার থেকে ঘরছাড়াদের ঘরে ফেরানোর প্রক্রিয়া শুরু করেছে প্রশাসন। এদিন খেজুরি-২ নম্বর ব্লকের বারাতলায় পুলিশের উদ্যোগে ঘরছাড়া বিজেপি কর্মী সমর্থকদের ঘরে ফেরানো হয়। ঘরছাড়া ৫৬ টি পরিবারকে ঘরে ফেরানো হয়। সেই সময় দলের কর্মী-সমর্থকদের সঙ্গে হাজির ছিলেন স্থানীয় বিজেপি বিধায়ক শান্তনু প্রামাণিক। পাশাপাশি উপস্থিত ছিলেন এলাকায় বিধানসভা ভোটে পরাজিত তৃণমূল প্রার্থী পার্থপ্রতিম দাস।
এ দিন খেজুরি থানা থেকে অটোয় করে ৫৬টি ঘরছাড়া পরিবারকে বারাতলা গ্রামে নিয়ে যাওয়া হয়। তারপর পুলিশি নিরাপত্তার ঘেরাটোপে সকলকে তাঁদের বাড়িতে পৌঁছে দেওয়া হয়। তাঁদেরই একজন ভোলানাথ করণ বলেন, ‘‘বিধানসভা ভোটের ফল ঘোষণার পর থেকেই ঘরছাড়া ছিলাম। প্রশাসন আজ আমাদের ঘরে পৌঁছে দিয়েছে।’’ তবে পুলিশি নিরাপত্তার ঘেরাটোপে বাড়ি ফিরলেও আতঙ্ক এখনও পিছু তাড়া করে বেড়াচ্ছে বলে জানালেন ওই গ্রামেরই বাসিন্দা রামচন্দ্র মণ্ডল। যদিও ঘরে ফেরা বিজেপি কর্মী সমর্থকদের সম্পূর্ণ সহযোগিতা করার ব্যাপারে আশ্বস্ত করেছেন পুলিশ কর্তারা। পাশাপাশি বারাতলায় পুলিশ ফাঁড়ির পাশাপাশি একটি নতুন পুলিশ ক্যাম্প করা হয়েছে। সেখানেও যে সব ঘরছাড়া বিজেপি কর্মী-সমর্থকরা বাড়ি ফিরেছেন তাঁরা তাঁদের সমস্যা এবং অভাব-অভিযোগের কথা জানাতে পারবেন বলে প্রশাসনের তরফে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
যদিও সন্ত্রাসের অভিযোগ মানতে নারাজ শাসক দল তৃণমূল। এ প্রসঙ্গে খেজুরির তৃণমূল প্রার্থী পার্থপ্রতিম দাস বলেন, ‘‘রাজ্যে ক্ষমতায় আসতে পারেনি জেনে অনেকে নিজের থেকে বাড়ি ছেড়ে চলে গিয়েছিল। আমরা চাই তারা নিজেদের বাড়িতে থেকে স্বাভাবিক জীবন যাপন করুক। এলাকার বাসিন্দা হিসেবে তাদের সমস্যা কী রয়েছে তা জানার জন্য পঞ্চায়েতের প্রতিনিধি হিসেবে আমি উপস্থিত ছিলাম।’’ স্থানীয় বিজেপি বিধায়ক শান্তনু প্রামাণিক বলেন, ‘‘দীর্ঘদিন ধরে আমাদের দলের বহু কর্মী-সমর্থকের পরিবার ঘরছাড়া ছিল। হাইকোর্টের নির্দেশ মেনে প্রশাসন এ দিন ৫৬ টি পরিবারকে ঘরে ফিরিয়েছে। আমরা তাদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রেখে চলব।’’
নন্দীগ্রামে পাশের বিধানসভা কেন্দ্র খেজুরি। দীর্ঘ কয়েক দশক ধরেই বিরোধীরা সেখানে আক্রান্ত বলে অভিযোগ উঠেছে। যার জেরে অতীতেও ঘরছাড়া হয়েছিলেন অনেকে। কিন্তু সেই সব ঘরছাড়াদের ঘরে ফেরাতে শাসক এবং বিরোধী যৌথ উদ্যোগ ও সৌজন্যের ছবি এই প্রথম দেখল খেজুরি।