এক শিশুর অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়াল তমলুকে। বৃহস্পতিবার ভোরে পূর্ব মেদিনীপুরের তমলুক থানার বাড়মির্জাপুর গ্রামের একটি ন’মাসের শিশুর মৃতদেহ উদ্ধার হয়। ঘটনায় ওই শিশুর বাবা সুব্রত বেরার বিরুদ্ধে খুনের অভিযোগ দায়ের করেছে শিশুটির মামাবাড়ির পরিবার।
জানা গিয়েছে বুধবার রাতে মায়ের সঙ্গে মামার বাড়িতে ঘুমিয়েছিল ন’মাসের শ্রেয়সী। পরদিন ভোরে তার মা কাঞ্চললতা রুইদাস দেখেন তক্তপোশ ও দেওয়ালের ফাঁকে আটকে রয়েছে ছোট্ট শিশুটি। তাকে উদ্ধার করে তমলুক হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা মৃত বলে ঘোষণা করেন। এরপরই কাঞ্চনলতাদেবীর বাবা খোকন রুইদাস জামাইয়ের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেন। তমলুক থানার পুলিশ ওই শিশুর মৃতদেহ ময়নাতদন্তের জন্য জেলা হাসপাতালে পাঠায়।
তাঁদের অভিযোগ, এর আগে বহুবার সুব্রত বেরা মেয়েকে মেরে ফেলার হুমকি দিয়েছে। এ দিনও তাঁরা দেখেন ঘরের জানলার পাশে বেড়ার অংশ খোলা। ফলে তাঁদের সন্দেহ দৃঢ় হয়, কেউ তক্তপোশের পাশের জানলা দিয়ে হাত বাড়িয়ে শ্রেয়সীকে টেনে নিয়ে শ্বাসরোধ করে খুন করেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, কাঞ্চনলতা রুইদাসের সঙ্গে বছর দু’য়েক আগে বিয়ে হয়েছিল বহিচবেড়িয়া গ্রামের সুব্রত বেরার। নিজের পছন্দে বিয়ে করায় শ্বশুরবাড়িতে অশান্তি ছিলই। তার উপর পণের দাবি তুলে শশুরবাড়ির লোকজন নির্যাতন চালাত বলে কাঞ্চনলতাদেবীর অভিযোগ। তিন মাসের অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় তিনি বাপের বাড়িতে চলে আসেন। সঙ্গে সুব্রতবাবু আসেন। কয়েকমাস পর সুব্রতবাবু নিজের বাড়ি ফিরে যান। এরপর সন্তান হলেও আর তিনি ফেরেননি বা স্ত্রীকে ফিরিয়ে নেননি। এমনকী সন্তানকে স্বীকারও করতেন বলে অভিযোগ।
মাস ছয়েক আগে স্বামী, শশুরবাড়ির বিরুদ্ধে তমলুক আদালতে বধূ নির্যাতনের মামলা করেন কাঞ্চনলতা। তাঁর অভিযোগ স্বামী মাঝেমাধ্যেই ফোন করে মেয়েকে মেরে ফেলার হুমকি দিতেন। কাঞ্চনলতাদেবী বলেন, ‘‘মামলা করার পর থেকেই আমার স্বামী ফোন করে মোটা টাকার বিনিময়ে আমাদের সম্পর্ক ছিন্ন করার জন্য বলত। না-হলে আমার মেয়েকে মেরে ফেলার হুমকি দিত। এ দিন রাতে ঘুমিয়ে থাকার সময় বাঁশের বেড়া ভেঙে ঢুকে জানালার ফাঁক দিয়ে মেয়ের পা ধরে টেনে তাঁর গলা টিপে খুন করেছে।’’ খোকনবাবুও বলেন, ‘‘শ্বশুরবাড়ির দাবিমত টাকা, গয়না দিতে না-পারায় মেয়ের উপর অত্যাচার করত। আমাদের অনুমান গতকাল রাতে আমাদের বাড়িতে এসে ওই শিশুকে জামাই খুন করেছে।’’ তাঁদের অভিযোগ এ দিন শিশুটির মৃত্যুর খবর পেয়েও সুব্রতবাবুর বাড়ির কেউ আসেনি।
এ দিকে সুব্রতবাবুর খোঁজে বহিচবেড়িয়া গ্রামে গিয়ে তাঁর খোঁজ পাওয়া যায়নি। পরিবারের কেউ বাড়িতে নেই। ফোনে যোগাযোগ করা হলে অপর প্রান্ত থেকে বলা হয়, ‘‘ওই শিশুর মৃত্যুর কথা আমাদের কেউ জানায়নি।’’
তমলুক থানার পুলিশ জানিয়েছে, ওই শিশুকে শ্বাসরোধ করে খুনের অভিযোগ করা হয়েছে তাঁর বাবার বিরুদ্ধে। মৃত্যুর কারণ জানতে তদন্ত শুরু করা হয়েছে।