প্রত্যন্ত এলাকার পড়ুয়াদের কাছে সেরা বইয়ের সম্ভার তুলে ধরতে কলেজের উদ্যোগে শুরু হল বইমেলা। বৃহস্পতিবার দাঁতন ভট্টর মহাবিদ্যালয়ের উদ্যোগে পঞ্চম বর্ষের এই বইমেলার সূচনা হয়। মেলা চলবে ২১ডিসেম্বর পর্যন্ত।
এ দিন মেলার উদ্বোধন করেন বিদ্যাসাগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য রঞ্জন চক্রবর্তী। ছিলেন সাহিত্য আকাদেমীর পূর্বাঞ্চলীয় অধিকর্তা গোপালচন্দ্র বর্মন, কলেজের অধ্যক্ষ পবিত্রকুমার মিশ্র, কলেজ পরিচালন সমিতির সভাপতি বিক্রম প্রধান। মেলায় প্রায় ৪০টি নানা ধরনের বইয়ের স্টল ছাড়াও রয়েছে গ্রাম পঞ্চায়েত ও হস্তশিল্পের স্টল। পাওয়া যাচ্ছে পিংলার পট, দাসপুরের শিংয়ের কাজ, দাঁতনের কয়েকটি স্বনির্ভর গোষ্ঠীর বাঁশের কাজের পসরা। মেলা উপলক্ষে প্রতিদিন আলোচনা সভা, অসমের বিহু, ওড়িশি নৃত্য-সহ নানা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান থাকছে।
এ দিন বইমেলার সূচনায় প্রথমে শোভাযাত্রা হয়। দুপুরে উদ্বোধন হয় মেলার। গ্রেট সোলস্ প্যাভিলিয়ন, হস্তশিল্প প্রদর্শনী, বালুকা শিল্প প্রদর্শনীরও উদ্বোধন করা হয়। উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে ছিল সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। প্রথম দিনে পূর্ব মেদিনীপুরের পুতুল নাচ, পিংলার পটের গান নজর কাড়ে। ছিল পড়ুয়ারা নাটক। ন্যাশনাল বুক ট্রাস্ট, সাহিত্য আকাদেমী, ছায়া প্রকাশনীর মতো একাধিক প্রকাশনা সংস্থার বইয়ের সম্ভার এ বার এসেছে মেলায়। রয়েছে ‘আনন্দ’-র বইও। ভট্টর কলেজ পরিচালন সমিতির সভাপতি বিক্রম প্রধান বলেন, “পাঁচ বছর আগে কলেজ পড়ুয়াদের সঙ্গে এলাকার মানুষের বইয়ের প্রতি আকর্ষণ বাড়াতে এই বইমেলা শুরু হয়েছিল। প্রতি বছর মেলা ঘিরে উৎসাহ বাড়ছে।’’
শুক্রবার রক্তদান শিবির, শনিবার দন্ত চিকিৎসা শিবির, ভ্রাম্যমাণ বিজ্ঞান প্রদর্শনী, রবিবার বিজ্ঞান শিবিরের আয়োজন করা হয়েছে। এ ছাড়াও থাকছে ‘দাঁতনের উন্নয়ন’, ‘জীব বৈচিত্র’, ‘মৌখিক স্বাস্থ্য’, ‘সৌরমণ্ডলে জীবন’ শীর্ষক আলোচনাসভা। বইমেলার উদ্বোধন করে বিদ্যাসাগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য রঞ্জন চক্রবর্তী বলেন, “দাঁতন ভট্টর কলেজে স্নাতকোত্তর কোর্স চালুর পরিকল্পনা করা হচ্ছে। আমাদের বিশ্বাস যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় যেমন বিশ্বে পরিচিত তেমন বাংলার প্রান্তিক এই কলেজ একদিন দেশের মুখ উজ্বল করবে। রুসার অর্থে এই কলেজের প্রভুত উন্নয়ন সম্ভব।’’ সাহিত্য আকাদেমীর পূর্বাঞ্চলীয় অধিকর্তা গোপালচন্দ্র বর্মনেরও বক্তব্য, “একটা কলেজ বইমেলার আয়োজন করছে দেখে আমি অভিভুত। এই কলেজ চাইলে আমরা সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেব।”