‘ছড়া যদি ধরা যায়/ প্রাণমন ভরা যায়/ যদি আসে মগজে/ লিখি তবে কাগজে’।
গাছের তলায় শতরঞ্চির উপর লেখায় মগ্ন জনা চল্লিশ খুদে। প্রতিভার আঁতুড়ঘরে সকলেই বিশেষ মনোযোগী। গোটা গোটা অক্ষরে পেন্সিল দিয়ে খসখস করে কচিহাতের কেরামতিতে নির্মাণ হচ্ছে একের পর এক স্বরচিত ছড়া! নতুন শিশু ছড়াকারের সন্ধানে শনিবার অরণ্যশহরের সুখময় শিশুতীর্থ প্রাঙ্গণে এমনই অভিনব প্রতিযোগিতা হল। ঝাড়গ্রাম বইমেলা কমিটির উদ্যোগে আগামী তিন মাস জঙ্গলমহলের বিভিন্ন প্রাথমিক ও নার্সারি স্কুলে স্বরচিত ছড়া লেখার প্রতিযোগিতা হবে। ঝাড়গ্রাম বইমেলা কমিটির যুগ্ম সম্পাদক চন্দন দত্ত জানান, সারাদিন পড়াশোনা আর ‘হোমওয়ার্ক’। তার মাঝে কেউ গিটার শেখে। কেউ শেখে গান। কেউ আবার ছবি আঁকে নয়তো নাচের ক্লাসে যায়। ছড়া লেখে এমন সংখ্যাটা বড্ড বিরল। নতুন প্রতিভা অন্বেষণের লক্ষ্যে তাঁদের এই উদ্যোগ। শিক্ষাব্রতী চিন্ময় সেনগুপ্তর কথায়, “ওদের মধ্যে থেকেই হয়তো কেউ কেউ ভবিষ্যতের অমিতাভ চৌধুরী, অন্নদাশঙ্কর রায়, ভবানীপ্রসাদ মজুমদার কিংবা রতনতনু ঘাঁটি, শ্যামলকান্তি দাসের মতো দুঁদে ছড়াকার হয়ে উঠবে!”
এ দিন অরণ্যশহরের বাছুরডোবায় সুখময় শিশুতীর্থ প্রাঙ্গণে খুদে প্রতিভা অন্বেষণের এই কর্মসূচির সূচনা করেন প্রবীণ সমাজসেবী বিষ্ণুপদ রায়। এখনকার সোস্যাল নেটওয়ার্কের অনলাইন চ্যাটে অভ্যস্ত প্রজন্মকে তাঁর পরামর্শ, “চ্যাটে ছড়ার মাধ্যমে কথোপকথন চালালেও কিন্তু সুপ্ত প্রতিভার উন্মেেষর সম্ভাবনা রয়েছে।”
এ দিন শহরের একটি বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ইচ্ছুক ৩৬ জন খুদে পড়ুয়া প্রতিযোগিতায় যোগ দেয়। প্রতিযোগিতার শেষে সবাকেই পুরস্কৃত করা হয়। বইমেলা কমিটি সূত্রে জানানো হয়েছে, প্রতিটি স্কুলের সেরা ছড়াগুলিকে নিয়ে আগামী ৪ মার্চ ঝাড়গ্রাম বইমেলার সূচনা দিনে একটি সংকলন প্রকাশ করা হবে।