প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়নে অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রগুলিকে মডেল হিসাবে তৈরির বিষয়ে উদ্যোগী হল রাজ্য সরকার। ইতিমধ্যেই পাইলট প্রজেক্ট হিসাবে গোটা রাজ্যে এক হাজার অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রের মান বাড়িয়ে মডেল কেন্দ্র তৈরিও হয়েছে।
শুক্রবার হাওড়ার এক অনুষ্ঠানে মডেল অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র গুলির সূচনা করেন নারী, শিশু ও সমাজকল্যাণ দফতরের মন্ত্রী শশী পাঁজা। পশ্চিম মেদিনীপুর জেলাতেও পঞ্চাশটি মডেল অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র তৈরি হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই কেন্দ্রগুলির নামকরণ করেছেন ‘শিশু আলয়’। এ দিন গড়বেতা-৩ ব্লকের কড়সা পঞ্চায়েতের শোনপুর শিশু আলয় কেন্দ্র থেকে ৫০টি শিশু আলয় কেন্দ্রের উদ্বোধন করেন মন্ত্রী সুকুমার হাঁসদা। সুকুমারবাবু এ দিন বলেন, “ধীরে ধীরে এ বার সমস্ত অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র গুলিরই মান বাড়িয়ে শিশু আলয় কেন্দ্র হিসাবে গড়ে তোলা হবে। এখানে এ বার থেকে নির্দিষ্ট পদ্ধতিতে প্রাক প্রাথমিক স্তরে শিক্ষা পাবে শিশুরা।” এ দিন অনুষ্টানে উপস্থিত ছিলেন জেলা সুসংহত শিশু বিকাশ সেবা প্রকল্প আধিকারিক অসিতবরণ মণ্ডল, সভাধিপতি উত্তরা সিংহ, শালবনির বিধায়ক শ্রীকান্ত মাহাতো।
শিশুদের স্কুলমুখী করার ও অন্যান্য লক্ষ্যে কেন্দ্রীয় মানবসম্পদ উন্নয়ন দফতর গোটা দেশে অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র চালু করে। রাজ্যে এটির দেখভাল করে সমাজকল্যাণ দফতর। কেন্দ্র ও রাজ্য যৌথ ভাবেই চলছে এই প্রকল্পটি। মূলত এখানে ৩-৬ বছরের শিশুদের প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষা দেওয়ার পাশাপাশি প্রসূতিদের কাউন্সেলিং, সঠিক সময়ে টিকা নেওয়া-সহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনাও হয়। দেওয়া হয় মা ও শিশুদের পুষ্টিকর খাবারও। গোটা রাজ্যেই অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রj হাল খারাপ। ১৯৭৫ সাল থেকে অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রগুলি চলছে। জেলায় মোট ৮৭২০টি অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র রয়েছে। তার মধ্যে ৭০ শতাংশের নিজস্ব ঘর রয়েছে বলে দাবি দফতরের জেলা প্রকল্প আধিকারিকের।